রোদ্দুর উঠলে করুন মর্নিংওয়াক

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় শীতকালের ভোরের রাস্তা‌য় শুধু ঠান্ডাই নয়, শহরাঞ্চলে বাতাসেও দূষণের মাত্রা বেশি থাকে। তাই শীতকালে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি রোগীদের ভালো থাকতে অনেক টিপসের সঙ্গে একটু বেলায় রোদ্দুর উঠলে মর্নিংওয়াকের পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডাঃ অরূপ হালদার।

প্রশ্ন : আমরা জানি ধূমপান সিওপিডি-র একটি বড় কারণ কিন্তু নন স্মোকারদের সিওপিডি কেন হয়?

উত্তর : স্মোকিং সত্যিই সিওপিডি-র অন্যতম প্রধান কারণ। কিন্তু স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপান, গাড়ির ধোঁয়া, পরিবেশ দূষণ এবং বায়োমাস ফুয়েল অর্থাৎ কাঠ, কয়‌লা, পেট্রোলের মতো জ্বালানি এই রোগের একটি বড় কারণ। দূষিত বাতাসে কার্বন মনোঅক্সাইড বা সালফার ডাই অক্সাইড-এর মতো বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বাড়লে বা বাতাসে ধূলিকণা ও কার্বন কণার পরিমাণ বেশি থাকলে মানুষ সিওপিডি-তে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রসঙ্গত, ১০ মাইক্রন বা তার থেকে বেশি ছোট ধূলিকণা বা অন্য কোনও বস্তু অনেক সময় বাতাস থেকে শ্বাসের সঙ্গে শ্বাসনালী দিয়ে সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে যায় বলে ভবিষ্যতে সিওপিডি হবার সম্ভাবনা থাকে। বায়ো ফুয়ে‌ল অর্থাৎ উনুন বা গাড়ির ধোঁয়া থেকে সাধারণ এই দূষিত কণাগুলি বাতাসে মিশে যায়।

প্রশ্ন : কিন্তু আজকাল শহরাঞ্চলে এবং অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলের উনুনে রান্না তো প্রায় হয়ই না?

উত্তর : হ্যাঁ, সেটা ঠিকই কিন্তু আজ থেকে কয়েক দশক আগেও ক‌য়লা ও কাঠই ছিল আমাদের রান্নাঘরের প্রধান জ্বালানি। আর সেই ফেলে আসা সময়ের মাশুল দিচ্ছেন আজকের সত্তর থেকে নব্বই বছর বয়সী আমাদের মা ঠাকুরমারা, যাদের অনেকেই আজ সিওপিডিতে আক্রান্ত।

প্রশ্ন : সিওপিডি-র কি কোনও গড় বয়স আছে?

উত্তর : সাধারণত চল্লিশের উপরের বয়সেই সিওপিডি হয়, তবে জিনগত কারণে কয়েকটি বিরল ক্ষেত্রে আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন নামের একটি এনজাইম কম থাকলে কুড়ি থেকে চল্লিশের মধ্যেও সিওপিডি হতে পারে।

প্রশ্ন : আই এল ডি বা ‘ইন্টেস্টিসিয়াল লাং ডিজিজ’-এর সঙ্গে সিওপিডি-র কি কোন সম্পর্ক আছে?

উত্তর : একেবারেই নয়। যদি‍‌ও দুটিই স্মোকিং-এর কারণে হতে পারে কিন্তু দুটি একেবারেই বিপরীত প্রকৃতির। আই এল ডি বা বর্তমানে ডি পি এল ডি অর্থাৎ ডিফিউসড প্যারেনকাইমা লাং ডিজিজের ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্রমশ শুকিয়ে ছোট হয়ে যায় ফলে রোগীর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে শ্বাস নিতে পারে না। অন্যদিকে সিওপিডিতে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের অ্যালিওভিলাইগুলিতে বাধার কারণে রোগী শ্বাস নিতে পারে না। ফলে রোগী হাঁপায় ও বড় করে শ্বাস নিতে চেষ্টা করে বলে ক্রমশ ফুসফুস বড় হয়ে যায়। তাই সিওপিডি থেকে আইএলডি হতে পারে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই রোগীর মধ্যে দুটি অসুখের প্রবণতা দেখা যায়।

প্রশ্ন : শ্বাসকষ্ট ছাড়া সিওপিডি-র অন্য উপসর্গগুলি কি? কখন আপনারা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন?

উত্তর : এই অসুখে খুব কাশি হয়, বুকে কফ জমে সেই থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শ্বাসকষ্ট ক্রমশই বাড়ে। এছাড়া রোগী বারংবার বুকের সংক্রমণে (Recurring Chest Infection) ভোগেন। নিঃশ্বাসের কষ্ট বাড়লে, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যখনই দেখবেন রোগী হাঁ করে বড় করে শ্বাস নিচ্ছে, রোগীর বুক ওঠানামা করছে বা রোগী ঝিমিয়ে পড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বা হাসপাতালে ভর্তি করতে দেরি করবেন না।

প্রশ্ন : এই চেস্ট ইনফেকশনে কি নিউমোনিয়া বা জ্বর হতে পারে?

উত্তর : হ্যাঁ, সিওপিডি রোগীর বারে বারে জ্বর বা নিউমোনিয়া হওয়াটা খুব সাধারণ ঘটনা। সেই জন্য আমরা রোগীকে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন ও প্রতিবছর ইনফ্লু‌য়ে‌ঞ্জা ভ্যাকসিন নিতে বলি। রোগীর বয়স পঁয়ষট্টির উপরে হলে নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন পর পর দুবছর নিতে হয়। আর বয়স কম হলে এর সঙ্গে পাঁচ বছর পরে একটি বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন : এই শীতে আপনি ভালো থাকতে এই অসুখে অসুস্থদের কী পরামর্শ দেবেন?

উত্তর : সো‌য়েটার জাতীয় জামাকাপড় পরার সঙ্গে সঙ্গে সকালে, সন্ধ্যায় বা রাতে বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাথা, কান পারলে নাক ‍‌ও মুখও ঢেকে বেরোবেন। ভোরের ও সন্ধ্যার বাতাসে দূষণ বেশি থাকে। তাই এঁদের একটু বেলায় রোদ্দুর উঠলে মর্নিংওয়াক করাই ভালো। ঠান্ডা খাবার খাবেন না। পর্যাপ্ত জল পান করবেন। ডায়েটে অবশ্য যেন থাকে অন্তত একটি মরশুমি সবজি ও ফল।

যোগাযোগ : (033) 3989 8969



Featured Posts

Advertisement