প্রশংসা করতেই হচ্ছে!

পার্থ ভট্টাচার্য

২১ এপ্রিল, ২০১৮

সি পি আই (এম)-র প্রশংসা তা-ও আবার তৃণমূলের মুখে। ঠিক সি পি আই (এম) নয়, বামফ্রন্ট পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূলীরা। এই ছবি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের। পঞ্চায়েতের প্রধানের নাম কবিতা রায়। প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও অনৈতিক কাজের অভিযোগই তুলতে পারছে না তৃণমূলীরা।

গ্রামে ঢুকলেই নজর পড়ে উন্নয়নের ছবি। বেলাকোবা হাসপাতাল মোড় থেকে বড়বাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাতশো মিটার সিমেন্টের ঢালাই কংক্রিটের রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। রেগার প্রকল্পে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা খরচ করে এই রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের রীতা দাস (দেবনাথ) জানালেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কবিতা রায় উন্নয়নের কাজ নিয়ে কখনোই কোনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেননি। প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই আমাদের। সততার সঙ্গে বিরোধীদের মান্যতা দিয়েই পঞ্চায়েত পরিচালনার কাজ করেছেন প্রধান। প্রধানের কাজের প্রশংসার কথা শোনা গেল তৃণমূল নেতা বরেন দাস, দিলীপ দাসের মুখেও। তাঁরা বললেন, বামফ্রন্ট পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতের সার্বিক পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে ভালো কাজ করেছেন প্রধান কবিতা রায়। উন্নয়নের কাজে যতটুকু টাকা পেয়েছেন সেই টাকা সমানভাবে সব সদস্যদের এলাকায় দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবেও প্রধান অত্যন্ত সৎ। 

তাহলে কেন তৃণমূল কেন এই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল? তৃণমূল নেতাদের জবাব, দেখুন ওই প্রস্তাব আনতে আমাদের বাধ্য করা হয়। প্রধানকে হেনস্তাও করেছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বামফ্রন্টের নির্বাচিত চারজন পঞ্চায়েত সদস্যকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছিল তৃণমূল। প্রধানকেও প্রলুব্ধ করা হয়েছিল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য। তাঁকে প্রধান করেই পঞ্চায়েত চালানোর টোপ দিয়েছিল তৃণমূল। পঁচিশ বছর ধরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের কাজে জড়িত প্রধান কবিতা রায় তৃণমূলের কাছে মাথানত করেননি। আর অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষের সদস্যদের রায়ে তিনিই প্রধান।

এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ুয়াপাড়া, সারিয়াম, সর্দারপাড়া, মাঝাবাড়ি, ধাপাচিলা, জাভেরাভিটাসহ সব এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট, পানীয় জলসহ একশো দিনের কাজের প্রকল্পের কাজ ভালোই হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। প্রধান কবিতা রায় বলেন, ‘পঁচিশ বছর ধরে পঞ্চায়েতের কাজে জড়িত আছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের কাজ করে চলেছি। কী করতে পেরেছি, আর কী করতে পারিনি সব মানুষের কাছে বলছি। কেন পারিনি সে কথাও বলছি। দেখুন, মানুষই সব। মানুষের কাছে এই নির্বাচনে আমাদের আবেদন খাল কেটে কুমির আনবেন না। তৃণমূল এবং বি জে পি-র অশুভ আঁতাতের কথা প্রচারে তুলে ধরা হচ্ছে। মানুষের পঞ্চায়েত গড়তে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয় যুক্ত করতে আমরা নির্বাচনী প্রচারে নেমেছি।’

বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ২২টি। ২০১৩ সালে সি পি আই (এম) ১১, আর এস পি ২, ফরওয়ার্ড ব্লক ১, তৃণমূল কংগ্রেস ৬ এবং বি জে পি ২টি আসন পায়। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে দল ভাঙিয়ে সি পি আই (এম)-র চারজন সদস্যকে তৃণমূল নিজেদের দলে নিয়ে নেয়। ১৯৭৮সালে এই গ্রাম পঞ্চায়েত বামফ্রন্ট জয়ী হয়। ১৯৮৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়। ১৯৮৮ থেকে টানা ১৯৯৮ পর্যন্ত বামফ্রন্ট পরিচালনা করে এই পঞ্চায়েত। ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট বিরোধীরা জোট বেঁধে এই পঞ্চায়েতের পরিচালন ভার নেয়। ২০০৮থেকে আবার এই বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনা করছে বামফ্রন্ট। 

স্থানীয় সি পি আই (এম) নেতা বনমালী রায় জোরালোভাবে জানালেন, ‘কবিতা রায় আমাদের গর্ব। লড়াকু নেত্রী। এবারের নির্বাচনে কবিতা রায়কে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের ৮নম্বর আসনে প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। আমরা আশাবাদী, মানুষ ভোট দিতে পারলে কবিতা রায়ের জয় সুনিশ্চিত।’ শুধু জেলাপরিষদই নয়। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বামফ্রন্ট এবারেও ভালো ফল করবে বলে আশা এই প্রবীণ নেতার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement