সফল হলো না অভিযান

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭

শংকরের দ্বিতীয় অভিযান নিয়ে উন্মাদনা বেশ কয়েক মাস ধরে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিল। বড়দিনের আগে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমাজন অভিযান’ ছবি দেখতে তাই দর্শকদের ভিড়। অভিযাত্রী শংকর, অ্যানা ফ্লোরিয়ান নামক এক নৃতত্ত্ববিদ-এর আহ্বানে সুদূর আমাজনে পাড়ি দেয় অ্যানা ও তাঁর বাবা মার্কোর সঙ্গী হয়ে। উদ্দেশ্য, মার্কোর অসম্পূর্ণ অভিযান শেষ করে আমাজনের গহীনে ‘এল ডোরাডো’ বা ‘সিটি অব গোল্ড’-কে খুঁজে বের করা।

শংকরের প্রথম অভিযান ‘চাঁদের পাহাড়’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ভিত্তিক। তাই ছবি তৈরির ভালো-মন্দ‍‌ বিচার বাদ দিলেও গল্পের বুনোটটা ঔপন্যাসিকের তৈরি করে দেওয়া ছিল। বাঙালি যুবক অভিযাত্রী শংকরের দ্বিতীয় অভিযানের গল্প লিখেছেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। কোনও সন্দেহ নেই, এই ছবির গল্প লিখতে গিয়ে তিনি ব্রাজিল ও তার খুঁটিনা‍‌টি বিভিন্ন বিষয়, যেমন স্থানীয় পানীয়, আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য, ভৌগোলিক অবস্থান, উপজাতি সম্প্রদায় সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু এত তথ্যের ভি‍‌ড়ে, আর কমলেশ্বরের ক্রমাগত ভাষ্যপাঠের ঠেলায় সব কেমন গুলিয়ে গেল, তথ্যচিত্র বলে অনেকাংশে ভ্রম হতেও পারে। কিন্তু ছবিতে এরপরও একটা মারাত্মক ঘটনা অপেক্ষা করেছিল, তা বোঝা গেল প্রথমবার যখন শংকর একটি জাগুয়ারকে হত্যা করেন। ছবির নায়ক শংকরের কিছু বিশেষ ক্ষমতা থাকবেই তা মেনে নিলেও যে জাগুয়ার পর পর দুটো মানুষকে কয়েক মিনিটের মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে, সেই জাগুয়ার শংকরের ক্ষেত্রে এতটা দয়াশীল হয়ে নিজের মৃত্যু শংকরের হাতে অতি প্রাকৃতিক উপায়ে ‍‌কিভাবে নিশ্চিত করল তা স‍‌ত্যিই চিন্তার বিষয়। পরের খটকা লাগল মার্কোর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে শংকরের হাতে একটি আস্ত অ্যানাকোন্ডা হত্যার দৃশ্যে। দর্শকরা সবাই জা‍‌নে, ওটি গ্রাফিক্সের নকল অ্যানাকোন্ডা। কিন্তু তাই বলে অতবড়, ভয়ংকর প্রাণীটিকে দক্ষ জিমনাস্টিক খেলোয়াড়ের মতো গাছের সাথে বেঁধে অবলীলায় হত্যা দেখে মনে হল শংকর প্রায়শই এরকম অ্যানাকোন্ডা হত্যা করতে অভ্যস্ত। মার্কোকে অর্ধেক গিলে ফেলে রেখে অ্যানাকোন্ডাটি কিভাবে চলে গেল সেটাও রহস্য। একটা গোটা অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত জামাকাপড় না নিয়ে গিয়েও কিভাবে দৃশ্যান্তরে পোশাক পরিবর্তন করলেন অভিযাত্রীরা। তার সদুত্তর পাওয়া গেল না। শংকর ‍হিসাবে দেবকে মন্দ লাগেনি। এছাড়াও অ্যানার চরিত্রে শ্বেতলানা গুলাকোভা ও মার্কোর চরিত্রে ডেভিড জেমস যথাযথ।

এর ভুল-ভ্রান্তি সত্ত্বেও বাঙলা সিনেমাকে বিদেশের ঝাঁ চকচকে লো‍‌কেশনের বাইরে নিয়ে গিয়ে আমাজনের গভীর অরণ্যে নিয়ে যাওয়ার যে সাহস কমলেশ্বর দেখিয়েছেন, তা এককথায় কুর্নিশের অধিকারী। সৌমিক হালদারের ক্যামেরা দর্শকদের যে রহস্য তুলে ধরেছে তা দর্শকদের এক নতুন জগতে নিয়ে যায়। আর তাঁকে যোগ্য সঙ্গত ক‍‌রেছে দেবজ্যোতি মিশ্রের যথাযোগ্য আবহ। গ্রাফিক্সের মান খুব একটা উন্নত না হওয়ায় মাঝে মাঝে কার্টুন দেখছি বলে ভ্রম হতে পারে।‍‌ তবে ভুল-ত্রুটি সব সরিয়ে রেখে শুধুমাত্র দুচোখ ভরে আমাজনের সৌন্দর্য্য ও রহস্য উপভোগ করার জন্য এ ছবি দেখা যেতেই পারে।

*পল্লবী রায়*

Featured Posts

Advertisement