পাশে নাবার্ড, উন্নত আলুবীজ
বানাতে উদ্যোগ কোচবিহারে

জয়ন্ত সাহা

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

ভেজাল আলুবীজ থেকে কৃষককে বাঁচাতে কোচবিহার জেলায় এগিয়ে এলো সাতমাইল সতীশ ক্লাব নামে একটি সংস্থা। নাবার্ডের সাহায্য নিয়ে উন্নতমানের আলুবীজ উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মরশুমে জেলার আলুচাষিদের আর ভিনরাজ্যের আলুবীজের ওপর নির্ভর করতে হবে না বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা।

কোচবিহার ১নং ব্লকের ভোগডাবড়ি-কেশরীবাড়ি, এলাজানের কুঠি, গিরিয়ারকুঠি গ্রামে নতুন কুফরি সিন্দুরি জাতের আলুবীজ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মোট ৩০বিঘা জমিতে এই ব্রিডার কুফরি সিন্দুরি বীজের চাষ হচ্ছে। নাবার্ড এই কাজের জন্য ১২৫কুইন্টাল ব্রিডার আলুবীজ দিয়েছে। সিমলার কেন্দ্রীয় আলুবীজ গবেষণা কেন্দ্র বীজ তৈরির জন্য ১৭জন কৃষককে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। নাবার্ডের তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে।

প্রাথমিকভাবে ৩০বিঘা জমি থেকে ৭৫০কুইন্টাল ফাউন্ডেশন বীজ উৎপন্ন হবে। দ্বিতীয় মরশুমে সেই ৭৫০কুইন্টাল বীজ দিয়ে ৩০০বিঘা জমিতে ৯হাজার কুইন্টাল সার্টিফায়েড বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। নাবার্ডের জেলা আধিকারিক আশিস দাস জানিয়েছেন, আলুচাষিদের হাতে উন্নতমানের বীজ তুলে দেবার কথা ভেবেই সার্টিফায়েড বীজ উৎপাদনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আলুবীজ উৎপাদনের পাশাপাশি বিপননেও সাহায্য করবে নাবার্ড।

এর আগে ভেজাল আলুবীজের রমরমা ঠেকাতে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুনমাণযুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু বিপননে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকল্পটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বীজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ কয়েক বছর নিজেরা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহয্যে বীজ উৎপাদন করলেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। ক্রেতার অভাবে বীজ পড়ে নষ্ট হয়েছে।

কোচবিহার জেলায় মূলত পাঞ্জাব থেকে আসা বীজ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ ও ভুটানের আলুবীজ ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে কৃষকের হাতে আসে। প্রতি বছরই বেশি লাভের আশায় বীজ ব্যবসায়ীদের একাংশ সার্টিফায়েড বীজের সাথে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আলু মিশিয়ে দেয়। এর ফলে বিপাকে পড়েন আলুচাষিরা। আলুর উৎপাদন যথেষ্ট কম হয়।

এছাড়াও বাইরে থেকে আসা বীজের দাম কিছুটা বেশি দিতে হয়ে আলুচাষিকে। সরকার আলুচাষিদের সাহায্য না করায় কোচবিহারের আলুচাষিরা বীজ সংকটে ভুগছেন। নাবার্ডের উদ্যোগে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের খবরে খুশির ছোঁয়া লেগেছে কোচবিহারের আলুচাষিদের মধ্যে। খোলটা-মরিচবাড়ি এলাকার আলুচাষি সর্বানন্দ বর্মন বলেন, এখান থেকেই উন্নতমানের বীজ পেলে আমাদের দুশ্চিন্তা কমবে।

সতীশ ক্লাবের সম্পাদক অমল রায় জানিয়েছেন, ২০১৯সালের মধ্যে কৃষকের হাতে উন্নতমানের সার্টিফায়েড বীজ তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। ভিনরাজ্যের বীজের থেকে কেজি প্রতি ১০টাকা দাম কম রাখার পরিকল্পনা হয়েছে। বীজ রাখার জন্য জেলার তিনটি হিমঘরে বিশেষ ধরনের চেম্বার তৈরির কাজ চলছে। জেলার ৪০০টি ফার্মার্স ক্লাব এবং ৫৬টি কৃষি উৎপাদক সংস্থার মাধ্যমে উন্নতমানের বীজ পৌঁছে যাবে আলুচাষিদের কাছে। ভোগডাবড়ি-কেশরিবাড়ি গ্রামে আলুবীজ তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement