ত্বকের যত্ন নিন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কখনও ভয়ানক রোদ্দুর আর তীব্র গরম, কখনও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি আর গুমোট আবহাওয়া আর ক্ষণিকের শীতের শুকনো বাতাস — এই সবের হাত থেকে আমা‍‌দের শরীরকে রক্ষা করে ত্বক আর চুল। আর বিভিন্ন প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়‍‌তে লড়তে ত্বক অকালে বুড়িয়ে যায়। চুল ঝরে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ত্বক ও চুল সুন্দর রাখা যায় অনায়াসে। এবিষয়ে প্রশ্ন উত্তরে সামিল হলেন অধ্যাপক ডাঃ রথীন্দ্রনাথ দত্ত।

প্রশ্ন : রোদ্দুরে বেরোলেই ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে। গলায় ও ঘাড়ে কালো দাগ হয়ে আছে। পিগমেন্টেশনের জন্যে বিউটিশিয়ানের কাছে ট্রিটমেন্ট করেও বিশেষ লাভ হয়নি। এর কালো দাগ দূর করার উপায় কী?

উত্তর : প্রথমেই জানাই কোনও কসমেটিক্সের সাহায্যে এইসব সমস্যার পাকাপাকি সমাধান সম্ভব নয়। স্কিন স্পেশালিস্টের কাছে সঠিক চিকিৎসা করিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সানস্ক্রিন লাগিয়ে বাইরে বেরোলেও পিগমেন্টেশন হতে পারে। অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যের অভাবেও গলায় কালো দাগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে ওষুধের সাহায্য ওজন কমিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনা যায়।

এছাড়া এই দাগ হালকা করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে কেমিক্যাল পিলিং উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। যাগলেসারের সাহায্যেও রোদে পোড়া কালচে ছোপ ভ্যানিশ করে দেওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে ব্যাপারটা ম্যাজিক নয়। ধৈর্য ধরে বেশ কয়েকটা সিটিং নিতে হবে। রোদ্দুরে বেরোনোর আগে মুখে, গলায় ও হাতে সঠিক এস পি এফ যুক্ত সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। তাহলেই ত্বকে আবার হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে।

প্রশ্ন : গলায়, হাতে ও পিঠে শ্বেতী হয়েছে। ক্যালামাইন লাগিয়েও সারছে না। খুবই ছোট ও গোলাকৃতির এই শ্বেতী কি সারানো সম্ভব?

উত্তর : অত্যাধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে শ্বেতী নির্মূল করা যায়। তবে আপনার শরীরের সাদা দাগ আদৌ শ্বেতী কি না প্রথমে তা দেখে নিতে হবে। কিছু শ্বেতী আছে যেগুলি বহুদিন ধরে একইরকম থেকে যায়। এই ধরনের সমস্যা সহজেই সারিয়ে তোলা যায়।

মেথোক্সিলিন জাতীয় ওষুধ, ট্রপিক্যাল ক্রিম, নিয়মিত রোদ্দুর লাগানো বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনা যায়। প্রয়োজনে স্কিন গ্রাফটিং বা মেলানোসাইট ট্রান্সফার নামক দুটি পদ্ধতির সাহায্যে নেওয়া যেতে পারে। আর শ্বেতীর ব্যাপারে একটা কথা জেনে রাখা উচিত, এই সমস্যা মোটেও ছোঁয়াচে নয়। কুষ্ঠ’র সঙ্গে শ্বেতীর কোনও সম্পর্ক নেই। তাই শ্বেতী নিয়ে কোনও ভুল ধারণা পুষে রাখবেন না।

প্রশ্ন : অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যার জন্য কি মুখে হাতে পায়ে বেশি লোম গজায়? নিয়মিত ব্লিচ করে স্কিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মুখ ও হাতের লোম তোলার কোনও স্থায়ী পদ্ধতি আছে কি?

উত্তর : অনিয়মিত পিরিয়ডের অন্যতম কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ। নিয়মিত এক্সারসাইজ ও সঠিক ডায়েট করে ওজন কমালে সমস্যা কিছুটা কমবে। তবে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিতেই হবে। আর স্থায়ীভাবে অবাঞ্ছিত লোম নির্মূল করার জন্যে সব থেকে উপযোগী পদ্ধতি হলো ইলেক্টোলিসিস। দক্ষ ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে ইলেকট্রোলিসিস করিয়ে সহজেই উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ফিরে পেতে পারেন।

প্রশ্ন : মুখে ও পিঠে খুব ব্রণ হয়। সব থেকে সমস্যা ব্রণর দাগ নিয়ে। নানান ক্রিম ও লোশন মেখেও কোনও উপকার হয়নি। সুপরামর্শ চাই।

উত্তর : ব্রণর সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। স্কিন স্পেশালিস্টের পরামর্শ মতো মেডিকেটেড ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা উচিত। আজকের মডার্ন লেসার ট্রিটমেন্টের সাহায্যে ব্রণ’র সব ধরনের দাগই ভ্যানিশ করে দেওয়া সম্ভব।

পাঞ্চ গ্রাফ্ট, মাইক্রোডার্মা অ্যাব্রেশন, ডার্মারোলার, পাঞ্চ ফ্লোট সাবসিশন ইত্যাদি চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। আর আছে ফ্র্যাকশনাল কার্বন ডাই অক্সাইড লেসার ট্রিটমেন্ট। সব থেকে কার্যকর এই চিকিৎসা একটু ধৈর্য ধরে করালে ব্রণর বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই।

প্রশ্ন : প্রচুর চুল উঠে যাচ্ছে। মাথার সামনের দিক প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। বয়স মোটে ৩১। অনেকরকম তেল, শ্যাম্পু, লোশন, প্যাক লাগিয়ে এমনকি অনেক খরচ করে স্পা করিয়েও কোনও উপকার হচ্ছে না। এর সমাধান আছে কি?

উত্তর : নিশ্চয়ই আছে। চুল আসলে ত্বকেরই এক বর্ধিত অংশ। খুসকি থাকলে চুল ঝরে যাবার সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া বর্ষাকালে চুল ভালো করে পরিষ্কার না করলে চুলের গোড়ায় জীবাণুর সংক্রমণ হলেও চুল ঝরে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। একজন ত্বক বিশেষজ্ঞই চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন। যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে তাদেরও এই অসুবিধা দেখা দেয়।

রক্তাল্পতা থাকলেও চুল ঝরে যায়। অনেকে ডায়েটের নামে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন, সেক্ষেত্রেও চুল পড়ে যায়। ইদানীং ডার্মা রোলার এবং পি আর পি থেরাপি’র সাহায্যে সামনের দিকে ফাঁকা মাথা চুলে ভ‍‌রিয়ে দেওয়া সম্ভব। তবে একজন প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা করানো উচিত। জেনে রাখুন ত্বকই মনের আয়না। সুতরাং মন ভালো রাখুন।

Featured Posts

Advertisement