এরাজ্যে তৃণমূল, দেশে বি জে পি
হিংসার লাইনে দুদলই একরকম

অমিত শাহ প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১২ই সেপ্টেম্বর— বি জে পি নেতাদের মুখে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের অপশাসনের অভিযোগ মানায় না। মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেছেন বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যা করছে, সারা দেশে তেমনই চালাচ্ছে বি জে পি।

বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যে এসে অপশাসনের কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গেই এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নে সুজন চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গে যে হিংসাত্মক ঘটনাবলী বাড়ছে সেটা বোঝার জন্য বিশেষ কোনও তথ্য লাগবে না, খালি চোখেই মানুষ তা দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু, বি জে পি-র যে নেতারা এরাজ্যে হিংসার বাড়াবাড়ি নিয়ে কথা বলছেন, দেশেরই অন্য এলাকায় হিংসাত্মক কাজকর্মের জড়িত থাকার জন্য তাদের এখন জেলে থাকা উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যা করছে, বি জে পি সারা দেশে সেই কাজই করছে। হিংসার ব্যাপারে ওরা এক লাইনেই আছে।

সুজন চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার হাল অত্যন্ত লজ্জার। প্রতিদিন কীভাবে মহিলাদের ওপরে অত্যাচার ও অপরাধের ঘটনা ঘটছে সেটা সবাই দেখতেই পাচ্ছেন। কিন্তু, বি জে পি-র নেতাদের মুখে এসব কথা শোভা পায় না। বি জে পি-র যারা এখন এসব বলছে গুজরাটের ঘটনাবলীর জন্য তাদের এখন জেলে থাকার কথা। দিদিভাই এবং মোদীভাই এক লাইনেই চলছেন। এরা এখানে দুর্নীতি করছে, ওরা ওখানে ব্যাপম কেলেঙ্কারি করছে। তবুও ওরা পরস্পরের বিরোধিতা করার নামে জনগণের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। সবটাই গট আপ গেম।

সরকারের আর্থিক হাল নিয়ে আরেকটি প্রশ্নের জবাবে সুজন চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল সরকারের কোনও আর্থিক শৃঙ্খলা নেই। সরকারি বিভিন্ন খাতের টাকার অপব্যবহার হচ্ছে। এই কারণেই সরকার চাইছে না বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বিরোধীদলের কারোর হাতে যাক। সরকারি খরচে বেনিয়ম আছে বলেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে ওদের এতো ভয়!

দার্জিলিঙের পাহাড় নিয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, পাহাড়ে পরবর্তী মিটিংয়ের দিন এত পিছিয়ে ঠিক করা হয়েছে কেন? সরকারের কী সমাধানের কোনও ইচ্ছাই নেই? পাহাড়ে এতদিন ধরে বন্‌ধ চলাটা ঠিক বলে আমরা মনে করি না। ওখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিত। চুক্তি অনুসারে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করে এতদিনে সমস্যার সমাধান করে ফেলা উচিত ছিল। এতদিন সমাধান না হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী বলে মনে করি। মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে শাসনের নীতি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করেছেন।