ডায়মন্ডহারবারের সমাবেশে
জোরালো দাবি দুর্নীতি রোধে
ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে

নিজস্ব সংবাদদাতা

ডায়মন্ডহারবার, ১২ই সেপ্টেম্বর — নিকাশি ও সেচখাল সংস্কার, সুন্দরবনের নদীবাঁধ মেরামত, গরিব মানুষের বকেয়া বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা দেওয়া, সব গরিব মানুষের গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা, ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করে যানজট সমস্যার সমাধান করাসহ মানুষের জীবনজীবিকা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সরব হলেন বামপন্থী কর্মী, সমর্থকরা। মঙ্গলবার ডায়মন্ডহারবার মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন এই মহকুমা এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। সমাবেশে তাঁরা জানান দিয়ে গেলেন দুর্নীতি রোধে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে মানুষের দাবিতে লালঝান্ডার এ লড়াই এবার গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে। গ্রামে গ্রামে আরও জোরদার আন্দোলন গড়ে উঠবে।

সমাবেশে আসা মানুষদেরকে সংগ্রামী অভিনন্দন জানিয়ে সি পি আই (এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাসম্পাদক শমীক লাহিড়ী বলেন, মানুষের দাবিতে এ লড়াইয়ে বামপন্থীরা সামনের সারিতে। মানুষের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বাঁকুড়া, তমলুক, বারাসতে পুলিস ও শাসকদলের দুষ্কৃতী বাহিনীর আক্রমণে অসংখ্য বামপন্থী কর্মীর রক্ত ঝরেছে। এরপর গ্রামে গ্রামে লড়াই হবে। পঞ্চায়েত পৌরসভা এলাকায় পদযাত্রা হবে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ডি এ-র জন্য লড়াই করছে এই লালঝান্ডা। তাঁদের ওপর আক্রমণ করছেন আর দুর্নীতিগ্রস্ত, লুটেরা তৃণমূলীদেরকে দেখে ভয়ে টেবিলের তলায় লুকোচ্ছেন।

শমীক লাহিড়ী বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বামপন্থী কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। আর এখন লুটের বখরা নিয়ে তৃণমূল তৃণমূলকে খুন করছে। পঞ্চায়েতে লুট চলছে। ধর্মের নামে এরাজ্যের সংস্কৃতি ভেঙে দিতে চাইছে মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মে ধর্মে দাঙ্গা বাঁধাতে চাইছে তৃণমূল, বি জে পি। পুলিশ প্রশাসন নীরব। প্রতিবাদ করলে হামলা, মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়েছেন মানুষ। গ্রামে গ্রামে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।

বামফ্রন্টের আহ্বানে ২২ দফা দাবিকে সামনে রেখে এদিন ডায়মন্ডহারবারে বিক্ষোভ, ডেপুটেশন কর্মসূচি হয়। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সি পি আই (এম) নেতা কান্তি গাঙ্গুলি, ঋষি হালদার, চন্দনা ঘোষদস্তিদার, আর এস পি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক চন্দ্রশেখর দেবনাথ, সি পি আই-র তরফে গৌতম রায় প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সি পি আই (এম) নেতা রাহুল ঘোষ। সমাবেশ থেকে ঋষি হালদার, শাহনাওয়াজ মোকামীসহ সাতজনের এক প্রতিনিধি দল মহকুমাশাসক শান্তনু বসুর কাছে দাবিসনদ পেশ করে আলোচনা করেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement