আবার সমস্যা ম্যাগিতে!

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

সীসার পরে এবার ছাই! কিছুতেই বিতর্কের বাইরে থাকতে পারছে না ম্যাগি। সম্প্রতি আবারও খাদ্য পরীক্ষায় ঢাহা ফেল করলো ‘দুই মিনিটের ম্যাগি’। আগে ম্যাগি নুডলসে সীসা উপাদান পাওয়ার জেরে ছয় মাস দেশ জুড়েই বন্ধ ছিল ম্যাগি বিক্রি। এবারে নুডলসে ‘অ্যাশ কনটেন্ট’ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল। ম্যাগির নমুনা পরীক্ষা করে ওই খনিজ পদার্থ বেশি মাত্রায় মিলেছে বলে প্রস্তুতকারক নেসলেকে ৪৫লাখ টাকা জরিমানা করল উত্তর প্রদেশ।

শুধু তাই নয়, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ম্যাগির দেদার স্টক। ম্যাগি পরীক্ষায় ফেল করল উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে। সেখানকার জেলাশাসক জানিয়েছেন, ২০১৬সালের নভেম্বর মাসে ম্যাগি নুডলসের কিছু নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই নমুনা নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে অধিকাংশ নমুনাতে অতিরিক্ত মাত্রার ‘অ্যাশ কনটেন্ট’ রয়েছে। গবেষকদের মতে — এই ছাই বা ‘অ্যাশ’ উপাদান খাবারে অতিরিক্ত মাত্রায় থাকলে তা মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

সব প্যাকেট খাবারে খুব কম পরিমাণে ছাইয়ের উপাদান থাকে। মেশিনে তৈরির সময়ই তা এসে যায়। খোলা বাজারে বিক্রি সব খাবারেও এই ছাই উপাদান থেকে যায়। এমনকি বাজারে বিক্রি তাজা ফলে থাকে ওই ছাই। তার সর্বাধিক মাত্রা ওজনের ৫শতাংশ বা তার আরও কম। অন্যদিকে তেল ও ফ্যাটজাতীয় খাদ্যে ‘অ্যাশ’ উপাদান প্রায় থাকেই না। সাহারানপুরে এই পরীক্ষার কথা প্রকাশ পেতেই আবারও নেসলে ওই পরীক্ষা রিপোর্ট সঠিক নয় বলে দাবি করতে শুরু করেছে। এমনকি কোম্পানি জানাচ্ছে — ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে তারা আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নেসলে ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্রের দাবি — ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট হাতে না আসায় এখন তা নিয়ে আদালতে যাওয়া যাচ্ছে না। নেসলে জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের তরফে লিখিত কিছু জানানো হয়নি। শুধু তাদের জানানো হয়েছে ২০১৫সালের নুডলসে ‘অ্যাশ কনটেন্ট’ রয়েছে। পরীক্ষার মানদণ্ডের গলদ রয়েছে বলে বড় গলায় প্রচার শুরু করেছে নেসলে। সাহারানপুর জেলাশাসক নেসলকে ৪৫লাখের জরিমানা করার পাশাপাশি ওই জেলায় ম্যাগি সরবরাহকারী তিন ব্যক্তিকে ১৫লক্ষ করে এবং ২জন বিক্রেতাকে ১১লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছে।

জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, ২০১৫সালে এই সাহারানপুর থেকে পাঠানো ম্যাগির নমুনায় অতিরিক্ত সীসা এবং প্রচুর প্রিজারভেটিভ (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। তার জেরে দেশজুড়ে ম্যাগির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি পর্যন্ত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। নেসলেকে ভারতের বাজার থেকে ম্যাগির ৯টি পণ্যই তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ামক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’। দেশজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ম্যাগির উৎপাদন। পরে আদালতে দীর্ঘ লড়াই এবং নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ম্যাগির উৎপাদন আর বিক্রি করতে ফের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ওই সময়ই বিভিন্ন ধরনের নুডলসের জন্য একটি দেশীয় গুণগত মানদণ্ড ঠিক করে নেসলেসহ অন্যান্য সংস্থারা। খাদ্য নিয়ামক সংস্থার দেওয়া নিয়ম মেনেই তৈরি হয় ওই নির্দেশিকা। সেখানেই প্যাকেট খাদ্যের সব মান ঠিক করা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাইয়ের ন্যুনতম পরিমাণও।

Featured Posts

Advertisement