ড্রাগন ফলের চাষে
উদ্যোগী পুরুলিয়া

ভাস্কর দাশগুপ্ত

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

পুরুলিয়ায় রয়েছে সেচের অভাব। রয়েছে ফি-বছর খরার ভ্রূকুটি। চাষ করার পরেও কৃষকের মন থাকে দোলাচলে, ভালো বৃষ্টি না হলে মাঠের ফসল মাঠেই শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প হিসেবে ড্রাগন চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়াতে চাইছে কৃষিদপ্তর ও উদ্যানপালন দপ্তর। রুখাশুখা জেলার জমি এবং আবহাওয়ায় ড্রাগন ফলের চাষ অত্যন্ত উপযোগী মনে করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুষ্টিতে ভরপুর এই ফলের চাষ করলে কৃষকরাও লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করছেন সরকারি আধিকারিকরা।

ইতিমধ্যেই এশিয়ার নানা দেশে ড্রাগন চাষ হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে এই চাষ করাচ্ছে। জল না পেলেও এই গাছ বেঁচে থাকে। অপেক্ষাকৃত শুকনো জ‍‌মিতেই ড্রাগন চাষ হয়। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক তামসী কোলে জানিয়েছেন, যেহেতু শুকনো জায়গাতে ড্রাগনের চাষ ভালো হয়, তাই তাঁরা এই জেলাতেও সফল হবার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। কাশীপুরে কৃষিদপ্তরের সিড ফার্মে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ শুরু হয়েছে। এক বছরের মধ্যেই এই সিড ফার্ম থেকে বীজ দিয়ে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাহায্যও করা হবে।

আমেরিকার ফসল হিসেবে পরিচিত ড্রাগন ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর। খাদ্যটিকে ভোজনরসিক বাঙালির পাতে দেওয়া এবং কৃষককে আপাত স্বস্তি দেওয়ার জন্যই এখানে এই চাষের উদ্যোগ। অপেক্ষাকৃত ছোট জমিতেও এর চাষ সম্ভব? কি আছে এই ড্রাগন ফলে? উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন। এই ফলের বীজে রয়েছে ওমেগা-৩। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ফলের পুষ্টিগত কার্যকারিতা হলো কোলেস্টোরেল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমায়, হাঁপানি এবং বাত প্রতিরোধের কাজও করে। কারণ এই ফলে গ্লুকোজ রয়েছে। এর বাজার দর তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকা কেজি। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০থেকে ৪০০গ্রামের মতো। এক একটি গাছ থেকে ২০/২৫টি ফল পাওয়া যায়। এই জেলায় ড্রাগন ফলের চাষ লাভজনক করার ব্যাপারে আশাবাদী আধিকারিকরা।

Featured Posts

Advertisement