সাম্প্রদায়িক উসকানিতে সন্ত্রস্ত
মানুষের পাশে সাংসদ

নিজস্ব সংবাদদাতা

রায়গঞ্জ, ১২ই সেপ্টেম্বর — শান্ত উত্তর দিনাজপুর জেলায় যারা ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানালেন সি পি আই (এম) সাংসদ মহম্মদ সেলিম। এক সপ্তাহ ধরে রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া ও বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি গ্রামে ধর্মীয় উসকানি দিয়ে, গুজব ছড়িয়ে তৈরি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছিলেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সি পি আই (এম) কর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছেন। মানুষের দাবি মেনে মঙ্গলবার বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে যান মহম্মদ সেলিম। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সেলিম। গ্রামে সাংসদকে কাছে পেয়ে প্রবল ভরসা পেলেন গ্রামের আতঙ্কিত মানুষ। মানুষের সঙ্গে সাংসদের এই আলোচনাপর্ব রীতিমতো জন সমাবেশের চেহারা নেয়।

রবিবার ধর্মীয় উন্মাদনার গুজবের জেরে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তখন ঘোলা জলে মাছ ধরতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মাতব্বররা এলাকায় গেলে রাড়িয়া গ্রামে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাংসদকে পেয়ে রাড়িয়া গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ দূর দূরান্ত থেকে এসে সেলিমকে বলেন, এলাকায় শান্তি চাই। শান্তির বার্তা উঠতেই সেখানেও কিছু আর এস এস কর্মী ফের উত্তেজনার চেষ্টা চালায়। অবশ্য মানুষের রোষের আঁচ পেয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। বামুন গ্রাম, রাঙ্গাপুকুর, সোনাডাঙ্গি, বারগোন্ডা থেকে গণতন্ত্রপ্রিয়, শান্তিকামী মানুষ এসে সাংসদের কাছে কাতর আবেদন করেন সেই সব গ্রামে সাংসদের উপস্থিতির জন্য। মহম্মদ সেলিম এলাকায় গিয়ে বলেন, শান্তিপ্রিয় জেলাকে অশান্ত হতে কোনমতেই দেওয়া যাবে না। একবার নয় বারে বারে তিনি আসবেন। বুধবার জেলাশাসক অফিসে গণডেপুটেশন হবে। জন সমাবেশ হবে, সেখানে আপনাদের অভাব অভিযোগ তুলে ধরা হবে। প্রশাসনকে কঠোর হাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, যাঁরা শরণার্থী তাঁদের কখনোই স্থানচ্যুত করা যাবে না। রোহিঙ্গাদেরকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বার্মার রোহিঙ্গাদের উপর যা চলছে, তা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কাম্য নয়। আক্রান্ত মানুষের জন্য সীমানা খুলতেও দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। আন্তর্জাতিক সিন্ধান্তের চাপে সীমান্ত খুলে দিতেই ৩ লক্ষ মহিলা, শিশু, পুরুষ আশ্রয় পেয়ে রক্ষা পেয়েছে। বার্মার সমস্যা রাজনৈতিক ভাবে এবং প্রশাসনিক স্তরে মেটাতে হবে। দেশের সরকারকে শরণার্থীদের ব্যাপারে মানবিকভাবেই দেখতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে রিফিউজি কমিশনের মতামত নিতে হবে। বি জে পি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে দেশে সংকট দেখা দেবে।