আফ্রিকান সাফারি - ১

২৯ জানুয়ারী, ২০১৮

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করতেন গৌতম প্রামাণিক। অবসর নিয়েছেন, নেশা বেড়ানো। ভারতের বহু জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বন্যপ্রাণীর দেখার টানে। সেই টানেই দুই বন্ধুর অনুরোধে পাড়ি জমান সুদূর পূর্ব আফ্রিকার অন্দরে। তানজানিয়ার চার বিখ্যাত জঙ্গলের সাফারির অভিজ্ঞতা চিত্রসহ তুলে ধরেছেন বাইরে দূরে পাতায়। আজ প্রথম কিস্তি তারাংগিরে।



২৮শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে কলকাতা থেকে মুম্বাই। পরদিন সকাল এগারোটায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। পথে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিসআবাবাতে বিমান বদল করার জন্য ঘণ্টা দুয়েকের অপেক্ষা। অবশেষে জোমো কেনিয়াট্টা বিমানবন্দরে অবতরণ ও নাইরোবিতে রাত্রিবাস। ৩০শে সেপ্টেম্বর ভোরবেলা নাইরোবি থেকে রিভারসাইড বাস সার্ভিসে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার পাড়ি। পথে নামাঙ্গাতে কেনিয়া সীমানা পেরিয়ে ভিসার কাজকর্ম সেরে তানজানিয়ায় প্রবেশ ও আরও কিছুক্ষণ যাত্রার পর আরশা শহরে পৌঁছালাম।

১লা অক্টোবর প্রাতঃরাশ সেরে সোয়ালা সাফারিস লিমিটেডের জিপে সাফারি শুরু। ৭ জনের বসার ব্যবস্থা, যাত্রী ৫ জন। বনভূমিতে ঢোকার পর জিপের ছাদ খুলে দেওয়া হয়। পূর্ব আফ্রিকার এই বিশাল অরণ্যাঞ্চলের পূবদিকে আফ্রিকার সর্বোচ্চ পাহাড় কিলিমানজারো, পশ্চিমপ্রান্তে লেক ভিক্টোরিয়া। অবশ্যই দক্ষিণ গোলার্ধে, বিষুবরেখার সন্নিকটে। তানজানিয়ার এই অরণ্য অঞ্চলই দ্রষ্টব্য।

প্রথমেই যাওয়া হলো তারাংগিরে অরণ্যাঞ্চলে। মোট আয়তন ২৮৫০ বর্গ কিলোমিটার। পরিবার পরিজন সহ অসংখ্য হাতি, জেব্রা, ওয়াইল্ড বিস্ট, কেপ বাফেলো, জিরাফ, ছোট্টঅ্যান্টিলোপ ডিক ডিক, ইম্পালা, এলান্ড, থমসন গেজেল, গ্রান্ট গেজেল দেখা হলো। এরা এদের মতনই চরে বেড়াচ্ছে। বলা বাহুল্য, এসব জায়গায় বন্যপ্রাণী খুঁজে বেড়াতে হবে না। এটা ওদেরই বাসভূমি। ওরা শয়ে শয়ে এসে পর্যটকদের সাথে দেখা করে যাবে। মূল মাংসাশী প্রাণী সিংহ। এদের খুব কাছ থেকেই দেখতে পাওয়া যাবে। তবে এই বনভূমিতে সিংহ সংখ্যায় খুব বেশি নজরে পড়েনি। এছাড়া চিতা বা লেপার্ডও আছে। এক আধটা দেখতে পাওয়া গেল। আর আছে প্রচুর বেবুন। গাছের মাথায় কুণ্ডলী পাঁকিয়ে পাইথন। প্রচুর অ্যাকাশিয়া আর বাওবার গাছ নজরে পড়ল। বাওবাব গাছ তিন চার শতাব্দী বাঁচে।

এদিনের সাফারির পর রাত কাটানো হলো টুইগা ফরেস্ট লজে। কয়েক কের জমির উপর এই লজ। মাঝখানে বিশাল ঘাসের চত্বর। সাঁতার কাটার পুল। খুবই আরামদায়ক ব্যবস্থা।

এই দেশ ছিল উপনিবেশ। জার্মানির, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশের। দেশের পুরানো নাম ট্যাঙ্গানিকা। স্বাধীন হয় ১৯৬২-তে। পাশের দেশ জানজিবার, স্বাধীন হয় ১৯৬৩-তে। ১৯৬৪-তে দুটি দেশ মিলে তৈরি হয় তানজানিয়া। জাতীয় ভাষা সোহেলি হলেও একশোর উপর ভাষা চালু আছে। দেশের ৩৮ শতাংশ জমি বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত। দেশের আর্থিক অবস্থার নমুনা— ভারতবর্ষে এক ডলার পাওয়া যায় ৬৪ থেকে ৬৭ টাকায়। তানজানিয়ায় ২২০০ শিলিং-এ, কেনিয়ায় ১১০০ শিলিং-এ এক ডলার। এ দেশের আয়ের উৎস খনিজ পদার্থ রপ্তানি— লাভের সিংহভাগ নিয়ে যায় কর্পোরেট, এরা পায় সামান্যই। এছাড়া আছে পর্যটন, বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত শিল্প। ছোট শহর বা গঞ্জ ছাড়া পুরোটাই ধূ ধূ প্রান্তর, চাষ আবাদ বা সেচ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement