সিনেমার মধ্যে সিনেমা
‘ছায়া ও ছবি’

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জীবনের মধ্যেই অন্য একটা জীবন উঁকি দিয়েছে। অর্থাৎ সিনেমার মধ্যে আবার সিনেমা। অন্যরকম গল্প। প্রেমের একঘে‌য়েমি গল্প ছেড়ে, এ যেন এক প্রেমেরই থ্রিলার। সম্পর্কের ‘ছায়া’ ও জীবনের ‘ছবি’ নিয়েই পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি ‘ছায়া ও ছবি’।

গল্পের মায়া ছবি বানাতে ব্যস্ত দার্জিলিঙে। সে লন্ডন থেকে তার বাবার সঙ্গে এসেছে। তাঁর ছবির নায়িকা রাই চ্যাটার্জি। আর তার বিপরীতে অভিনয় করছেন অরিন্দম। অরিন্দমের সঙ্গে রাই-এর বিয়ে ঠিকঠাক। তার আগেই শুটিং-এ এসে হানিমুনটা সেরে নিতে চান। প্রিয়াঙ্কা এখানে নতুন এক অভিনেত্রীর ভূমিকায়। আর জিতু শুটিং-এর লোকাল কো-অর্ডিনেটর এবং রাই-এর পার্সোনাল ড্রাইভার। গল্পটা যেন তৈরি হলো জিতুকে নিয়েই। সে আসলে রাই-এর ছোটবেলার বন্ধু। একসঙ্গে স্কুলে পড়েছে। কারণ রাই খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে ছিল। আর দার্জিলিঙে পড়াশুনা করে কলকাতায় চলে গিয়ে বিখ্যাত নায়িকা হয়ে যায়। দার্জিলিঙ আর লাটাগুড়ির দৃশ্যে মন ভরে গেছে। খুব ভালো ক্যামেরার কাজে ছবির গতিটা বদলে গেছে। গল্পটা যত এগিয়েছে ততই একটা অন্যরকম ছন্দ তৈরি হয়েছে। দর্শকদের বসে দেখতে বিরক্ত লাগবে না। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে মনে রাখার মতো গান বা গল্প নয়। তবে ভালো লাগবে ছবিটা বসে দেখতে। পরিচালক ‘বাস্তুশাপ’ ছবিতে অন্য ঢঙে প্রেমের গল্প সা‍‌জিয়েছিলেন। বসে দেখতে ভালো লাগলেও মনে রাখার মতো নয়।

অনেক ছবি বানিয়েছেন পরিচালক। এ বছরই ‘বিসর্জন’ সেরা বাংলা ছবি হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে ছবি দেখে দর্শকরা অন্যভাবেই মন ভরিয়েছেন। সেখানে ছিল অন্যরকম এক অনুভূতি।

‘ছায়া ও ছবি’ সিনেমাতে রাই খুব মুডি অভিনেত্রী। রাই-এর চরিত্রে কোয়েলকে দেখতে খুব ভালো লাগে। অরিন্দমের চরিত্রে আবীর চট্টোপাধ্যায় নিজ দক্ষতায় সাজিয়েছেন। মায়ার ভূমিকায় চূর্ণী গাঙ্গুলি। তার বাবার চরিত্রে বরুণ চন্দ। কিন্তু জিতুর চরিত্রের ছায়া সবাইকে ছাপিয়ে এগিয়ে গেছে। জিতুর ভূমিকায় ঋত্বিক চক্রবর্তী অসাধারণ। ফটোগ্রাফি, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও ফ্রেম সাজানোতে কৌশিক গাঙ্গুলি যথেষ্টই যত্নবান। এই ছবির গানগুলিতে গীটারকে ব্যবহার করেছেন বেশি। মন্দ লাগেনি শুনতে। তবে মনে মনে গানগুলিকে আওড়ানোর মতো নয়। গোপী ভগতের সিনেমাটোগ্রাফি মনে রাখার মতো। সুরিন্দর ফিল্মসের কোয়েলকে একটু অন্যভাবেই পাওয়া গেল। সিনেমার শুটিং-এর আড়ালেও অনেক কথা চাপা পড়ে থাকে। তাও যেন কিছুটা দেখিয়ে দিলেন পরিচালক ছবির মধ্যে দিয়ে। হয়তো অন্যান্য কমার্শিয়াল ছবির মতো এটা নয়, কোনও সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়িও নেই। তবে টাকার সমস্যায় যখন মানুষ জেরবার হয়েছিল, সেই সমস্যাটাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন পরিচালক। পুরানো টাকা যখন অচল, তখন নতুন টাকা পেতে মানুষের কতটা অসুবিধা হয়েছিল, বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছিলেন, সেটা দেখাতে ভোলেননি পরিচালক। এক সুন্দর সাজানো গল্প নিয়েই ‘ছায়া ও ছবি’। যেখানে গল্পের মধ্যেই আরেক গল্পকে খুঁজে পাওয়া গেল সুন্দরভাবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement