মসুর, ছোলায় রোগ
ফাঁপরে মুর্শিদাবাদ

মহম্মদ সামসুজ্জোহা

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

মুর্শিদাবাদের বাগড়ি এলাকায় মসুর ও ছোলা গাছে রোগ ধরেছে। এই রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন মসুরে ফুল আসতে শুরু করেছে। ডালের গাছ প্রথমে লাল ও পরে হলুদ হয়ে শুকিয়ে জমির মাঝে মাঝে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বহরমপুর থানার রাজধারপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নগরাজোল এলাকা। সেখানে এই রোগ কয়েকশো একর মসুর এবং ছোলা জমিকে ফাঁকা করে দিয়েছে। কৃষিদপ্তরে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকদের।

মহসিন শেখ নামে এক কৃষকের দু’বিঘা মসুর জমিতে এই রোগ ধরেছে। নজরুল শেখের দেড়বিঘার চাষ ক্ষতিগ্রস্ত। বহরমপুর থানার নগরাজোল গ্রামের স্বপন মণ্ডল, তারক মণ্ডল, উপেন মণ্ডলদের মসুর চাষেও ক্ষতি হয়েছে। এবছর গম চাষ বন্ধ রেখে ডালশস্য চাষ করার নিদান দিয়েছে সরকার। সেই ডালের চাষ করেই সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি মসুর চাষে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে কৃষকরা জানালেন। এখন তাঁদের মাথায় হাত।

ভগবানগোলা থানার আব্দুল বাকি জানালেন, ভূধর কিসমত, রমনা, তেলিয়ার মতো মৌজাগুলিতে মসুরে ও ছোলায় ব্যাপক হারে রোগ ধরেছে। মসুরে বেশি, তুলনায় ছোলাতে কম। রানিতলা থানার আব্দুল মোমিন জানালেন, নন্দনপুর, পূর্বরামপুর, বালিগ্রাম, অনুপনগর মৌজাও এই রোগে আক্রান্ত। প্রথমে লাল ও পরে হলুদ হয়ে ফসল শু‍‌কিয়ে মরে যাচ্ছে।

জেলার কৃষিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে কৃষি তথ্য আধিকারিক জাহিরউদ্দিন খান এই রোগের খবর কবুল করেন। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই রোগের খবর আসছে। তাঁর বক্তব্য, এটিকে ‘মরচে’ রোগ বা ‘রাস্ট’ বলা হয়। প্রতিকার হিসেবে তাঁর পরামর্শ, দুপুরের দিকে শিশির শুকিয়ে যাবার পরে ম্যানকোজেব ও কার্বেনডাজিম একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি লিটার জলে তিন গ্রাম করে দিয়ে বিঘায় ৭০-৮০লিটার জল স্প্রে করতে হবে। তাহলে এই রোগ থেকে ফসল রক্ষা পাবে।

ফসলের এই রোগে কৃষকরা সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। কারণ গম চাষ বন্ধ করে ডালের চাষ দিয়েছেন তাঁরা। এবার মসুর ও ছোলা চাষ বন্ধ হয়ে গেলে কি করবেন তাঁরা? সংসারই বা চলবে কি করে? এই ভেবেই এখন দিশেহারা তাঁরা।

Featured Posts

Advertisement