৪০-৫০শতাংশ পাট অবিক্রি
মুর্শিদাবাদে ঘোর বিপদে কৃষক

মহম্মদ সামসুজ্জোহা

৭ জানুয়ারী, ২০১৮

পাটের ‘গ্রেড খারাপ হয়েছে’ অজুহাত দেখিয়ে মহাজন পাট কিনছে না। দাম কম দিচ্ছে। জে সি আই-র কাছে কৃষকরা পাট বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষকের এই দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে একদল লোক এই পাট কিনে নিচ্ছে কম দামে। কোন উপায় নেই ভেবে পাটচাষিও টাকার অভাবে পাট বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই পাটই ফড়েরা জে সি আই-র কাছে ২৯০০টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি করছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে একথা জানালেন ভগবানগোলার রামবাগের পাটচাষি মতিউর রহমান।

গ্রামে এখন ১৬০০-১৭০০টাকা, খুব বেশি হলে ১৮০০টাকা কুইন্টাল দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। তাও এক মাস দু’মাস দাম পাওয়া যাবে না। ফলে পরবর্তী ফসল চাষ করতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষকরা। চড়া সুদে টাকা ধার, গয়না-জমি বন্ধক রেখে জমি চাষ করছেন কৃষকরা। সরকারি বীজ প্রকৃত চাষিদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। স্থানীয় দুষ্কৃতীবাহিনী বীজ তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এইসব নিয়ে মুর্শিদাবাদে পাটচাষিরা মহা সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন। ৪০থেকে ৫০শতাংশ পাট কৃষকের ঘরে এখনও পড়ে আছে। ডাহাপাড়ার কার্তিক গুপ্তের ১৫বিঘা পাট চাষ ছিলো, গণেশ গুপ্তের ছিলো ১৭বিঘা পাট চাষ, খগেন দাসের ২০বিঘা পাট ছিলো। এঁদের কারুরই পাট বিক্রি হয়নি। ৫-৬গ্রেডের পাট ১২০০-১৩০০টাকার বেশি দামে নিচ্ছেন না দালালরা। কেন্দ্র পাট কিনবে মুখে বললেও কাজে তা করছে না। এই নিয়ে মুর্শিদাবাদের পাটচাষিরা পাট চাষ করে আরো একবার মহাবিপদে পড়েছেন। রাজ্য সরকার মুখে ফুলঝুরি ফোটালেও কৃষকের ব্যাপারে নিশ্চুপ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement