প্রাপ্য টাকা পায়নি
শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি, ১২ই সেপ্টেম্বর— রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভাগুলি তাদের প্রাপ্য ন্যায্য টাকা পেলেও একমাত্র বঞ্চনার শিকার শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন। শুধুমাত্র বিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত বলেই রাজ্য সরকারের কাছে ন্যায্য পাওনা থেকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হয়ে চলেছে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কাছে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের বকেয়া পাওনা মোট ৩৩৩কোটি টাকা। মঙ্গলবার দুপুরে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়ে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এছাড়াও এস জে ডি এ-র কাছেও আমাদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ সাড়ে ছকোটি টাকা। বহুবার ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেবার বিষয়ে দরবার করেছি। চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুরো টাকা না মিললেও আশা করেছিলাম বকেয়া টাকা পাব। কিন্তু দিন দিন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কর্পোরেশনের পাওনার পরিমাণ বাড়ছে। তবুও বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন নিজেদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও শহরের বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ করে চলেছে।

এদিন মেয়র বলেন, শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের উদ্যোগে আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর মিত্র সম্মিলনী হলে শহরের নাগরিকদের নিয়ে নাগরিকসভা হবে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করার লক্ষ্যেই এই সভা করা হবে। বিশেষ করে জল ও ডেঙ্গু এই দুটি সমস্যা নিয়ে নাগরিকসভায় আলোচনা হবে। এছাড়াও আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি কর্পোরেশনকে। সেই বিষয়টিও মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে নাগরিকসভার মাধ্যমে। পাশাপাশি শহরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

‘রাজ্য সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছে’ সম্প্রতি পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের এই কথার পরিপ্রক্ষিতে এদিন অশোক ভট্টাচার্য তথ্য প্রমাণ দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গত দুবছরে মশার ওষুধ, স্প্রে ও এই সংক্রান্ত বিষয়ে ৩৫লক্ষ ৬৪হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে। এই বছর কোনও টাকা এখনও পর্যন্ত কর্পোরেশন পায়নি। যা কিছু কাজ হচ্ছে সমস্তই কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধ আয় থেকেই করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের আয় থেকেই সার্ভে, লেবার ও সাফাইকর্মীদের বেতন দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাউসিং ফর অল প্রকল্পে ৮০কোটি টাকা ছাড়াও সলিড ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্টে ৫০কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আম্রুত প্রকল্পে ৫০কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। মোট প্রায় ১৫০কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প আম্রুত প্রকল্পাধীন পরিশোধিত পানীয় জল, স্বচ্ছ ভারত, হাউসিং ফর অল, স্মার্ট সিটি, কঠিন বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত নাগরিকরা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ডেভেলপমেন্ট অব মিউনিসিপ্যাল এরিয়া, বি এম এস, আর্বান এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস, বি আর জি এফ, নির্মল বাংলা, তৃতীয় রাজ্য অর্থ কমিশন, সৌন্দর্যায়ন ইত্যাদি নানা প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত শিলিগুড়ি।

শিলিগুড়ি শহরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই মেয়র নিজে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছেন। এদিনই পাঁচজন বরো চেয়ারম্যানদের সাথে একটি বৈঠকে যোগ দেন মেয়র। বৈঠক শেষে মেয়র সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যানরা প্রত্যেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের সাজেশন দিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওয়ার্ড ভিত্তিক আরো নিবিড় সচেতনতা প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর দুপুরে বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ক্লাবের সাথে বৈঠক করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারে তারাও যাতে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করেন সেবিষয়ে তাদের কাছে আবেদন জানানো হবে। এছাড়াও আসন্ন শারদোৎসবে মণ্ডপে মণ্ডপে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার চালানোর জন্যও শহরের প্রতিটি ক্লাবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে ভট্টাচার্য বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়িয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে পরিষ্কার হয়েছে মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি। মানুষের অভিযোগ, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে সময় মতো চিকিৎসা হচ্ছে না। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে সাতদিন সময় লেগে যাচ্ছে। মেয়র বলেন, সোমবার ১৮ এবং ২০নং ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জ্বরে আক্রান্তরা প্রত্যেকেই প্রাইভেটে চিকিৎসা করাচ্ছেন। মানুষ বলছেন, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে দেরি হওয়াতেই তাঁরা প্রাইভেটে ছুটছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাল্টি হাসপাতাল কোথায় গেল ?

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্যদপ্তরের আরো সক্রিয়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয় নিয়ে মেয়র বলেন, সব জ্বর যে ডেঙ্গু নয় তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জ্বর হলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এই দায়িত্ব স্বাস্থ্যদপ্তরকেই নিতে হবে। এন এস ওয়ান ডেঙ্গু নয়। তিনি জানান, কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্প্রে, ব্লিচিং পাউডার প্রতিদিনই ছড়ানোর কাজ চলছে। এই সমস্ত কাজের জন্য প্রতিটি বরোতে অতিরিক্ত ১০জন করে লেবারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও কর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারের অঙ্গ হিসাবে পথনাটক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র জানান, বেশ কয়েকটি সংস্থার সাথে কথা হয়েছে। এদিনও মেয়র শহরবাসীর প্রতি আবেদন জানান, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না, আতঙ্ক ছড়াবেন না। ডেঙ্গু সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, পৌর নিগমকে ও স্বাস্থ্যদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করুন।