অতিবর্ষণের ধাক্কা সামলে
শারদোৎসব উতরে দিলেন
বাংলার ফুলচাষিরা

ভাস্করব্রত পতি

৩ অক্টোবর, ২০১৭

শারদোৎসব শেষ। ফুলচাষিদের অবশ্য লোকসানের পাঁকে পড়তে হয়নি। ভালোই দাম মিলেছে এবার। তবে তা আশানুরূপ না হলেও পুষিয়ে গেছে। পুজোর আগে জুলাইয়ের শেষের দিকে এই বঙ্গে ভারি বর্ষণের দরুণ ফুলচাষে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। ফুল উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছিলো অতি বর্ষা। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে বঙ্গের ফুলচাষিরা কিন্তু শারোদৎসবের বাজার ‘হিট’ করে দিয়েছেন।

উৎসবে ফুলের জোগানের বেশিরভাগই আসে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে। মূলত পাঁশকুড়া, ডেবরা, কোলাঘাট, দাসপুর, তমলুক, নন্দকুমার, খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে উৎপাদিত ফুল বাজারে আসে। বিশেষ করে মহৎপুর, সিদ্ধা, সাঁকটিকরি, নস্করদিঘি, কেশাপাট, ডাকপুর, শ্যামচক, মাদপুর, বালিচক থেকেই জোগান আসে ফুলের। অতি বর্ষণের ছ্যাঁকা কাটিয়ে চাষিরা কিন্তু জোগান দি‍‌য়েই গেছেন নানা ধরনের ফুলের।

কোলাঘাট স্টেশন ফুলবাজার কমিটির দিলীপ প্রামাণিক জানান, এবার বর্ষার ভ্রূকুটি সত্ত্বেও ফুলের জোগান ভালোই ছিল। অভাব হয়নি ফুলের। সব ধরনের ফুলই মিলেছে। দামও লাগামছাড়া হয়নি। ফুলচাষিরাও মোটামুটি দাম পেয়েছেন।

চলতি বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট চার হাজার হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফুলচাষ হয়েছে। সরকারি হিসেবে, এর ৩৩শতাংশ তথা ১৯০৬হেক্টর জমির ফুলচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফুলচাষিদের অভিমত, এই হিসাবে বিস্তর গরমিল রয়েছে। তাই যদি হবে তাহলে বাজারে ফুলের জোগান পরিমাণমতো রয়েছে কেন? ফুলের অভাব হয়নি মোটেও।

সিদ্ধার বৃন্দাবন মণ্ডল এবং ভোগপুরের বিবেকানন্দ গুছাইত বেচেন পদ্মফুল। তাঁরা জানান, পুজোর প্রাক্কালে যে ফুলের দাম ছিল ৭টাকা পিস, সেগুলোই পুজোর কটা দিনে ১৫-২০টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হয়েছে। আসলে শারদোৎসবের প্রতি মণ্ডপেই ১০৮টি করে পদ্ম প্রয়োজন। তাই সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু অন্যান্য ফুলের দাম অবশ্য অসম্ভব কিছু বাড়েনি। আবার চাষিদের লোকসানেও ফেলেনি।

এবছর শারদোৎসবে ঝুরো গাঁদার দাম ছিল ২০টাকা কেজি। তেমনি অপরাজিতা ৬০-৮০টাকা, দোপাটি ১০টাকা, রজনীগন্ধা ১৮০টাকা কেজি দরে বিকিয়েছে। একশটি গোলাপের দাম হয়েছে ১৩০-১৪০টাকা, এক হাজার পিস জবা ফুলের দাম মাত্র ৩০টাকা। যদিও তা দেওয়ালির সময় বাড়বে মনে করছেন দিলীপ প্রামাণিক। এক কুড়ি লাল গাঁদার মালার দাম ১০০টাকা এবং হলুদ গাঁদার মালার দাম ছিল ১৮০টাকা। গত বছরের তুলনায় অবশ্য কিছুটা বেশি এবারে।

আসলে পুজোর মুখেই ফুল ফুটতে শুরু করেছে এবারে। পুজো ১৫দিন আগে হয়েছে তাই এই অসুবিধা। ধীরে ধীরে আরো জোগান বাড়বে। সামনের উৎসবে অবশ্য এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হয়ে যাবে। সামনেই বিয়ের মরশুম। চলতি শারদোৎসবে ‘ডেকোরেটিং ফ্লাওয়ার অ্যান্ড লিভস’-এর দাম ছিল মোটামুটি। এগুলির চাহিদা বাড়বে পরবর্তী দিনে। এখন সাইকাসের একশটি পাতার দাম ৪০০ টাকা, ভিক্টোরিয়া ১৩০টাকা, সোল অব ইন্ডিয়া ৫০০টাকা, এরিকা পাম ১৭০টাকা, চায়না পাম ১৩০টাকা দরে বিকিয়েছে। এছাড়া বটল ব্রাস ৫০টাকা কেজি ও অ্যাসপারাগাস ৮০টাকা কেজি দরে বিকিয়েছে।

নেই হিমঘর। নেই সরকারি বাজার। নেই ন্যূনতম পরিষেবা। তবুও ফুলচাষিরা এবারের শারদোৎসব উতরে দিয়েছেন অঢেল ফুলের জোগান দিয়ে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement