ভাঙনের আতঙ্কে গিলাণ্ডি
নদীপাড়ের বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা

ধূপগুড়ি, ১২ই সেপ্টেম্বর— মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক সকলেই এসেছেন এই অজ গ্রামে। যন্ত্রণায় সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। ভেবেছি, কষ্ট দূর হবে। পরে বুঝলাম, প্রতিশ্রুতিই সার।

এমনই যন্ত্রণার কথা শোনালেন গিলাণ্ডি নদীপাড়ের বাসিন্দা জনা চল্লিশেক সাদাসিধে মানুষ। এরা ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড়আলতা ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৫/৬৫নং বুথের পূর্ব ডাউকিমারির বাসিন্দা। এই বুথের অধীন কয়েকটি পরিবার নদীর অন্য প্রান্তে থাকেন। বাকিরা ঝাড়আলতা ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য খট্টিমারির কানাঘাই গ্রামের বাসিন্দা। ১২ই আগস্টের বন্যায় ১৩০হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো ভেঙে গেলেও স্থানীয় তৃণমূলী পঞ্চায়েত থেকে ব্লকের কোনও আধিকারিক খোঁজ করেননি গ্রামবাসীরা কেমন আছেন !

ডাউকিমারি বাজার থেকে কানাঘাই গ্রামে যেতে ৩কিমি কাঁচা পথে সাইকেল চালানো দুষ্কর। বন্যার পরে রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত। গিলাণ্ডির পাড়ে গ্রামের তৃণমূলকর্মীরা তাস খেলছিল। তারাই ঘাট পারাপারের জন্য ১০-২০টাকা নেয়। সাঁকো পেরিয়ে কানাঘাই গ্রামে পৌঁছে দেখি, নানা বয়সের মানুষ জড়ো হয়েছেন। এক বয়স্ক মানুষ বললেন, লোকসভা ভোটের সময় বলেছিলাম সেতু না হলে ভোট দেব না। তৃণমূলনেতারা প্রার্থী বিজয় বর্মণকে নিয়ে এলে তিনি জানান, ভোট শেষ হলে ব্রিজের ব্যবস্থা হবে।

তিনি সাংসদ হওয়ার পরে আর খোঁজখবর নেন না। বিধানসভা ভোটের সময় আবার বললাম, ভোট দেব না। প্রার্থী মিতালি রায়, মন্ত্রী গৌতম দেব বললেন, ভোট শেষ হলেই ব্রিজের কাজ হবে। পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের এনে মাপজোক করা হোল, ম্যাপ তৈরি হোল। ব্রিজ হলো না। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান অরুণ সরকার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।

মিঠু চৌধুরি, সুশীল সরকার, সবিন রায়, ধনেশ্বর ভগতসহ অনেকেই বললেন, বন্যায় পঞ্চায়েতের বানানো সাঁকো ভেঙে গেছে। ছয়মাসও টিকলো না। চাঁদা তুলে দুই দফায় ১লক্ষ ২০হাজার টাকা খরচ করে বানানো সাঁকোটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ফসল হাটে নিয়ে যাওয়া থেকে ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজ, হাসপাতালে যাওয়া সবই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। বেশি অসুবিধা হয় গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ মানুষদের নিয়ে। ৩কিমি হেঁটে ডাউকিমারি। সেখানেই সব থেকে কাছের স্কুল-হাটবাজার-উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সব। নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে পূর্ব ডাউকিমারি বুথের দিকে চর জাগছে। মধ্য খট্টিমারির দিকটি তলিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ১৯৬৭সালে জলপাইগুড়িতে তিস্তার বন্যায় সব হারিয়ে এতদূরে এসে থাকছি। তখন লাল পার্টি থেকেই এই জমিতে বসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গিলান্ডির ভাঙনে আমরা শঙ্কিত। কয়েকজন ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র গেছেন। অনেকে জমি হারিয়ে দিনমজুর হয়েছেন। নদীপাড়ে গিয়ে দেখা গেল নদীর জলে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি পোঁতা। স্থানীয় মানুষ বললেন, পঞ্চায়েতের চুরির নমুনা। বাঁশের খুঁটি পুঁতে মাটির বস্তা ফেলে নাকি নদীর ভাঙনরোধ হবে। এক বস্তা মাটি দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের সব টাকা হাপিস। গ্রামবাসীরা আরো জানালেন, কয়েক মাস বাদে পঞ্চায়েত ভোট। ফের কী নাটক নিয়ে হাজির হন সাংসদ-বিধায়ক-মন্ত্রী তাই দেখার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement