ভাওয়াইয়া শিল্পীদের সাথে
প্রতারণায় অভিযুক্ত অধ্যাপক

নিজস্ব সংবাদদাতা

ধূপগুড়ি, ১৩ই সেপ্টেম্বর— উত্তরবঙ্গে মানুষের মনের কথা ভাষা হয়ে ওঠে ভাওয়াইয়া সংগীতে। প্রাণের ছোঁয়া লাগা লোকসংগীতের চর্চা কমে আসায় অনেক বিখ্যাত শিল্পী প্রচারের আলোয় আসতে পারেন না। এই সব শিল্পীদের দুঃখ ঘোচাবার নাম করে কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ অতিসক্রিয় হয়ে তাঁদের সাথে প্রতারণা করছে। আর লোকসংগীত নিয়ে গবেষণা করা শিল্পীদের প্রচার, আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেবার নাম করে সরকারের তহবিল থেকে মোটা টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন লোকশিল্পীরা। এই অভিযোগ সমর্থন করেছে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ। সংগঠনের ধূপগুড়ি জোনাল কমিটির পক্ষে এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে এবিষয়ে উত্তরবঙ্গের লোকশিল্পীদের সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।

সংগঠনের জোনাল সভাপতি গজিন রায় এবং অতীশচন্দ্র রায় বলেছেন সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জয়ন্ত বর্মণ এবং ধূপগুড়ির বাসিন্দা সম্পর্কে তাঁর শ্যালিকা গত ৩রা সেপ্টেম্বর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদিরামপল্লিতে শিক্ষক অতিশ রায়ের বাড়িতে মাসকিয়া আখড়া নামে ১২জন ভাওয়াইয়া শিল্পী এবং যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে আখড়া বসান। বলা হয় শিল্পীদের শংসাপত্র দেওয়া হবে ভারত সরকারের ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারের থেকে। কিন্তু দেখা যায় এই সংস্থার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে জয়ন্ত বর্মণের শ্যালিকা সুতপা বর্মণ শিল্পীদের ছবিসহ তথ্য নিয়ে চলে যান। জয়ন্ত বর্মণ বলেন, শিল্পীদের ১০০টি করে নতুন ভাওয়াইয়া গান দেবেন। শংসাপত্র নতুন গান দেওয়া দূরে থাক পারিশ্রমিক না দিয়ে গান করিয়ে সেই গান ক্যাসেট বন্দি করে নানা ভঙ্গিমায় অনুষ্ঠানের ছবি তুলে নিয়ে চলে যান। অনুষ্ঠানে কোনও অতিথি দর্শক কিছুই ছিল না।

জয়ন্ত বর্মণ এবং তার শ্যালিকা সুতপা বর্মণের আচরণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় সকলে খোঁজ খবর করে জানতে পারেন কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের বারো কোদালিয়ার বাসিন্দা ঐ অধ্যাপক সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক। অভিযোগ লোকসংগীতের আসর বসিয়ে চর্চা করার নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকল্প জমা দিয়ে একদিকে যেমন মোটা টাকা তুলে নেন তেমনি সংবাদপত্রে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখিয়ে প্রচার করে অন্যদের প্রলুব্ধ করেন। সেই সাথে ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার কলকাতা নামে এক এন জি ও চালান। এই এন জি ও-র কাজ দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে টাকাও তুলে নেন। ২০১৪ সালে এই সংস্থার নাম দিয়ে ধূপগুড়ির কালিরহাট, এবছরে তুফানগঞ্জের শালবাড়ি, কোচবিহারের তল্লিগুড়ি, দার্জিলিঙ জেলার নকশালবাড়ি এলাকাতেও এই ধরনের মাসকিয়া আখড়া বসিয়ে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের দিয়ে গান করিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করে নেন। ধূপগুড়ি শহরেও ঠিক একই কায়দায় শিল্পীদের গান করিয়ে প্রতারণা করা হয়। এবিষয়ে অধ্যাপক জয়ন্ত বর্মণ যদিও বলেন ধূপগুড়ি থেকে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয়। গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ শিল্পীদের সজাগ সতর্ক থাকার আবেদন করেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement