লাভজনক পিয়ারলেসে স্বেচ্ছাবসরের
নামে কর্মী ছাঁটাই, লড়াই চলছে কর্মীদের

মনোজিৎ দাস

২৮ আগস্ট, ২০১৭

লাভজনক সংস্থা পিয়ারলেসে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশে লালঝান্ডাই। দি পিয়ারলেস ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বারের জন্য তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীমহলে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

২০১১ থেকে স্বল্প সঞ্চয়ের ব্যবসা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশে বন্ধ করেছে পিয়ারলেস কোম্পানি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট পরামর্শ দিয়েছিল নতুন ব্যবসা শুরু করতে বা কোম্পানির সাবসিডিয়ারি ব্যবসায় কর্মচারীদের নিয়োগ করতে। কিন্তু কোম্পানি সেইপথে না হেঁটে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরের নামে ছাঁটাই করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে সি আই টি ইউ অনুমোদিত ইউনিয়ন অল ইন্ডিয়া পিয়ারলেস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন।

আর বি আই-র নির্দেশে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প বন্ধ করায় কয়েক হাজার অফিস ও ফিল্ড কর্মীর কর্মজীবন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর বি আই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা বলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি আর বি আই। ফলে বাধ্য হয়ে সংগঠনের তরফে আর বি আই-র নির্দেশের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন কর্মীরা।

এই মামলায় অবস্থান বদল করে পিয়ারলেস কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল অনুমতি মিললে ফের ব্যবসা চালু করবে। তবে মামলা চলার বছর দুই বাদে তারা জানায় অনুমতি দিলেও তারা আর ওই ব্যবসা করবে না। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন কর্মীরা। কর্তৃপক্ষের এমন মনোভাবের বিরুদ্ধে বিচারক কোম্পানিকে পরামর্শ দিয়েছিলো যদি নতুন ব্যবসা না করে তাহলে প্রত্যেক কর্মীর বাকী কর্মজীবনের মেয়াদ পর্যন্ত হিসাব করে সেই অর্থ মিটিয়ে দিক। কোম্পানির এই মুহূর্তে ১৫০০কোটি টাকার আমানত দাবিহীন। তার সুদ থেকেই এই বেতন মেটানো সম্ভব। তবে সে পথে হাঁটছে না কর্তৃপক্ষ। কর্মচারীদের জীবিকার নিরাপত্তার কথা কোম্পানিকেই ভাবতে হবে বলে দাবি জানিয়ে আসছে সি আই টি ইউ অনুমোদিত পিয়ারলেসের কর্মী সংগঠন।

কর্মীরা স্পষ্ট জানাচ্ছে পিয়ারলেস লাভজনক সংস্থা। ৬বছর ব্যবসা না করেও কোম্পানি প্রতিবছর লাভ করেছে ও শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে উচ্চহারে। কোম্পানির হাতে ১৫০০কোটি টাকার দাবিহীন তহবিল। ১৭০০কোটি টাকার ফান্ড আছে। তার সুদ থেকেই সমস্ত খরচ বহন করছে ও লাভ করছে। আর বি আই ২৮৩কোটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলিতে নিয়োগের ছাড়পত্র দেয় শর্ত ছিল কর্মচারীদের সেখানে পুনর্নিয়োগ করা। তবে গোটাটাই আত্মসাৎ করতে চাইছে কী কোম্পানি? যে কর্মীদের ঘাম ঝরিয়ে এই বিপুল সম্পদ তৈরি হয়েছে তাঁদের স্বেচ্ছাবসরের নামে ছাঁটাই করার পরিকল্পনা কেন? কোম্পানির এই মনোভাবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাবে অল ইন্ডিয়া পিয়ারলেস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। দরকারে ফের আদালতের দ্বারস্থ হবেন কর্মীরা। সংগঠনের তরফে অন্যান্য সংগঠনগুলিকে একছাতার তলায় এনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে আরো জোরদার করার কাজ চলছে গভীরভাবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement