কোনও কারণ ছাড়াই কাজ
বন্ধ নৈহাটির নদীয়া জুটমিলে

নিজস্ব সংবাদদাতা

বারাকপুর, ১৩ই সেপ্টেম্বর — নদীয়া জুটমিলের দরজা দুমাস ধরে বন্ধ। সাসপেনশন অব ওয়ার্কের কোনও নোটিস মিল গেটে নেই। লেঅফের নোটিস নেই। মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ। নো ওয়ার্ক নো পে, নোটিস মিল গেটে ঝুলিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। এক ভয়ংকর অনি‍‌শ্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মিলের শ্রমিকরা। মিল খোলার কোনও উদ্যোগ নেই রাজ্য সরকারের।

নৈহাটির নদীয়া জুটমিলে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয় না। গত ১৩ই জুলাই ২০১৭ শ্রমিকরা সঠিক সময়ে বেতনের দাবিতে মিলে কাজ বন্ধ করে দেন। মিল মালিক সেই সুযোগে মিল গেটে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে নোটিস’ ঝুলিয়ে দেয়। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিল গেটে আসতেন, আবার রাতে ফিরে যেতেন। এরপরেও দিন পনেরো মিলে বাঁশি বাজতো। বর্তমানে সেটাও বন্ধ। কোটি টাকার ওপর বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় বিদ্যুৎ পর্ষদ মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে। এই মিলের দক্ষিণ অংশ ও উত্তর অংশ দুটো ভাগে বিভক্ত। মিল মালিক দক্ষিণ দিকের অংশ বন্ধ করে দিতে চাইছে। মিলের দক্ষিণ দিকের অংশে ২৬টি মেশিন আছে। পুরোটাই তুলে দিতে চাইছে মিল মালিক। শ্রমিকরা এটা মানতে নারাজ। শ্রমিকদের দাবি দক্ষিণ ও উত্তর দুটো অংশেই মিল চালাতে হবে। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মিলের দক্ষিণ দিকের অংশটি দেখিয়েছে মিল মালিক। এই দক্ষিণ দিকের অংশটি‍‌তে আধুনিক মেশিন বসিয়ে পুরোটাই ঠিকাদার-এর হাতে তিনি তুলে দিতে চাইছেন। এইভাবে আস্তে আস্তে পুরো মিলটাকে ঠিকাদারের হাতে তুলে দেওয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মিল মালিক করেছেন। যেখানে মালিকের কোনও দায়দায়িত্ব থাকবে না। রাজ্যের মন্ত্রীর ঘরে বেশ কয়েকটি সভা হলেও যেভাবে উদ্যোগ নিলে মিল খুলতে পারে তার কোনও প্রচেষ্টা নেই। মন্ত্রীর সাথে কথা বলেই মিলের গুদামঘরে তৈরি হয়ে থাকা ‘ফিনিশ গুডস’ মিল থেকে বার করে নিয়েছেন মিল মালিক। মিলের ভিতরে একটি গুদামঘর বহিরাগত ঠিকাদারকে ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে হুকুমচাঁদ জুটমিলসহ বিভিন্ন মিলের চটের থান সেলাই হচ্ছে ঠিকা শ্রমিক দিয়ে। মিল মালিক চাইছেন এই মিলের সেলাই বিভাগটা ঠিকাদারদের হাতে তুলে দিতে। শ্রমিকরা এটা মানতে নারাজ।

নদীয় জুটমিলে ইতিপূর্বে ১৪০০ শ্রমিককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে তিনশর ওপর শ্রমিক মারা গেছেন। এরা কেউই পি এফ, গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। এর পরেও ১৩৭ জন শ্রমিককে মিল থেকে বসিয়ে দেওয়া হলেও তাদেরও পি এফ, গ্র্যাচুইটির টাকা মিল কর্তৃপক্ষ দেয়নি। আবার এই বছরের গোড়ার দিকে ১৬৭ জন শ্রমিককে বসিয়ে দিলেও তাদের ন্যায্য পাওনাগন্ডা মিল কর্তৃপক্ষ মেটায়নি। ই এস আই-র টাকা জমা পড়ে কিনা শ্রমিকদের জানা নেই। যে মিলে চার হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করতো সেইখানে বর্তমানে আঠারোশোর মতো শ্রমিক কাজ করেন। এরমধ্যে অর্ধেক আবার ঠিকা শ্রমিক। স্থায়ী শ্রমিক নেই বললেই চলে। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা কবে তাদের প্রাপ্য টাকা পাবেন বা আদৌ পাবেন কিনা তা জানা নেই? মিল ‍‌কি আদৌ খুলবে? মিলটাকে ঠিকাদারের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা মিল মালিক করছেন। শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ জীবন এক ভয়ংকর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে শ্রমিকরা ভয়ংকর আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement