এ ডি এম কে-র শীর্ষ পদ
থেকে অপসারিত শশীকলা

সংবাদসংস্থা

চেন্নাই, ১২ই সেপ্টেম্বর — দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে শশীকলা নটরাজনকে সরিয়ে দিল এ ডি এম কে। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নিল তামিলনাড়ুর শাসক দল এ ডি এম কে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলে কোনও সাধারণ সম্পাদকের পদই থাকবে না। কারণ দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা এম জি রামচন্দ্রন জয়ললিতা ছাড়া আর কাউকেই ওই পদে তাঁরা মানতে পারবেন না। ফলে ওই পদটি আর রইলো না।। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে এ ডি এম কে-র শীর্ষপদ থেকে অপসারিত হয়ে গেলেন শশীকলা। কিন্তু জয়ললিতার নাম করে যেভাবে শূন্য রাখা হলো দলের শীর্ষপদ, তাতে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা আদৌ শশীকলা আর করতে পারবেন বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক মহল। শশীকলা শিবিরকে সরকার এবং দলের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে প্রায় সম্পূর্ণই সরিয়ে দিতে সফল হলো পন্নিরসেলভাম এবং পালানিস্বামী শিবির। এদিনের সাধারণ পরিষদে পন্নিরসেলভাম কো-অর্ডিনেটর এবং মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ চালাবেন বলে স্থির হয়েছে। দলীয় পদগুলিতে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এইভাবেই দলের কাজকর্ম চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

দুর্নীতি মামলায় ফেঁসে শশীকলা বর্তমানে বেঙ্গালুরুর জেলে বন্দি। জেলে যাওয়ার আগে শশিকলা দলের রাশ নিজের হাতে রাখতে উপসাধারণ সম্পাদক পদে বসিয়ে গিয়েছিলেন নিজের ভাইপো টি টি ভি দিনকরণকে। এদিন সাধারণ পরিষদের এই বৈঠক আটকানোর খুব চেষ্টা করেছিলেন দিনকরণ। তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা মাদ্রাজ হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়ে বৈঠকে স্থগিতাদেশ জারির আর্জি জানান। কিন্তু হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি। ফলে চেন্নাইতে প্রায় ২০০০ প্রতিনিধিকে নিয়ে এদিন সকালে বৈঠকে বসেন পালানিস্বামী, পন্নিরসেলভমরা। একইসঙ্গে এদিনের বৈঠক থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শশীকলার সিদ্ধান্তগুলিও বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দিনকরণের নিয়োগও সেই অর্থে বেআইনি বলেই বিবেচিত হবে। পন্নিরসেলভাম এবং পালানিস্বামী গোষ্ঠী যেভাবে জয়ললিতাকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে দলীয় কর্মীদের আবেগ সম্পূর্ণই তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলেন। পাশাপাশি শশীকলা শিবিরের পক্ষে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা একপ্রকার অসম্ভবও করে তুললেন। জয়ললিতার মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিবাদে দুভাগ হয়ে গিয়েছিল এ ডি এম কে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পন্নিরসেলভাম পরে হাত মিলিয়েছেন। এই মিলনের পূর্ব শর্ত ছিল দলের শীর্ষপদ থেকে এবং দল থেকে শশিকলাকে সরাতে হবে। এ দিনের সাধারণ পরিষদ বৈঠকে সেই শর্তই পূরণ করার চেষ্টা হলো। এ ডি এম কে-র সাধারণ পরিষদের সভার বৈধতা খতিয়ে দেখবে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।