দাঙ্গায় অভিযুক্ত কোদনানির জন্য
সাক্ষী দিতে সমন অমিত শাহকে

সংবাদসংস্থা

আমেদাবাদ, ১২ই সেপ্টেম্বর — গুজরাটের নারোদা গাম দাঙ্গা মামলায় বি জে পি সভাপতি অমিত শাহকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করল বিশেষ আদালত। এই মামলায় দাঙ্গায় সরসরি মদতের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত গুজরাটের প্রাক্তন মন্ত্রী মায়া কোদনানির সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত থাকার জন্য সমন জারি করেছে বিশেষ আদালত।

এই মামলায় মায়া কোদনানি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে অমিত শাহকে সাক্ষী হিসাবে আদালতে হাজির করার আবেদন জানান। যদিও এর আগে আদালতে তিন বার আবেদন জানিয়েছেন কোদনানি। একবারও তাতে সাড়া দেননি অমিত শাহ। এবারে ফের আবেদন জানানোয় আবার এই মামলায় হাজির হওয়ার জন্য অমিত শাহকে সমন পাঠালো আদালত। আগামী সোমবার অমিত শাহকে ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবী মারফত আদালতে কোদনানির সাক্ষী হিসাবে তাঁর বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গুজরাট গণহত্যার পর দেড় দশক পেরিয়ে গেল, আজও ক্ষতিগ্রস্তদের কোনও সুবিচার মেলেনি। যারা গণহত্যায় যুক্ত তাদের কোন সাজা হয়নি। নানাভাবে মামলার সময় গড়িয়ে গিয়েছে। বহালতবিয়তে ঘুরছে সংখ্যালঘু হত্যায় অভিযুক্তরা। নারোদা গাম দাঙ্গার মামলা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

২০০২সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারির ঘটনা। গোধরায় ট্রেনের কামরায় অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনায় সারা গুজরাট জুড়ে সংখ্যালঘু হত্যা শুরু হয়। গুজরাটে ৯টি বড় দাঙ্গার মধ্যে অন্যতম নারোদা গামের দাঙ্গা। তার পাশাপাশি নারোদা পাটিয়ার দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন কোদনানি। আজীবন কারাদণ্ডের সাজা হয় তাঁর। নারোদা গামে দাঙ্গার ঘটনায় যুক্ত থাকা নিয়েও তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এই দাঙ্গায় ১১জন সংখ্যালঘুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ৮২জন দাঙ্গাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই দাঙ্গায় সরাসরি প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের জন্য কোদনানির বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

গুজরাটের মোদী সরকারের শিশু নারী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন কোদনানি। সেই সময়ে রাজ্যের বিধায়ক ছিলেন বর্তমান বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ। এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে, কোদনানির আইনজীবী আদালতে জানায় সেই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না মন্ত্রী। সাক্ষী হিসাবে কোদনানি তৎকালীন বিধায়ক অমিত শাহের নাম উল্লেখ করেন। তবে, দুবার তার আইনজীবী অমিত শাহ উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানান। কিন্তু, দলের প্রাক্তন মন্ত্রীর জন্য তার হয়ে সাক্ষ্য দিতে অমিত শাহ আদালতে হাজির হননি।

এদিকে আদালত এদিন সমন জারি করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে এই শেষবার অমিত শাহ-কে হাজির হওয়ার জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে। তিনি এবারও যদি হাজির না হন তবে আর সময় দেওয়া হবে না।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ আদালতে এই মামলার দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এনিয়ে সব বিচারপ্রক্রিয়া চার মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্য মামলায় যাবজ্জীবন হলেও স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে জামিনে মুক্ত রয়েছেন বি জে পি নেত্রী কোদনানি। উল্লেখ্য, কোদনানির নিজস্ব নার্সিং হোমও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ গোধরার ঘটনার পরেই সরাসরি তার মদতে দাঙ্গাকারীরা নারোদা পাটিয়ায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায় তাদের খুন করে। মামলায় কোদনানি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মোদী ও অমিত শাহ শিবিরের ঘনিষ্ঠ হলেন কোদনানি। মনে করা হচ্ছে, বি জে পি সভাপতি পদে আসীন অমিত শাহ গুজরাটের দাঙ্গার মামলায় নিজেকে জড়াতে চাইছেন না। সাক্ষ্য দেওয়ার ডাক বারবারই তাই এড়িয়ে যাচ্ছেন শাহ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement