রহস্যের মোড়কে
পরকীয়া ছবি

১২ মে, ২০১৮

Image

+

চৌদ্দ বছর পর ‘প্রাক্তন’ ছবির জুটিকে এবার দেখা গেল পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি ‘দৃষ্টিকোণ’-এ। রহস্যের মোড়কে পরকীয়ার ছোঁয়ায় ‘দৃষ্টিকোণ’ একটি সাবলীল চিত্রনাট্য। পরিচালক ছবির গল্পে সামগ্রিকভাবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক নির্দেশের পরিস্ফুটন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। সাদা কালো চোখে আমরা অনায়াসেই কোনও ঘটনার বিশ্লেষণ করে অপরাধী সাব্যস্ত করি। কিন্তু ভিতরে লুকিয়ে থাকে নির্মম সত্য। যে সত্য চাপা থাকে অসহায়তা, অকপট সরলতা ও আবেগ প্রবণতার মধ্যে। এইরকম গল্প নিয়েই পরিচালকের সঙ্গে প্রথম কাজ অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’র জুটি ছবির গল্পকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিকল কর্নিয়া, বাঁ চোখ সাদা এইরকম চেহারার উকিল জীয়ন মিত্রকেই জিয়নকাঠি ভেবে জড়িয়ে ধরলেন শ্রীমতী সেন। শ্রীমতী সেনের স্বামী পলাশের রহস্যমৃত্যুর খোঁজ নিতেই মুখোমুখি হন জীয়ন আর শ্রীমতী। এরপর গল্প এগিয়ে চলে মামলার নানান খুঁটিনাটি পর্বের মধ্যে দিয়ে। একসময় জীয়নের স্ত্রী রুমকি দাপিয়েছে কোর্টরুম। কিন্তু ঘরোয়া স্ত্রী’র মতোই তার মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। এদিকে যে দুর্ঘটনা ঘিরে রহস্য, সেই সেনবাড়িতেও অন্য ঝড়। পলাশের গাড়িতে ছিল তাঁর দাদা প্রীতম সেন। সে দুর্ঘটনার পর থেকেই হুইল চেয়ারে। কিন্তু এক‌সময় জানা যায়, তার চলার মতো ক্ষমতা আছে। সে সম্পূর্ণ সুস্থ। রহস্য দানা বাঁধে। অবশেষে প্রীতমের মৃত্যুটা যেন হওয়ারই ছিল। যে অন্যঘরানার প্রেমে প্রীতম আবদ্ধ ছিল, সেখানেও ছিল সাসপেন্স। পরকীয়ার এই দৃষ্টিকোণ দর্শকদের বসিয়ে রাখবে চুপ করেই। অথচ গল্পের ছাঁচ মনে দাগ কাটার মতো নয়। অনুপম রায়ের সুরে গানগুলিও সেভাবে মনকে নাড়া দেয়নি।

জীয়নের চরিত্রে প্রসেনজিৎ ও শ্রীমতীর ভূমিকায় ঋতুপর্ণা নিজ দক্ষতায় সাবলীল। প্রীতমের চরিত্রে কৌশিক গাঙ্গুলিকে ভালো লাগে। এছাড়াও প্রশংসনীয় চূর্ণী গাঙ্গুলি, কৌশিক সেন, সোহম মজুমদারসহ অনেকে। চিত্রনাট্যের অটুট বুনটে প্রত্যেকটি ফ্রেম একটা পরিপূর্ণতা দিয়েছে। ক্যামেরার কাজেও রয়েছে দক্ষতার ছাপ। শুরু থেকে শেষ অবধি বসিয়ে রাখার ছবি দৃষ্টিকোণ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement