‘উন্নয়নের’ কবজায় গণতন্ত্র

সুদীপ্ত বসু

২০ মে, ২০১৮

‘ভোট ওয়ান ডে ম্যাচ। ম্যাচের দিন ঠিকঠাক খেলাটাই জরুরি’।

ভোটের মাত্র দুদিন আগে তৎকালীন রেলমন্ত্রী আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন।

‘জাগো বাংলা’ তখনও দিনের আলো দেখেনি। তাই ‘উন্নয়নে’ মজে যাওয়া বুদ্ধিজীবীরা পারলে সরকার বাড়ির কাগজ কিংবা ‘ভগবান’কে ভয় পেয়ে শাসকের মুখপত্রে পরিণত হওয়া কাগজের আর্কাইভ ঘাঁটলেও পাবেন এই বাণী।

২০০০ সাল, পাঁশকুড়া উপ-নির্বাচন। কুখ্যাত সেই নির্বাচন, রক্তাক্ত হিংস্র পাঁশকুড়া লাইন। ৩রা জুন সাংবাদিকদের কাছে মমতা ব্যানার্জি ওয়ান ডে ম্যাচের কথা শুনিয়েছিলেন। ৫ই জুন ভোট শেষের পরে যখন বামফ্রন্ট পুর্নির্বাচনের দাবি করে তখন মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ ইটস্‌ বাই অ্যান্ড লার্জ ওকে’। কেশপুরের সেই রফিকের পিঠ চাপড়ে বলা হয়েছিল, ‘ওয়েল ডান। বাপের ব্যাটার মতো কাজ করেছিস’।

কী সেই ‘বাপের বেটার মতো কাজ’? ১৪ই মে’, ২০০০। ভোটের আগে কেশপুরে নির্বাচনী সভায় আজকের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, ‘সি পি এম কর্মীদের হাত- পা কেটে নিন’। সেই কাজই করেছিলেন কেশপুরের রফিক। জুটেছিল ‘শাবাশি’।



তবুও কেষ্টা মমতা হতে পারলেন না...

এখন তিনি সরকারেই। একচ্ছত্র দাপট। রেগা থেকে মিড ডে মিল, বিরোধী কর্মী সমর্থকের বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র, বুথ থেকে ব্যালট বক্স—সর্বত্র সেই দাপট। কোন লুকোচুরি নেই, প্রকাশ্যে। তোলাবাজিও প্রকাশ্যে, হুমকিও প্রকাশ্যে, বিরোধী দলের সমর্থক হলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার পরে ‘শর্ট সার্কিট’র তত্ত্ব নামানোও প্রকাশ্যে, বুথ লুট করে প্রকাশ্যে ছাপ্পা মারা, গণনাকেন্দ্রের ভিতরেও ছাপ্পা, জেতার পরে শংসাপত্র কেড়ে নেওয়া, সবই প্রকাশ্যেই। আর সব আয়োজন শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অমৃতবাণীও নবান্ন থেকে দিয়েছেন তিনি, প্রকাশ্যেই। ভোট লুট থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস কোনকিছুতেই যেন বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই। ‘আমি ক্ষমতায়, যা খুশি করতে পারি’-এই মনোভাব পাড়াতুতো তৃণমূল থেকে নবান্নের ১৪তলা, সর্বত্র।

সেদিন ‘শাবাশি’ জুটেছিল মহম্মদ রফিকের। আজকে শাবাশি জুটছে অনুব্রত-আরাবুলদের। খুন,সন্ত্রাসের অভিযোগে জেলে বসে পুলিশকে দিয়েই বুথ লুট করে জয়ী আরাবুলকে প্রকাশ্যেই শাবাশি দিয়ে বলেছেন ‘জনপ্রিয় নেতা’।

অনুব্রত মণ্ডল আবার শাবাশির পর্যায়ও পেরিয়ে গেছেন। কার্যত গোটা জেলাকে বিরোধীশূন্য করে দিয়ে ফের হুংকার দিয়েছেন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে। ২০১৩’র পঞ্চায়েতে পুলিশকে বোমা মারার হুমকি দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ‘উন্নয়ন’ দিয়ে বিরোধীদের ঘরবাড়ি জ্বালানো, গুলি করে খুন করা, মনোনয়ন ঠেকানো সবই চলেছে। তবুও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘দক্ষ সংগঠক’। আর মিডিয়ার কাছে ‘মজার মানুষ’। সুকৌশলে একটা হিংস্র, নৃশংস ব্যক্তিকে সামাজিক বৈধতা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা মিডিয়ার একাংশের। তাঁকে নিয়ে গানও বাঁধেন তৃণমূলী গায়ক। শুধু বিরোধীদের ‘খিস্তি’ নয়, উন্নয়নের কবলে এখন ‘কবি’ও। নৈরাজ্যের সর্বগ্রাসী চেহারায় এটাই যদিও স্বাভাবিক!

অনুব্রত’র সঙ্গেই জোরালো টক্কর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। মুকুল বিদায়ের পরে দলে মমতা ব্যানার্জির পরে সবচেয়ে প্রভাবশালী। সেই ভাইপোর লোকসভা কেন্দ্রের কোন মানুষ এবার ভোটের লাইনেই দাঁড়াতে পারলেন না। গোটা এই লোকসভা কেন্দ্রে ৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির ২৯৮টি আসন ও জেলা পরিষদের ২০টি আসনে বিনা ভোটে জয়ী। একজনও বিরোধী প্রার্থী নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভাইপোর এই কারবারে মদত জুগিয়ে পিসির গলাতেও একই সুর, ‘ বিরোধীরা অনেক জায়গায় নিজেরাই প্রার্থী দিতে পারেনি’। ভাইপো নিশ্চুপে, অনুব্রত সরবে। গণনার দিন গণনাকেন্দ্র থেকে পুলিশ সরিয়ে তা দখল নেওয়া থেকে শুরু করে রিটার্নিং অফিসারকে ফোন করে তৃণমূলী প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার হুমকি- এই বাংলায় ২০১৮’র নির্বাচনকে ‘বেনজির’ করে রাখবে ইতিহাসের পাতায়।

তবুও আজকের অনুব্রত থেকে আরাবুলরাও লজ্জা পাবেন তাঁদের দলনেত্রীর হুমকির ভাষা শুনে। এখনও, শাসকদলে থেকেও তাঁরা কেউই ‘মমতা ব্যানার্জি’ হতে পারেননি। নির্বাচনী জনসভায় বিরোধী দলের হাত-পা কেটে নেওয়ার বাণী এখনও প্রকাশ্যে দিতে পারেননি অনুব্রত মণ্ডলও!



‘আকাশ ভরা সূর্য তারা...

মমতা ব্যানার্জির রাজত্বে এটি দ্বিতীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে নবম পঞ্চায়েত নির্বাচন।

২০১৩ সালের পঞ্চায়েতে ভোটের আগেই শাসক তৃণমূল জিতে যায় ৬২৭২টি আসনে। ভোটের দিন সম্পূর্ণ দখল করে নেওয়া হয়েছিল ৪৪৭১টি বুথ। ১০হাজারেরও বেশি বুথে কার্যত ভোটই হয়নি, সকাল ৯টার মধ্যেই দখল সম্পূর্ণ। রক্তপাতের আবহে ভোট, গণনাতেও রক্তপাত। রাজ্যের সিংহভাগ গণনাকেন্দ্রে সেবারও ঢুকতেই পারেননি বামফ্রন্টের পোলিং এজেন্ট।তার আগে আবার নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে কমিশন-সরকারের দ্বন্দ্ব, আদালত সবই চলেছে।

যদিও সেই ২০১৩’র ভোটকেও ম্লান করে দিয়েছে ২০১৮সালের এই নির্বাচন। অনেক, অনেকদিন মনে রাখবে রাজ্যবাসী, মনে রাখবো আমরাও।

কার্যত নয়, বাস্তবিকও ‘যুদ্ধ’ চলেছে গত একমাস। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই শুরু। মনোনয়নের প্রথম দিন থেকে হামলা। সি পি আই(এম) নেতা,কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, সরকারি আধিকারিক, কেউ বাদ যায়নি। বি ডিও অফিসে প্যান্ডেল করে রাত জেগেছে সশস্ত্র ‘উন্নয়ন’ বাহিনী। শুধু মনোনয়ন জমা দেবে, তার জন্য বন্দুক, লাঠি, লোহার রড, বোমার ব্যারিকেড পেরোতে হয়েছে এরাজ্যের ভোটপ্রার্থীদের ।প্রথমবারের মনোনয়ন ও পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফায় চার ঘণ্টার আরেকদিনের মনোনয়ন- হামলা, আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। সশস্ত্র বাহিনী মোকাবিলা করে ভিতরে ঢুকে মনোনয়ন দিতে হয়েছে, সেখানেও রেহাই মেলেনি। বি ডি ও, এস ডি ও’র সামনেও হামলা।বন্দুক উঁচিয়ে মার। সবই,বাদ যায়নি সন্ত্রাসের কোন চেহারাই।

সন্ত্রাসের সেই পর্বে পানমণি মাড্ডি থেকে ছবি ওরাঙ, ভুবন সামন্ত থেকে রিয়াজুল শেখ- প্রতিরোধ, সাহসের হাজারোর রঙিন উপাখ্যানের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। অনুব্রত’রা নয়, রাজ্য জুড়ে লড়তে থাকা প্রতিটি জনপদে তাঁরাই আমাদের ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’।

গোটা দেশ দেখেছে স্রেফ বিরোধী দল বিশেষত সি পি আই(এম) প্রার্থী হতে চেয়েছে বা হবে বলে ঘর পুড়েছে,ঘরছাড়া হয়েছে, বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে,স্বামীর কাজ গেছে, স্ত্রীর নাম বাদ গেছে রেগার তালিকা থেকে, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সাড়ে চার বছরের সন্তান নিয়ে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছে মা’কে, গোটা পরিবার নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হতে হয়েছে। কেউ কেউ আর ‘সহ্য’ করতে পারেননি, বাধ্য হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারে, বন্দুকের নলের সামনে সেই অসহায়তার মানে হয়তো কংক্রিটের রাস্তায় জীবন কাটানো একাংশের ‘আমরা’ হয়তো নাও বুঝতে পারি। তবুও কেউ কেউ লড়েছেন, লড়েছেন প্রতি রক্তবিন্দু বন্ধক দিয়েছে। লালঝান্ডার জন্য, জীবনের জন্য, ভালবাসার জন্য।

এই সব মিথ্যা হয়ে যেতে পারে না সবুজ আবিরে বিজয়োল্লাসের ছবিতে। চেষ্টা থাকবে সব কিছুই নস্যাৎ করে দিয়ে সাজানো, মেকি চিত্রনাট্যের জয়কে ‘সর্বশক্তিমান’ হিসাবে দেখানোর। লড়াইয়ের একটা জরুরি অধ্যায় তাই, স্রেফ লালঝান্ডার জন্য সর্বস্ব বাজি রেখে লড়াইতে থাকা প্রতিটি চেতনাকে আগলে রাখা, বাঁচিয়ে রাখা। এরাজ্যে মমতা ব্যানার্জিকে নবান্নের ১৪তলায় রেখে কোন নির্বাচনই সম্ভব নয়। সামান্য স্কুল কমিটির নির্বাচনেও এখন ‘উন্নয়ন বাহিনী’র সঙ্গে লড়তে হয় মানুষকে। আর সেই প্রতি নির্বাচনে লড়াইয়ের, সাহসের প্রতিটি ‘উদাহরণ’-ই হোক আগামীর রসদ।



মমতার শান্তিপূর্ণ ভোট...

স্রেফ একদফার ভোটের দিনই খুন হয়েছে ২৩জন। ভোটের পর থেকে ৪৮ ঘণ্টায় খুন হয়েছেন ৩২জন। মনোনয়ন পর্ব থেকে হিসাব ধরলে সেই হিসাব দাঁড়ায় ৫০। পঞ্চাশ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে গ্রামের সরকার গড়ার লড়াইয়ে। তারপরেও হিমশীতল মুখভঙ্গীতেই মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ভোটের তত্ত্ব আওড়েছেন। ‘গণতন্ত্র আছে, এখানে তাই সুষ্ঠু ভোট। এত বড় নির্বাচনে কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনাও যদি হয়, আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছি’।

মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যখন এই কথা, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীয়ার মাজদিয়ায় গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকেই ছাপ্পা দিচ্ছেন তাঁর দলীয় বাহিনী।তবুও ১০০শতাংশ দখলদারি সম্পূর্ণ হয়নি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তা বিচারাধীন। মনোনয়ন পর্বেই জেলা পরিষদের ২৫শতাংশ আসন থেকেই বিরোধীদের হটিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। পঞ্চায়েত সমিতির ৩৩শতাংশ আসনও বিনা ভোটে দখল করেছেন। আর পঞ্চায়েতের ১৬হাজার ৮১৪আসনে ভোটই হলো না। তবুও শংসাপত্র মেলেনি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর তাকিয়ে থাকতে হবে সবুজ আবির মাখতে চাওয়া সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের।

রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ, সমবায়ের নির্বাচনও বন্দুকের নলে। ২০১৩’র পঞ্চায়েত ভোট থেকে ২০১৫’র পৌরসভা ভোট, বিধানসভা ভোট, একাধিক কেন্দ্রের উপনির্বাচন- সেই একই চিত্রনাট্য। খুব সুকৌশলে এরাজ্যের একটা বড় অংশের নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটদানের ইচ্ছাকেই ‘খুন’ করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকেই নিস্পৃহ করে দেওয়া হচ্ছে।



মহম্মদ সিদ্দিকুল্লার চোখে আমার জন্মভূমি...

একমাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নির্বাচন পর্বে, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়েও কোন প্রচার সামনে আসতে পারলো না। কেন গ্রাম স্তর পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণ, কেন গ্রামের খেতমজুর, গরিব কৃষকও গ্রামের উন্নয়নে মত দিতে পারে, পঞ্চায়েত কীভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির সহায়ক হয়ে উঠতে পারে— কোন কিছুই আসতে পারলো না নির্বাচনী প্রচারে। সামনে এসে দাড়ালো শুধুই ‘উন্নয়ন’র বীভৎস, পচা গলা চেহারা!

এই দায় অনেকদিন বইতে হবে মমতা ব্যানার্জিকে। ভুলতে চাইলেও তাঁকে ভুলতে দেওয়া হবে না!

সেদিন সকালে তখন ‘ভোট’ চলছে ভাঙড়ে।অবাধে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আরাবুল বাহিনী, সঙ্গে পুলিশ। ভোট দিতে যাওয়ার অপরাধে ততক্ষণে একাধিকজন হাসপাতালে, একাধিক গ্রামবাসী নিখোঁজ। সেই সময়তেই মাছিভাঙা গ্রামের বুথকেন্দ্রের বাইরে দেখা মিলেছিল মহম্মদ সিদ্দিকুল্লার সঙ্গে। তাঁর প্রতিটি উচ্চারণ-ই আজকের বাংলার নির্মম নির্মোহ বিশ্লেষণ। ‘ দেখুন আমাদের একাংশই তো আরাবুলদের দলকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল তাই এনেছিলাম। আজ টের পাচ্ছি। কিন্তু সি পি এমের অনেক দোষ থাকলেও ওঁরা গরিবের কথা ভেবেছিল। জমি, কৃষক, পঞ্চায়েত এসব করেছিল।কিন্তু সবচেয়ে বড় সাফল্য কী জানেন? তা হলো প্রতিবাদ করা শিখিয়েছে। এই যে রেগার দুর্নীতি প্রতিবাদ কিংবা ভাঙড়ে জমি নিয়ে প্রতিবাদ কিংবা আজ সকালে ভোট দিতে না পারা মানুষ সমানে লড়াই করছে ভোট দেবে বলে, এই বোধটাই খুব সূক্ষ্মভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে সি পি এম। তারজন্য এখনও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে’।যখন বলছেন তিনি একথা তখন পাশে দাড়িয়ে ইংরেজি দৈনিকের এক সাংবাদিক। সেই বলে উঠল সিদ্দিকুল্লা সাহেবকে,‘দাদা আপনি খুব সহজেই অনেক কথা বলে দিতে পারলেন, ধন্যবাদ। কপি লেখার সময় মাথায় থাকবে কথাটা’।



কালক্ষেপ নয়, শুরু হোক প্রস্তুতি...

হ্যাঁ, লুট হওয়া প্রহসনের এই নির্বাচনের ফলেও প্রহসনের চিত্র স্পষ্ট। খাতায় কলমে তবুও ‘লালঝান্ডা’ হেরেছে। এটা সত্য, তবে খণ্ডিত সত্য।

লড়াইয়ের অনেক রঙিন চিত্র ঐ খণ্ডিত সত্যের চেয়ে এই মুহূর্তে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের কাছে। অস্ত্র দিয়ে, বন্দুক দিয়ে লালঝান্ডাকে হারানো যায়— এই স্বাদ তৃণমূল অনেকদিন ধরেই পেয়েছে।আবার মরিয়া প্রতিরোধ করেও ঠেকানো যায় তৃণমূল-বি জে পি’কে, চিত্রের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী।

নৈরাজ্যের অন্ধকার আরও ঘনীভূত হবে নাকি মহম্মদ সিদ্দিকুলার অবিশ্বাস্য উপসংহারের হাত ধরে প্রতিরোধের নয়া স্তরে পৌঁছাবে লড়াকু প্রতিটি চেতনা- তা ভাবীকালের জন্য তুলে রাখতে পারি না। তার মীমাংসা করতে হবে খুব দ্রুত, পারলে আজ থেকেই শুরু হোক সেই প্রস্তুতি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement