আফ্রিকার গহীনে

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

তারংগিরে থেকে লেক মানিয়ারা। তারিখটা ছিল ২রা অক্টোবর। ৮৯ বর্গকিমি, ক্ষারযুক্ত, সর্বোচ্চ ১২ফুট গভীরতার হ্রদ। এখানে জলহস্তী, ইম্পালা, বুনো শুয়োর, ওয়াইল্ড বিস্ট, জিরাফের দেখা মিলল। এই হ্রদ আসলে বিখ্যাত তার পরিযায়ী পাখির জন্য। ফ্লেমিংগো, পেলিক্যান, ইজপশিয়ান হাঁস হাজারে হাজারে খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়া যাবে। অন্যান্য পাখি—মারাবু স্টক, শকুন, কোরি বাস্টার্ড, সুপার্ব স্টারলিং, ব্ল্যাক স্মিথ প্লোভার, গ্রাউন্ড হর্নবিল, আফ্রিকান হ্যারিয়র হক, গ্রে হেরন, পাপা গ্যালিনুডে, গ্রেট এগার্ট, সাদা রঙের হুইসলিং ডাক, গলিয়থ হেরন, গ্লসইবিস, হ্যামার কর্প, সিলভার চিক হর্নবিল, লিটল বি ইটারসহ অসংখ্য ধরনের পাখি সমস্ত বনভূমিজুড়েই চোখে পড়ল। লেকের মধ্যে সরু কাঠের ব্রিজ দিয়ে ফ্লেমিংগোদের বাসার নিকটেই পৌঁছে যাওয়া গেল। এখানেই একমাত্র একটা জায়গায় গাড়ি থেকে নামতে দেয়। চারিদিকে হাজার হাজার ছোট বড় পাখি। আমাদের দেশের পক্ষীবিজ্ঞানী প্রয়াত সালেম আলি প্রমুখদের পক্ষে এটা একটা স্বর্গরাজ্য। রাতে আবার টুইগা লজ।

পরের দিন অনেক টিলা, ধু ধু চাষ আবাদহীন প্রান্তর পেরিয়ে যাচ্ছি এবার সেরেঙ্গেটি বনভূমি। পথ মাঝে মধ্যে মাসাইদের আস্তানা।

মাসাই এক যাযাবর জাতি। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। জীবনযাপনের মূল ভরসা গবাদি পশুপালন। ছাগল, ভেড়া, গোরুর পাল। খাদ্য মূলত গোরুর দুধ, কাঁচা মাংস, গো রক্ত। বিশেষ অনুষ্ঠানাদি এবং গর্ভবতীদের গোরুর রক্ত খেতে দেওয়া হয়। যার যত গবাদি প্রাণি তিনি তত সম্মানীয়। পুরুষেরা সিংহ শিকার করে আনলে পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করতে পারবে। সিংহ শিকারের অস্ত্র বলতে একাকী একটা বর্শা, ঢাল আর একটা কাতান। সরকারের পক্ষ থেকে এখন সিংহ শিকার যাতে করা না হয় তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরুষেরা বহুবিবাহে অভ্যস্ত। এদের আবাসস্থল ছিল আসলে গোটা বনভূমিটাই। কেনিয়ার দক্ষিণ থেকে উত্তর তানজানিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এখন বসবাস করে সরকারি উদ্যোগে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে। এদের হাতের তৈরি মূলত কাঠের হস্তশিল্প অনবদ্য। ঘোরাফেরার সময় এইসব সংগ্রহ করা সম্ভব, দোকান থেকে। আরুশা শহর একটা বড় মাসাই মার্কেটও আছে। মাসাইদের গ্রামে ইংরেজি জানা মাসাই যুবক ঘরে নিয়ে গিয়ে উল্লিখিত বিষয়গুলি জানান। সামান্য মূল্যের বিনিময়ে প্রত্যেকেই যেতে পারেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement