মুক্ত মনের খোঁজে‍‌ বারান্দা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

আমাদের সবার জীবনেই প্রয়োজন একটা বারান্দার। যেখানে মুক্ত আলো আর হাওয়ার সংস্পর্শে একটু স্বস্তি আর নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করে জীবনের কাছে ফিরে যেতে। কখনও এই বারান্দাই নিঃসঙ্গতা কাটায় কারোর কারোর জীবনে। এমনই একটি গল্প নিয়ে মতি নন্দীর উপন্যাস অবলম্বনে ‘বারান্দা’। ছবির পরিচালক রেশমী মিত্র এই ছবিতে সাদা-কালো-ধূসর মনটাকে ধরার চেষ্টা করেছেন।

কলকাতার এক গলিতে লোহার জাফরি কাটা, কাঠের রেলিং দেওয়া বারান্দায় সারাদিন বসে থাকে গিরিজাপতি বিশ্বাস অর্থাৎ গিরি। একটি কারখানায় কাজ করতো সে। হঠাৎই একটি দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যান তিনি। তারপর থেকে বারান্দায় বসেই তার দিন কাটে। বিয়ে না হলেও রুনু আর গিরি ১৫ বছর একসঙ্গে থাকছে। রুনু একটি চাকরি করে। বাঁচার তাগিদেই নিতান্ত প্রয়োজনে দুটি মানুষ কাছাকাছি এসেছিল। কিন্তু পঙ্গু হওয়ার পর গিরি যেন একটু বদলে যায়। রুনুকে সন্দেহের চোখে দেখে আবার কখনো পেয়িং গেস্ট অম্বরকে নিয়ে নানান কিছু ভাবে। দিনভর গিরির চিন্তাস্রোত বয়ে চলে বারান্দায়। এদিকে রুনু তার বারান্দা হিসাবে খোঁজ পায় অম্বরের। গিরি আর রুনু দুজন দুজনকে ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু গিরির একাকি মন গড়ে তোলে একের পর এক দুঃস্বপ্ন। মূল গল্পের পথ ধরেই এগিয়েছে ছবি। কিন্তু কখনও কখনও একঘেয়েমিও লেগেছে। নচিকেতার গান জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

গিরির বন্ধু মোহনের গোপন সঙ্গিনী এক চোখ অন্ধবুলির সঙ্গে গিরি নিজেকে জোড়া লাগাতে চেয়েছিল। দুটো ভাষা মানুষ আস্ত হতে চেয়েছিল। গল্পে অদ্ভুত এক সমীকরণ। ছবিতে ফ্ল্যাশব্যাক এত বেশি যে, ছবির চলনে ধাক্কা খেয়েছে বারবার। গিরির চরিত্রে ব্রাত্য বসুর অভিনয় মনে রাখার মতো। রুনুর চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজেকে মেলে ধরেছেন সম্পূর্ণভাবে। অম্বরের ভূমিকায় সাহেব ভট্টাচার্য যথাযথ। এছাড়াও অভিনয়ে রয়েছেন শ্রীলা মজুমদার, সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মানালিসহ অনেকে। ছবিটি ইতিমধ্যেই প্রদর্শিত হয়েছে ডালাসও লন্ডন ফিল্ম ফ্যোস্টিভ্যালে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি দেখানো হয়েছে।

Featured Posts

Advertisement