অখ্যাতর মৃত্যু

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়

২৬ নভেম্বর, ২০১৭

তার লাশটা পড়ে রয়েছে ঘরের ভিতর। পাড়াটা খুব শান্ত, কেউ কারোর সাথেপাঁচে থাকে না। তাই ছোট্ট ফ্ল্যাটটায় কী ঘটেছে কেউ জানে না। কিন্তু জানা গেল। যখন অপর্ণা নামের মেয়েটির গাড়ি ঢুকলো শান্ত পাড়াটিতে। তার সঙ্গে ঢুকল বেশ কয়েকজন সম্ভ্রান্ত মানুষ। তারা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে ছোট্ট তিনতলার ফ্ল্যাটটির ওপর তলায় উঠে গেল। পাড়ার কয়েকজন মানুষ ওদের লক্ষ্য করেছিল। অপর্ণা আর তার সঙ্গের লোকগুলোর দ্রুততা ও উদ্বগের কারণ তাদের চোখ এড়ালো না। পাড়ার লোকগুলো থমকে গেল, এবং দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লগলো নিচে। অপর্ণা দলবল নিয়ে উপরে উঠে গেল। তারপর জোরে ঠেলা মারতেই দরজা হাট হয়ে গেল।

এবার দেখা গেল একটা ছোট খাটে লম্বা হয়ে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। তার শুয়ে থাকার ভঙ্গিটা এমনই যে কেউ দেখলে ভাববে তিনি পরম আরামে ঘুমাচ্ছেন। অপর্ণা ঠিক থাকতে পারল না। দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল মানুষটার শরীরে। তারপরই তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়ল। লোকটা মারা গেছে।

সূর্যোদয় ব্যানার্জি, লোকটার নাম। কেউ খোঁজ রাখে না তার। এই পাড়ার কেউ চেনেও না। অপর্ণা অনেকক্ষণ ধরে সূর্যোদয়ের বুকের ওপর পড়ে রইল। এবার ওর সঙ্গের লোকগুলোর একজন এগিয়ে গিয়ে অপর্ণাকে টেনে তুললো। অপর্ণার চোখ ফুলে গেছে, মুখ একেবারে থমথমে। জড়ানো গলায় বলল, অদ্ভুত, কতবার বলেছি চলে এসো, একা থেক না। ভীষণ জেদি লোক ছিল। মানুষটা কোনওদিন কাউকে ধরা দিল না। আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল অপর্ণা। তারপর মৃদু স্বরে সঙ্গের লোকগুলোকে বলল, আজ আর আমি ওর কথা রাখত পারছি না, বলেই ফোন বার করে একের পর এক ডায়াল করে যেতে লগলো। লোকগুলো চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। অপর্ণা একটার পর একটা ফোন করে যেতেই লাগলো।

অনেকক্ষণ পরে থেমে লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা তিন-চারজনে বাজারে গিয়ে ফুলমালা থেকে যাবতীয় জিনিস কিনে আনো। গাড়ি ঠিক করো। এই নাও, টাকা নিয়ে যাও। এক বান্ডিল পাঁচশো টাকার নোট ওদের হাতে তুলো দিল অপর্ণা। তারপর অন্যদের দিকে চেয়ে বলল, আমি ছাড়ব না। সূর্যোদয় সারা জীবন আমায় থামিয়ে রেখেছে। লোকটা.....আবার কেঁদে ফেললো অপর্ণা।

অপর্ণার স্বামী দেবেন্দ্রও ছিল। সে অপর্ণার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, এখন যদি শুধু কাঁদতেই থাকো তাহলে সব সামলাবে কি করে? নিজেকে ঠিক কর। অপর্ণার মাথায় হাত দিল দেবেন্দ্র। অপর্ণা দেবেন্দ্রর বুকে মাথা রেখে বলল, তুমি বুঝতে পারছো, সূর্যোদয় কিভাবে নিজেকে....।

আমি তো সব জানি। কিন্তু এখন যদি তুমি আপসেট হয়ে পড়ো তাহলে এত সব সামলাবে কে বলো? তুমি ঠিক থাকো। যে কাজটা করতে চাইছো ভালো করে করো। আমি তোমার পাশে আছি। বলেই দেবেন্দ্র এগিয়ে গেল লোকগুলোর দিকে।

অপর্ণা আবার ফিরে এল সূর্যোদয়ের বডিটার কাছে। তার আগেই ডাক্তার এসেছিল তিনি ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন। হার্ট অ্যাটাক। ঘুমের মধ্যে।

অপর্ণা চুপচাপ বসে আছে সূর্যোদয়ের বিছানার পাশে। লোকগুলো এখনও জিনিসপত্র নিয়ে আসেনি। অপর্ণা ভাবছিল, ভাগ্যি গত রাতে কোনও একটা ভুল করে সূর্যোদয় ফোনটা করে বলেছিল, শরীরটা খারাপ লাগছে। অবশ্য তারপরেও রাত দশটা নাগাদ একবার কথা হয়েছিল। সূর্যোদয় বলেছিল, তেমন কিছু খায়নি, শুধু একটা মিষ্টি খেয়েছে। তারপর শুয়ে পড়ে।

প্রতিদিন খুব সকালে অপর্ণা গুড মনিং জানায় সূর্যোদয়কে। পরপর তিনবার জানানোর পরও কোনও উত্তর পায়নি সে। তাই মনটা চঞ্চল হয়ে ওঠে। দেবেন্দ্রকে বলতেই গাড়ি নিয়ে আরও কয়েকজন লোককে নিয়ে চলে আসে। তারপর তো এই ঘটনা।

এখন সূর্যোদয়ের বডির কাছে ও একা। বাকিরা বাইরে। সিগারেট ধরালো অপর্ণা। সেই উচ্চমাধ্যমিকের পর সিগারেট ধরেছিল ও। তারপর ক্রমশ বেড়েছে, ছাড়ার কথা তো দূর অস্ত। ওর মনে পড়ে গেল, একদিন গালে কষে একটা থাপ্পর মেরেছিল সূর্যোদয়। বলেছিল, সিগরেটে মুখ নয়। মাথা গরম হয়ে উঠেছিল অপর্ণার। কিন্তু কিস্যু বলতে পারেনি সূর্যোদয়কে। ওকে কিছু বলা যেত না। পৃথিবীতে যত রকমের পাগল হয় তাদের ঊর্ধ্বে ও। মারার পরই সবার সামনে আদর করে বলেছিল, তোমার ভালোর জন্য বলছি। বলেই মুখে মুখে বানিয়ে ফেলেছিল চমৎকার একটা কবিতা। যদিও ও কবিতা পছন্দ করত না। দারুণ গল্প লিখত। ওই বয়সেই বড় বড় ম্যাগাজিনে ছাপা হতে শুরু করেছিল। সূর্যোদয় আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলেছিল, সিগারেট খাস না। বাচ্চা হবার সময় অসুবিধা হবে।

ডিসগাস্টিং। আমি বাচ্চা নেব না। কে মানুষ করবে, হাজারও ঝামেলা। সূর্যোদয় হেসে বলেছিল, সব মেয়ে আর ছেলেরাই প্রথমে বলে বিয়ে করব না। তারপর করে। মেয়েরা বলে বাচ্চা নেব না। তারপর মা হলে তাকে চেনাই যায় না। বাজে না বকে চল, কিছু খাই। তুই খাওয়া।

সূর্যোদয়ের দিকে তাকালো অপর্ণা। সাদা কাপড়ে ঢাকা শরীরটা পড়ে আছে। নিঃসাড়ে। লোকটা শিশুর মতন সরল ছিল। গভীর গভীর কথা লিখত, বলত। তারপরই একেবারে শিশু। কলেজ লাইফ। সাংঘাতিক কেটে গেল। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রমে কেমন গম্ভীর গম্ভীর হয়ে পড়তে লাগল সূর্যোদয়। তখন ওর লেখালেখি অনেক বেড়েছে। নামও করে গেছে। দুএকটা বড় কাগজ থেকে চাকরির অফার এসে গেছে। কিন্তু ও চুপ। একদিন অপর্ণা বলল, কী ব্যাপার, চাকরিগুলো ছেড়ে দিচ্ছ কেন? দুদিন পরে তো আমরা সংসার করব নাকি?

হা হা করে হেসে সূর্যোদয় বলেছিল, আমাকে বিয়ে করে তুমি মরবে নাকি?

মানে! আকাশ থেকে পড়েছিল অপর্ণা।

মানেটা সোজা, আমি করোর দাসত্ব করতে পারব না। তাই চাকরি করব ন। আর না করলে তোমায় নিরাপত্তা দিতে পারব ন। তুমি এত বোকা। ওদের কথা হচ্ছিল অপর্ণাদের বাড়িতে বসে। দোতলার ঘর। কেউ কোথায় নেই, অপর্ণার মা-বাবা নিচে। অপর্ণার মাথায় আগুন জ্বলে গেল, সপাটে একটা চড় সূর্যোদয়ের গালে। তরপরই কান্নায় ভেঙে পড়ল। জড়িয়ে ধরল সূর্যোদয়কে। সূর্যোদয় অস্বাভাবিক ঠান্ডা। কোনও কথা বলছে না।

অপর্ণা বলল, তুমি এ রকম আমার সঙ্গে করতে পারো না, কাপুরুষ কোথাকার। আবার হা হা করে হাসল সূর্যোদয়। বুঝতে পারছো না। আমি তোমায় কিন্তু ভালোবাসি।

ভালোবাসা! জোরে হাসল অপর্ণা। গেট আউট, এক্ষুনি বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে, আর কোনওদিন তোমার মুখ দেখতে চাই না। আমার হৃদয়টা ছারখার করে দিতে তোমার বাঁধল না একটুও! গেট আউট।

বেরিয়ে যাবার সময় সূর্যোদয় বলেছিল, ভুল করো না। যা কিছু করছি তোমার ভালোর জন্য। আমি চাই তুমি সুখী হও। আমার দরজা খোলা রইল, যখন মন চাইবে সেই দরজা দিয়ে তুমি অন্দরে প্রবেশ করতে পারো। ও কে, বাই।

বাইরে বেরিয়ে এসে অন্ধকার রাস্তায় দাঁড়ালো সূর্যোদয়। যে দিকে তাকাতে চাইছে অন্ধকার। বুক ভেঙে যাচ্ছে তার। হঠাৎ হাউহাউ করে কেঁদে ফেলল সে। অনেকক্ষণ। তারপর নিজেকে বেশ হালকা মনে হলো। জোরে নিশ্বাস ফেলল। জীবনে আর কোনওদিন ভালো কাজ করতে পারবে কিনা জানে না। কিন্তু আজ একটা করা গেল। মেয়েটাকে নিজের খপ্পর থেকে বাঁচানো গেল। জানি ও আমায় ভালোবাসে, আমিও। কিন্তু জীবন বাঁধতে গেলে যে দায়িত্ব থাকা দরকার, আমার সেটা নেই। সূর্যোদয় নিজেকে নিজে বলল। তারপরই দ্রুত হাঁটা লাগালো। এই ত্রিসীমানায় আর থাকবে না সে। তবে কলকাতা ছাড়া যাবে না। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সে পরদিনই চলে এসেছিল এই মফস্বলে। হঠাৎ ভাবনার বাইরে বেরিয়ে এল অপর্ণা। কাঁদতে লাগলো।

তারপর বহু খুঁজেছে সে সূর্যোদয়কে, পায়নি। খুঁজতে খুঁজতে পাগল হয়েছে, তবুও নয়। শেষ পর্যন্ত দেবেন্দ্রর সঙ্গে পরিচয়। বিয়েও হয়ে গেল। বিয়ের প্রথম রাতে নানা সংশয় নিয়েও সব বলেছিল অপর্ণা। দেবেন্দ্র একটুও রাগ করেনি। বরং সূর্যোদয়কে খুঁজতে সহায্য করেছিল। একদিন সূর্যোদয়কে দেবেন্দ্রই খুঁজে বার করে ফেলল। সে এক ঘটনা বটে।

তারপর মফস্বলের এই ফ্ল্যাটে হাজির হয় সে আর দেবেন্দ্র। ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছিল ওদের দেখে সূর্যোদয়। কী করবে ভেবে পারছিল না। শেষে অপর্ণাই বলেছিল, ভয় নেই, কোনও অধিকার চাপাতে আসিনি বা কৈফিয়ত চাইতেও আসিনি। তারপরই দেবেন্দ্রকে দেখিয়ে বলেছিল, আমার স্বামী দেবেন্দ্র।

দেবেন্দ্র নমস্কার জানিয়ে বলেছিল, আপনার মতন মানুষের সংস্পর্শে আসাই তো ভাগ্য। কিন্তু এই আত্মগোপন কেন?

কোনও উত্তর দেয়নি সূর্যোদয়। অপর্ণা বলেছিল, কী করে বুঝবে ওকে, আমিও তো সারা জীবনে বুঝতে পারিনি। ও কথায় না যাওয়াই ভালো। অন্য কথায় চলো।

দেবেন্দ্র বলেছিল, এভাবে নিজেকে কেন, কিসের জন্য লুকিয়ে রাখছেন?

হা হা করে হেসে সূর্যোদয় বলেছিল, কোনও ব্যাপার কারণ ছাড়াই ঘটে। এটা সে রকমই ভেবে নাও। আর কেউ কথা বাড়ায়নি।

কারা যেন কথা বলছে জোরে জোরে, সেই আওয়াজে অপর্ণার সংবিৎ ভাঙলো। দেখল, দরজার সামনে ছেলেরা দাঁড়িয়ে। অপর্ণা বলল, সব কাজ গোছানো হয়েছে? গাড়ি এসে গেছে? ছেলেরা হ্যাঁ বলেই বলল, নিচে পুলিশে ভরতি। পাড়াজোড়া প্রচুর লোকজন। আর তখনই ঘরে উঁকি দিল একদল মানুষ। তাদের কারো হাতে ক্যামেরা, কারো হাতে মাইক্রোফোন, কারোর কাছে টেপরেকর্ডার, কারো হাতে শুধুই প্যাড আর কলম। অপর্ণার বুঝতে অসুবিধা হলো না, এরা সকলেই সাংবাদিক। চ্যানেলের সাংবাদিকরা ক্যামেরা রেডি করে এগিয়ে এল। দেবেন্দ্র অপর্ণার কাছে এসে বলল, আর দেরি করা ঠিক হবে না। যা বলার এঁদের বলে দাও। সেই সময় এক পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে বললেন, ম্যাডাম, গলিটা কনজাসটেড। মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি পারেন ব্যবস্থা করুন। অপর্ণা ঘরের বারান্দায় গিয়ে বাইরের দিকে উঁকি মারলো। নিচে মানুষ থই থই করছে। এতদিনে সূর্যোদয়ের যোগ্য সম্মান সে দিতে পেরেছে। আর এটা করে সে তৃপ্ত। অপর্ণা ব্যস্ত হয়ে পড়ল সাংবাদিকদের নিয়ে।

নানা প্রশ্নের উত্তরে বলল, হ্যাঁ, সূর্যোদয়েরই নাম সতীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। হ্যাঁ, উনিই এ সব বইয়ের লেখক। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন, এত বড় একজন লেখক আত্মগোপন করেছিলেন কেন? অপর্ণা সময় নিয়ে বলল, কারণটা বিস্তর, তবে মূল কারণ উনি নিজেকে জাহির করতে চাননি। আপনারা জানেন কতবার নামী-দামি পুরস্কার উনি নেননি। একটাই কারণ, লোকসমাজে নিজেকে চেনাবেন না বলে। অদ্ভুত এক মানুষ ছিলেন।

এক সাংবাদিক মোক্ষম প্রশ্নটা করলেন, আপনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী? উনি তো ব্যাচেলর ছিলেন?

অপর্ণা ইতস্তত করছিল। দেবেন্দ্র এগিয়ে এসে বলল, বান্ধবী, একেবারে ছোটবেলার। এমন সময় হুটারের তীব্র আওয়াজে পাড়া কেঁপে উঠল। অপর্ণাও চমকে উঠে বারান্দায় গিয়ে উঁকি মারলো। পুলিশের মধ্যে চরম ব্যস্ততা পড়ে গেল। একটু পরেই উপরে উঠে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। অপর্ণার সঙ্গে পরিচয় হবার পর বললেন, মানুষটা সারা জীবন নিজেকে গোপন রেখেছেন। সরকার সব ব্যবস্থা হাতে নেবে। তাঁকে পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হবে। আমরা তাঁকে মরণোত্তর পুরস্কার দেব। জীবিত অবস্থায় তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। অপর্ণার বুক গর্বে ফুলে উঠলো। সে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সায় দিল। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে গেলেন। এখন সবাই জেনে গেছেন সতীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। মিডিয়ার দৌলতে প্রচারিত খবর প্রতি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের ব্যারিকেড আর হুটারের আওয়াজে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে সূর্যোদয়ের বডি। অপর্ণা নির্বিকার দাঁড়িয়ে বারান্দায়। দেবেন্দ্র বলল, যাবে না? চলো। অপর্ণা চোখের জল মুছে বলল, না, তুমি যাও, আমি যাব না।

সে কি, কেন? অপর্ণা ক্ষণিক সময় নিয়ে বলল, যেতে পারব না দেব, কারণ আমি আমার ভালোবাসা পুড়ে যাওয়া দেখতে পারব না। তারপরই কান্নায় ভেঙে পড়ল অপর্ণা। দেবেন্দ্র ধীরে নিচে নেমে গেল। একটা গাড়িতে উঠে বসল। জনতা এগিয়ে যাচ্ছে.....

Featured Posts

Advertisement