৬৮তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব

সজল দত্ত

১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

বা‍‌র্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবারে ৬৮তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। এবারের উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫শে ফেব্রুয়ারি সেখানকার বার্লিনালে পালাস্ত প্রেক্ষাগৃহে।

এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আগামী ২০২০ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ৭০তম বর্ষে উদ্‌যাপন করবে। আজকে তার সাংগঠনিক দক্ষতায় এই উৎসব বিশ্বের একটি অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে। উৎসব অধিকর্তা ডিয়েটার বেশসিলিক ২০০১ সালে দায়িত্ব নিয়ে উৎসবের মানকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। যদিও ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালন করার কথা তবে আশা করা যায় তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্বে থাকবেন।

এবারের উৎসবে দীর্ঘদিন বাদে ভারতের একটি ছবি উৎসবের মূল প‌্যানোরামা বিভাগে স্থান পেয়েছে। ‘গারবেজ’ নামে এই ছবিটির পরিচালক বাঙালি ‘‍‌কিউ’। যার পূর্ববর্তী ছবিগু‍‌লি সবসময়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও যৌনতার জন্য। যথা ‘গাড্ডু’ ও পূর্ববর্তী ছবি ‘তাসের দেশ’। এই ছবিটিও দুটি মেয়ে ও একটি ছেলেকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। যাদের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত বর্তমান ভারতের মানুষের মূল্যবোধকে। যা আমাদের স্বাধীনতা, বিশ্বাসকে ধর্মীয় অনুশাসনে ভঙ্গুর করে তুলছে। অভিনয়ে আছেন শতরুপা দাস, ত্রিমালা অধিকারী ও তন্ময় ধানানিয়া।

এবারের চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি প্রধান হয়েছেন বিশিষ্ট জার্মান পরিচালক টম টাইকার। এই পরিচালকের ছবি দিয়ে দুবার বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন হয়েছে। ২০০২ সালে ‘হেভেন’ ও ২০০৯ সালে ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল’ ছবি দুটি দিয়ে। তিনি ১৯৯৭ সালে পরিচালনা করেন ‘উইন্টার স্লিপারস’ ও ১৯৯৮ সালে ‘রান লোলা রান’। যা তাকে সুনাম এনে দেয়। পরিচালকের সাম্প্রতিক ছবি ‘এ হলোগ্রাম ফর দ্য কিং’ (২০১৬) যাতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন টম হ্যাংকস।

উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য নির্বাচিত ২৪টি ছবির মধ্যে ১৯টি ছবি সোনা ও রূপার ভল্লুক জেতার লড়াইয়ে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি যথাক্রমে সানি হাগিগির ‘পিগ’ (ইরান), স্টিভেন সোডেরবার্গের ‘আনসেন’ (ইউ এস এ), ‘সিজন অব দ্য ডেভিল’ (ফিলিপিন্স) পরিচালক লাভডিয়াজ। গাস ভন স্টান্তের ‘ডোন্ট ওরি, হি ওন্ট গেট ফার অন ফুট’ (ইউ এস এ), বেনোট জ্যাকোতের ‘ইভা’ (ফ্রান্স), ওয়েস অ্যান্ডারসনের ‘আইল অব ডগস’ (ইউ কে) প্রভৃতি।

‘বার্লিনালে স্পেশাল’ বিভাগে রয়েছে মাটিন সুলিকের ‘দ্য ইন্টারপ্রেটার (স্লোভাক/চেক), ফার্নান্দো সোলানাসের তথ্যচিত্র ‘এ জার্নি টু দ্য ফুমিগেটেড টাউনস’ (আর্জেন্টিনা) ও ইসাবেল কেয়েসেটের ‘দ্য বুক শপ’ (স্পেন)।

‘বার্লিনালে ক্লাসিক’ বিভাগে রয়েছে বিশ্বের নামী পরিচালকদের নতুনভাবে পুনরুদ্ধার করা ৭টি ছবি। পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্সের ‘উইংগস অব ডিজায়ার’ (জার্মানি/১৯৮৭), ইডিকো এনায়েদির ‘মাই টুয়েন্টিংয়েথ সেঞ্চুরি’ (হাঙ্গেরি/১৯৮৯), সিডনি লুমেটের ‘ফেইল সেফ’ (ইউ এস এ/১৯৬৪), মিখাইল কালাটোজোভের ‘দ্য ক্রেনস আর ফ্লাইং’ (রাশিয়া/১৯৫৭), আসি ডায়ানের ‘লাইফ অ্যাকরডিং টু আগফা’ (ইজরায়েল/১৯৯২) ও ইসুজিরো ওজুর ‘টোকিও টুইলাইট’ (জাপান/১৯৫৭)।এবারের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব তার ঐতিহ্য ও সুনামকে আরও প্রসারিত করবে।

Featured Posts

Advertisement