চাঁদপুরের কবি আর
গ্রামের সরকার

চন্দন দাস

১৩ মে, ২০১৮

‘‘আমার জন্য একটুখানি কবর খোঁড়ো সর্বসহা/ লজ্জা লুকোই কাঁচা মাটির তলে’’ — চিত্তপ্রিয় ঘোষ লিখেছেন।

জন্ম তাঁর চাঁদপুরে। চাঁদপুর এখন ওপার বাংলায়। তবে পঙ্‌ক্তির সীমান্ত নেই। তাই ‘দখল’ নেই। ‘কবর’-র ওই দুটি পঙ্‌ক্তির মতো এপার, ওপার — দুপার কিংবা অবিভক্ত দুনিয়া তাঁকে অবলীলায় চেনে — ‘শঙ্খ ঘোষ’ বলে।

হায় অনুব্রত, আপনারই শুধু ‘বাবরের প্রার্থনা’ জানা হয়নি।

তখন দেশ মাত্র কিছুদিন হলো স্বাধীন হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি সবে জন্ম নিয়েছেন। তেলেঙ্গানা সশস্ত্র কৃষক সংগ্রামীদের কাঁধের পতাকা সারা দেশের অভুক্ত, বিশ্বাসঘাতকতায় বিদীর্ণ হৃদয়ের প্রতিটি মানুষের মুক্তির নিশান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তেভাগা পেরিয়ে এসে এপার বাংলার মাটিতে সোচ্চারে মাথা তুলছে ছিন্নমূল মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সেই সময়কালে লেখা শঙ্খ ঘোষের ‘কবর’।

সেই ‘কবর’-র কবিকে বোলপুরের অনুব্রত বলেছেন,‘‘...এ কোন নতুন কবি উঠে এলো..শঙ্খ নাম দেওয়াটা ঠিক হয়নি।’’

অনুব্রত মণ্ডল আর মমতা ব্যানার্জি সমার্থক শব্দ। যাহা বাহান্ন তাহা তিপান্ন। মমতা ব্যানার্জি মানে তৃণমূল কংগ্রেস। ত্রিপুরার ধনপুরের উত্তর তৈবান্দালে দেখা হয়েছিল প্রৌঢ় গোপাল পন্ডার সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারির সেই বিকালে তিনি বলেছিলেন,‘‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকিয়ে থাকি। সাহিত্য, সিনেমা, গান — সব বিষয়ে। কিন্তু আজকাল যে সব কথা, ভাষা সেখানে শোনা যায়, খুব কষ্ট হয়।’’ সেদিন তাঁকে কিছু বলার ইচ্ছা হয়নি। আসলে, এখন কষ্ট হয় না, লজ্জা হয় না, রাগ হয় না। ঘৃণা হয়। ঘৃণা ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য হৃদয়ে কোনও অনুভূতির সঞ্চয় এক প্রবল অপরাধ।

আমার বাড়ি আমার গর্ব — এ’কথা আর কবে মানতে শিখেছে বাংলা। আমার ঐতিহ্য আমার প্রেরণা — এই তো আমার জিয়নকাঠি। তাতেই লাগাতার লাথি মারছে তৃণমূল কংগ্রেস। আমার পরিচয়, আইডেনটিটিই আক্রান্ত।

তাই, তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘৃণা করতে না শিখলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। কবর কিংবা শ্মশানের পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকবে বাংলার আহত ঐতিহ্য।

যে ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে...

কেন? তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য শুধুই ঘৃণা কেন উপযুক্ত?

তাহলে দেশভাগের চেতনার মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে অবিভক্ত বাংলার সামনে। পৌঁছাতে হবে অনুব্রতর চেনা দুই কবি রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ইসলামের কাছে। এখন স্বাধীনতা আর শিশু নয়। তার বয়স হয়েছে। ধর্মের নামে দেশভাগ কী কুৎসিত প্রভাবে একটি গোটা জাতিকে ক্ষতবিক্ষত করতে পারে — কাঁটাতারের দুপারের খেত, গ্রাম, শহরে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালির দাঙ্গা আমি দেখেছি। বেলেঘাটার রক্তপাত — তাও দেখেছি। কাঁটাতারে রক্তাক্ত আমার তেজোদীপ্ত মনন নিজের নাম নিজে রেখেছে — ‘ঋত্বিক ঘটক’। আমি কে? আমি বাংলা, আমি জননী, আমি ধাত্রী — আমি একইসঙ্গে ‘দেশ’ এবং ‘দ্যাশ’।

সেই আমি জেনেছিলাম, আমার সামনে দাঁড়িয়ে অকুতোভয় কেউ নিখাদ বাংলায় সারা দেশের সবকটি ভাষায় কথা বলা মানুষের মুখপত্র হয়ে উঠতে পারেন। অনায়াসে একটি মাত্র বাক্যে সাভারকার, গোলওয়ালকারের রাজনৈতিক চক্রান্তের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলে উঠতে পারেন — ‘‘বিজেপি একটি অসভ্য, বর্বর দল।’’ ‘‘দাঙ্গা করলে মাথা গুঁড়িয়ে দেব’’ — সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এই স্পষ্ট বার্তা — শেষ সাতটি বছরে কে শুনেছে ধানের জন্মের কথা জানা সাহসী ময়দানে?

বদলে, ‘পরিবর্তনে’ বিজড়িত আমি কী দেখেছি? সাত বছরে দেখেছি নাথুরামের বংশধররা গ্রামে ছড়াচ্ছে নানা পোশাকে। শাসকের সিকি, আধুলি মাপের নেতারা আখের গোছাচ্ছে, লুটছে, আর সরীসৃপের মতো সঙ্ঘ পরিবার গলিঘুঁজি ছেড়ে রাজপথে অস্ত্র হাতে ফণা তুলে দাঁড়িয়েছে। বসিরহাট, ধুলাগড় — একের পর দাঙ্গায় বিধ্বস্ত এই বাংলাকে আমি ‘৩৪ বছরে’ কখনও দেখিনি।

প্রায় সত্তর বছর আগে অভিজ্ঞতার নিরিখে অর্জিত সেই ধর্মনিরপেক্ষ স্বদেশের স্বপ্ন, চেতনার রঙমশাল শঙ্খ ঘোষ পরিত্যাগ করেছেন — এমন কোনও দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু যন্ত্রণায় অহল্যা হয়ে যেতে যেতে আমরা দেখেছি রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের পাশে ব্রাহ্মণ-পুরোহিত সম্মেলনের আয়োজন, হনুমানের নামে জয়ধ্বনি, রামনবমীর সরকারি আয়োজন আর ব্রাহ্মণ্যবাদের পুনরুত্থানের ঘোষণার জন্য সেই অনুব্রতর মঞ্চ।

অনুব্রত মানে মমতা ব্যানার্জি। মমতা ব্যানার্জি মানে দুর্বিনীত একচ্ছত্র নির্মম ক্ষমতা।

আমি এখন, এই অন্ধকারে জয় গোস্বামীর সেই কবিতাটির মত — ‘যে ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে’। আমার সামনে সেই কবিতার প্রথম দুটি পঙ্‌ক্তি গত সাত বছর ধরে অভিনীত হচ্ছে। জয় গোস্বামী লিখেছেন —‘‘কী বুঝেছে সে-মেয়েটি/সে বুঝেছে রাজুমামা মায়ের প্রেমিক।’’ আমি কী বুঝেছি? নিরুদ্দেশ, নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে যেতে আমি বুঝেছি — বি জে পি, আর এস এস তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। দুজনের কোনদিন, কোথাও কোনও ঝগড়া ছিল না। তাই সারদা, নারদের সি বি আই তদন্ত থমকে যায়। একশো দিনের কাজে দেদার দুর্নীতির পরও পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে চার হাজার কোটির বেশি টাকা হাজির হয় রাজ্যের তহবিলে। যদিও গ্রামবাসীরা সেই টাকা পান না। মমতা ব্যানার্জির সহযোগিতায় সঙ্ঘ বাড়ে। আর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান তুললে জোটে মিথ্যা মামলা, হামলা, জরিমানা। আসলে তৃণমূল কংগ্রেস আমার বাংলায় সঙ্ঘের পথ, ধর্মের নামে ঘৃণার বিভাজিত পথ চওড়া করছেন।

আমি তবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘৃণা ছাড়া আর কী করতে পারি? কোনও পথ আছে অন্য? নেই।

তাই ‘কবর’ আমাদের সযত্নলালিত অভিলাষ। ‘অনুব্রত’ আমাদের ব্যাধি।

‘‘মাগো, আমার মা —/ঝড় নেমেছে, দুয়ারে তার ঝঞ্ঝা লাগো লাগো/ তুমি আমার বাজনা শুনে শঙ্কা মেনো না।/ বাজনা বাজুক, ভয় পেয়ো না, বাজনা বাজুক মা।’’ (বলো তারে ‘শান্তি শান্তি’)

কাজ চেয়েছিল রাজ্য। কারখানা ধ্বংস করে সেখানে সরষের বীজ ছড়িয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। আমাদের অনেকে তাকেই বাংলার পুনর্জাগরণ ভেবেছিলাম। এখন সেই ৯৯৭.১১ একরে চাষ এখন হয় না। কৃষকরা জমি পাননি। আল আর মাথা তোলেনি। সিঙ্গুর এখন সরষে ফুল দেখছে চোখে।

রাজ্যের কাজের সুযোগ ধ্বংস হয়েছে। যা নিয়োগ হচ্ছে, সব চুক্তিতে। সরকারি ক্ষেত্রে শূণ্য পদ পূরণ হয়নি। মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছেন বুথ পিছু ১০৫জনের চাকরি দিয়েছেন। রাজ্যের কোনও বুথে তেমন ঘটেছে বলে অন্য কোনও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

আইনশৃঙ্খলা তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্বৃত্তদের রসিকতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্যে দিনেরবেলায় মহিলাদের চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে মারা হচ্ছে। তাদের শাড়ি টেনে খুলে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। নারী নির্যাতনে রাজ্য দেশের প্রথম দিকে। রাজ্যে লাগাতার ঘটে চলা ধর্ষণের ঘটনাগুলির একটি বড় অংশের অভিযুক্ত রাজ্যের শাসকদলের কর্মীরা। শ্রমিকদের বেতন চুক্তি হয় না। অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে গত প্রায় সাত বছরে। চা বাগানে হাহাকার। খেতমজুরদের কাজ নেই। একশো দিনের কাজের মজুরি বকেয়া অনেক। যদিও আশ্চর্য কৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের নব্বই ছুঁই ছুঁই বাবা আর বৃদ্ধা মাও রেগার প্রকল্পের টাকা পেয়ে যান। গ্রামবাসীরা মাঝেমাঝে যেটুকু মজুরির টাকা পান, তার থেকেও কাটমানি খায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মীরা। ফসলের ন্যায্য দাম মেলে না। ফড়েদের দৌরাত্ম্য। মহাজনের ঋণের চাপে ব্যতিব্যস্ত কৃষক — ফলে আত্মঘাতী হয়েছেন অনেক কৃষিজীবী। নয়া আর্থিক নীতির প্রয়োগ শুরুর পরে উল্লসিত হয়েছিলেন মধ্যবিত্তের একাংশ। মমতা ব্যানার্জি সেই নীতিকেও আরও প্রবলভাবে প্রয়োগ করেছেন। মোদী আর মমতা ব্যানার্জির এই ক্ষেত্রে কোনও তফাত নেই। ফলে বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত — কারও সুরক্ষার কোনও চিহ্ন নেই।

তাই এখন এই গ্রীষ্মে ওই দুটি মাত্র পথই খোলা আছে। হয় আমরা দধীচি হবো। বিদ্রোহের আকাঙ্ক্ষামথিত ‘কবর’-র শেষ পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করবো অনির্বাণ উপলব্ধিতে — ‘‘মানুষ হবার জন্য যখন যজ্ঞ হবে, আমার হাড়ে অস্ত্র গোড়ো, আমায় করো ক্ষমা।’’ নাহয় নতজানু আমরা অনুব্রতর বোলপুরকে মেনে নেব। সমাজের সব অক্সিজেন শুষে নেবে তৃণমূল কংগ্রেস। আমাদের ভবিষ্যৎ এক এবং একমাত্র — রুদ্ধশ্বাস মৃত্যু।

এ’ কোনও পঞ্চায়েত গঠনের কর্মসূচি নয়। এ’ কোনও রাজ্য সরকার বদলের পূর্বশর্ত নয়। পশ্চিমবঙ্গ থাকবে? নাকি তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে? মহাকালের রথের ঘোড়া এবার আমরা — প্রায় দশ কোটি মানুষ। জবাব খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

Sub head/bold ‘‘একবার তাকাবে না? নিজের মুখের দিকে চোখ ভরে?/ মাঝে মাঝে ফিরে দেখা ভালো নয়?’’(হাজারদুয়ারি, শঙ্খ ঘোষ)

পঞ্চায়েত নির্বাচন সোমবার। বিস্তর সরকারি টালবাহানার পর। ইতিমধ্যেই ১৬-১৭ জন খুন হয়ে গেছেন। নিহতদের মধ্যে সি পি আই(এম) কর্মী আছেন। আছেন ভাঙড়ে জমি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারী। আছেন তৃণমূল কংগ্রেসেরও কর্মী। মমতা ব্যানার্জির হিসাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ৯জন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুন হয়েছেন।

ঘাতকদের পরিচয় একটিই — তারা তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল কংগ্রেস কেন নিজেদের কর্মীকেই মারছে? জঙ্গলের নিয়ম কেন শাসকদলের গঠনতন্ত্রে? কারণ — টাকা, লুটের বখরা, ধান্দা। অনেক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের গোঁজ প্রার্থী নির্বাচনে। তাদের নানা প্রতীক। কিন্তু লক্ষ্য এক — টাকার ভাগ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, মমতা ব্যানার্জি দলের মাঝারি তলাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কারণ টাকার ভাগ, লুটের অংশ সবার চাই। ফলে গোঁজ, বিক্ষুব্ধ প্রার্থী। এছাড়া যারা গোঁজ হননি, তারা কোথাও কোথাও দলেরই প্রার্থীকে হারিয়ে দিতে পারেন। এমন আশঙ্কাও প্রবল হয়েছে। এরই পরিণতি — তৃণমূলী মারছে তৃণমূলীকে।

পঞ্চায়েত নির্বাচন কোনক্রমে করে সব দখল নেওয়ার ভাবনা এই কারনে। ওরা ভয় পাচ্ছে। ভয় পাচ্ছে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে। ক্রমাগত অনিশ্চয়তা গড়ে তুলেছে নির্বাচন নিয়ে — ছলে, অছিলায়। ওদের ভয় নির্বাচিত মানুষের পঞ্চায়েতকে।

কেন? প্রশ্ন অনেকের। এমনকি বিধানসভা ভোটে যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন — প্রশ্ন তাঁদেরও। ১৯৭৮-এ একশো শতাংশ আসন জিতবে না জেনেও বামফ্রন্ট পঞ্চায়েত নির্বাচন চেয়েছিল। কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্তর কথায়,‘‘বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে অনেক সময় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব হয় না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকেই নির্বাচিত করতে চাই। সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’’(১৯৭৮, ১৯শে এপ্রিল, কলকাতা)।

গ্রামের মানুষের হাতে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা নিয়ে মমতা ব্যানার্জির কী মনোভাব? মানুষের হাতে ক্ষমতা তাঁদের ভাবনায় নেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কিছু জায়গায় পরাজিত হলে লোকসভায় ধাক্কা খাবে দল — মমতা ব্যানার্জির আশঙ্কা এটিই। ইতিমধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত-কাণ্ডের কথা, ৩৪ শতাংশ বিনা প্রতদ্বন্দ্বিতার ছবি পৌঁছেছে জাতীয় পর্যায়ে। পশ্চিমবঙ্গ ভালো নেই, কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে চলেছে — দেশ জেনেছে। আরও আশঙ্কা — পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলার সরকারের একাংশও হাতছাড়া হলে নবান্নের ক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া। মমতা ব্যানার্জি দাবি জানিয়েছেন — ‘‘যে দল রাজ্যের সরকারে তাদের হাতে পঞ্চায়েত থাকলে সুবিধা।’’ মোদ্দা কথা —একটিই মুখ্যমন্ত্রী — ক্ষমতা একটি হাতে।

শেষ কবে দেখা গেছে এমন? দেখেছি? ২০১৩-য় দেখেছি। তার আগে?

হার অথবা জিত — যাই হোক, ভোট হবে ভোটের সময়, এই তো আমরা জেনে এসেছি। ইতিহাস বলছে, ১৯৭৭-এ সরকার গঠন করার পর সরকারের এক বছর গড়াতেই পঞ্চায়েতের নির্বাচন করেছিল। ১৯৭৮-এ। ভোট হয়েছিল ৪ঠা জুনে। বামফ্রন্ট ৯০ শতাংশ আসনে জিতেছিল — বিষয়টি মোটেই তেমন হয়নি। পঞ্চায়েত স্তরে ৩১শতাংশ আসন সেই ১৯৭৮-এও বামফ্রন্ট বিরোধীরা জিতেছিলেন। বামফ্রন্ট কী তার আঁচ পায়নি? পেয়েছিল, তখন সেটিই স্বাভাবিক ছিল। তবু বামফ্রন্ট নির্বাচন করেছিল।

দুটি দল, দুটি মত, দুটি দর্শন — তার তফাত। কে মুছবে? এমন যোগ্য ডাস্টার আছে নাকি?

নেই। থাকতে পারে না।

তাই প্রতিরোধও দানা বাঁধছে। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুটি বৈশিষ্ট্য চমৎকার। প্রথমত, বামফ্রন্টের অনেক প্রার্থী গরিব পরিবারের। খেতমজুর, দিনমজুর, ছোট কৃষক, কারখানার শ্রমিকরা অনেকে এগিয়ে এসেছেন। শাসকের আততায়ীদের ঘেরাটোপ ভেঙে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বামফ্রন্টের হয়ে দাঁড়িয়েছেন অনেক মহিলা। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কদর্য আচরণ, উচ্চারণ মাড়িয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন তৃণমূল কংগ্রেস বুথ দখল করে দেদার ছাপ্পা দিলে কী এই সব আলোর কথা ম্লান হয়ে যাবে?

কে বলে? বরং ‘হৃৎকমলে’ সেই চিত্তপ্রিয় ঘোষ হৃদয়ে শঙ্খধ্বনির ভাষায় কী এঁকে দিয়েছেন বর্ণমালায়, একবার শুনে নিই — ‘‘চিতা যখন জ্বলছে, আমার হৃৎকমলে/ ধুম লেগেছে, ধুম লেগেছে চরাচরে, পাপড়ি জ্বলে/এই তো আমার/ এই তো আমার জন্মভূমির আলোর কথা।’’

কবির এখন ৮৬। স্বাধীনতার প্রায় ৭১। আমি বাংলা — আমি তরুণ — আমার পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ!

‘‘শূণ্যতাই জানো শুধু? শূণ্যের ভিতর এত ঢেউ আছে/ সেকথা জানে না?’’ (শূণ্যের ভিতর ঢেউ)

(হৃৎকমল, শঙ্খ ঘোষ)

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement