অ্যালার্জি থেকেও নাক দিয়ে
রক্তপাত হতে পারে

১১ মে, ২০১৭

ছোট‍ ‍‌শিশু কিংবা বয়স্ক ব্যক্তি — নাক থেকে রক্ত পড়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে যে কেউই। যদিও রক্ত দেখলে অনেকেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। নাক থেকে রক্ত পড়লে ভয় না পেয়ে ঠান্ডা মাথায় সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। কীভাবে করবেন? এবিষয়ে বিস্তারিত জানালেন কে পি সি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ই এন টি সার্জেন ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি।

কী কারণে নাক থেকে রক্ত পড়ে?

নাক থেকে নানা কারণেই রক্ত পড়‍‌তে পারে। যেমন,

শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের ভিতরের টিস্যুগুলো অনেকসময় শুকিয়ে যায়। এর ফলে নাকের মধ্যেই ওপরদিকে একটা স্তর মতো পড়ে। ফলে নাকের মধ্যে অস্বস্তি হয়, চুলকানো শুরু হয়। তখন আপনাআপনি বারবার নাকে হাত দেওয়ার এবং চুলকানোর প্রবণতা বাড়ে। ফলে নাক থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়।

সর্দি-কাশি, সাইনাস কিংবা অ্যালার্জির জন্য ডিকনজেসট্যান্ট বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার ফলেও নাকের ড্রাইনেস দেখা দিতে পারে। বারবার নাক ঝাড়লেও নাক থেকে রক্তপড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোনও ফরেন বডি বা কোনও রাসায়নিক নাকের মধ্যে গেলে এমন সমস্যা হতে পারে।

নাকের অ্যালার্জি অর্থাৎ অ্যালার্জি রাইনাইটিস থাকলে নাক থেকে রক্ত পড়তে পারে।

অহেতুক নাক খোঁটা।

ঠান্ডা হাওয়া।

আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন।

নাকের কোনও অপারেশন।

হাই ব্লাড প্রেসার

ক্যানসার

দুর্ঘটনা

কাদের সমস্যা বেশি হয়?

সাধারণত ৩-১০ বছরের মধ্যে বয়স এমন শিশুদের এই সমস্যা হয়। এছাড়া বয়স্কদেরও এটা খুব সাধারণ সমস্যা। আসলে আমাদের নাকের মধ্যে সামনের এবং পিছনের দিকে অসংখ্য ব্লাডভেসেল বা রক্তবাহী নালী থাকে, যেগুলো খুবই ভঙ্গুর। সামান্য খোঁটাখুঁটি করলেই এর থেকে রক্ত বেরতে পারে। নাকের অ্যান্টিরি‌য়র বা সামনের দিকের ব্লাডভেসেল ভে‍‌ঙে কিংবা পোস্টিরিয়র বা পিছনের দিকের রক্তবাহী নালী থেকেও রক্ত পড়তে পারে। পোস্টিরিয়র নোজব্লিড হলে কখনও কখনও নাক থেকে রক্ত গলায় চলে‍‌ যেতে পারে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

যদিও নাক থেকে রক্ত পড়ার জন্য বেশিরভাগ সময়েই তেমন কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে ২০ মিনিটের বেশি সময় যদি নাক থেকে রক্ত পড়ে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

নাক থেকে রক্তপড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা

নাক থেকে যে কারওরই রক্ত পড়ুক না কেন, তাকে শান্ত হয়ে সোজাভাবে বসাতে হবে।

মাথাটা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতে হবে। কখনওই পিছন দিকে ঝোঁকানো চলবে না।

বয়স্ক ব্যক্তি হলে নিজেই বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে নাক চেপে ধরুন ১০মিনিট।

আর ছোট হলে বাড়ির বড়দের কারও ওইভাবে শিশুর নাক চেপে ধরতে হবে। নাক চেপে রাখার সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে।

কাপড়ে করে বরফ নিয়ে নাকে সেঁক দেওয়া যেতে পারে রক্ত তাড়াতাড়ি বন্ধ করার জন্য।

যদি নাকের সঙ্গে সঙ্গে মুখেও রক্ত আসে তাহলে তা ফেলে দিতে হবে।

জোরে জোরে নাক ঝেড়ে রক্ত বের করা চলবে না।

এভাবে নাক থেকে রক্তপড়া বন্ধ হলেও সাবধানে থাকতে হবে, যা‍তে আবার হাঁচি, কাশি না হয়। নাকের স্যালাইন স্প্রে কিংবা মলম লাগানো যেতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। আর এসময় অ্যাসপিরিন খাওয়া একদম চলবে না। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

কী কী পরীক্ষা করে অসুখের কারণ নির্ণয় করা হয়?

সাধারণত ডাক্তারবাবু উপসর্গ শুনে এবং রোগীর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেই অনেক সময় রোগ নির্ণয় করেন। তবে নিশ্চিত হতে যেসব পরীক্ষা করা হয় সেগুলো হলো কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, নাকের এন্ডোস্কোপি, নাকের সিটি স্ক্যান, নাক ও মুখের এক্স-রে।

চিকিৎসা কী?

নাক থেকে রক্তপড়া বন্ধ করার জন্য বেশিরভাগ সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসাই যথেষ্ট। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি ২০ মিনিটের মধ্যে রক্তপড়া বন্ধ না হয় তাহলে নানান সমস্যা যেমন, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কনফিউশন ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এমন অসুবিধা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। এছাড়াও যদি বারবার এই সমস্যা ঘুরেফিরে আসে, নাকের পাশাপাশি শরীরে অন্য কোনও অংশ যেমন ইউরিন, স্টুল কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত পড়ে, যদি কেমোথেরাপি চলাকালীন এই সমস্যা দেখা দেয় তাহলেও সময় অপচয় করা উচিত নয়। কারণ সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা করা হয় কী কারণে সমস্যা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে। সাইনাস সংক্রমণের কারণে হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হতে পারে, প্রয়োজন হতে পারে নেসাল ড্রপেরও। তবে কোনও অবস্থাতেই নিজে থেকে বা বন্ধুবান্ধবের পরামর্শ অনুযায়ী কোনও ওষুধ খাওয়া বা লাগানো যাবে না।

যোগা‍‌‍‌যোগ : ৯৮৩০১৮৬৭১৭

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement