অবশেষে ইম্ফলে বিজ্ঞান কংগ্রেস

১৮ মার্চ, ২০১৮

অনেক বাধা কাটিয়ে এবারে মণিপুরের রাজধানী শহরে শুরু হলো জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের আসর। হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩রা জানুয়ারি থেকে ১০৫তম জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের আসর বসার কথা থাকলেও তা হয়নি। তেলেঙ্গানা সরকারের অকর্মণ্যতার জন্য চাকরি পেতে বাধা, সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অনাস্থার জেরে তৈরি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ পিছিয়ে দিয়েছিল বিজ্ঞান কংগ্রেসকে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে তা বানচাল হয়ে যায়। শতাব্দী প্রাচীন ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান কংগ্রেসে উদ্ধোধনে গেলে প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভের মুখে পড়বেন বলেই এক লহমায় বাদ চলে গেল হায়দরাবাদ।

জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের মুখ্য আয়োজক কলকাতার ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশন বা ইসকা হলেও এই সংস্থা এখন সরকারের অঙ্গ হয়ে গেছে। আগের মতো আর স্বায়ত্ত সংস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর যেদিকে অঙুলি নির্দেশ করবেন সেই পথেই হাঁটতে হবে বিজ্ঞান কংগ্রেসকে। একসময় ইসকার নির্দেশকেই মান্যতা দিতে হতো প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দপ্তরকে। এখন তাঁদে নির্দেশে চলতে হয়। কারণ এখন ইসকা কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অধীন একটি বেতনভোগী সংস্থা। আগের মতো ইসকা সেই দাপট দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহলেও কমেছে।

যাক সেই সব মেনে নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দেখানো পথেই ইস্ফলের মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রমরমিয়ে ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হয়ে গেল পাঁচ দিনের বিজ্ঞান কংগ্রেস। বলতে অবশ্য বাধা নেই সারা বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে যত বড়ই বিজ্ঞান প্রযুক্তি বা চিকিৎসা সম্মেলন হোক, সেরা বিশেষজ্ঞ কিংবা গবেষকদের উপস্থিতির নিরিখে এটাই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান সম্মেলন। আয়োজনটা তেমন করেই হয়।

সর্বোপরি এই বিজ্ঞান কংগ্রেসের থেকে উঠে আসা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রের উন্মেষকে একত্রিত করে একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সেটি পাঠানো হয় প্ল‌্যানিং কমিশনে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্র গবেষণার দিশা মানচিত্র বা রোড ম্যাপ তৈরি করে। তাই এই জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের গুরুত্বটা অনেক বেশি। জল, পয়ঃপ্রণালি, পরিবেশ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, মহাকাশ গবেষণা, খাদ্য সুরক্ষা ও বৈদ্যুতিন প্রযুক্তি শুরু হয়েছে বিশেষ আলোচনাসভা।

যেকোন বিজ্ঞান কংগ্রেস একটা মূল ভাবনাকে নিয়ে চলে। এবারে মূল ভাবনা ‘অধরাধীদের ধরতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার’। বিজ্ঞান কংগ্রেসের ভাবনা থেকেই পরিষ্কার বেশিরভাগ ব্যবহারিক উপলব্ধিই এখন সাধারণের কাছে পৌঁছায়নি। অথচ ভারতবাসী হিসাবে প্রত্যেকের প্রদেয় কর-এ চলছে সেসব জাতীয়স্তরের গবেষণা। তবে আশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল এখন আর এদেশে নেই তা মূল ভাবনার বিষয় থেকেই পরিষ্কার। তবুও ‘বৃথা আশা মরিতেও মরে না’। সেই দিকে তাকিয়ে ইস্ফলে মুখিয়ে রইলেন দেশের বিজ্ঞান মহল। পাঁচ দিনের সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সব শাখার আধুনিক গবেষণা নিয়ে আলোচনা চলবে।

এবারে চারজন নোবেলজয়ী ইস্ফলে জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে আসছেন। মুখ্য অতিথির আসন নিতে আসছেন তিন নোবেল জয়ী। বিজ্ঞান কংগ্রেস আমন্ত্রণ করেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন দালাই লামা, অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস, অধ্যাপক হিরোশি আমানো। এবারের মণিপুর বিজ্ঞান কংগ্রেসের আয়োজক কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ডব্লু বিশ্বনাথ সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন সব কেন্দ্রীয় সংস্থারা যোগ দিচ্ছে ১০৫ তম বিজ্ঞান কংগ্রেসে।

এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর, জৈবপ্রযুক্তি দপ্তর, সিএসআইআর, আইসিএমআর, আইসিএআর, এমএসএমই, এআইসিটিই, ইউজিসি, আর্থ সায়েন্স। ভারতের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এবারে বিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের নামকরা বিজ্ঞানীরা।

Featured Posts

Advertisement