ধৃত গুরসিমরান সিং
সি আই ডি হেপাজতে

নিজস্ব সংবাদদাতা

বাঁকুড়া, ১৩ই সেপ্টেম্বর — বাঁকুড়া জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের ১৫কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা গুরসিমরান সিং-কে বুধবার সি আই ডি বাঁকুড়া আদালতে তুললে বিচারপতি তাকে ১২দিনের সি আই ডি হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। গত ১০ই সেপ্টেম্বর এই গুরসিমরান সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৪সালে বাঁকুড়া জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বন্ড কেনার জন্য দেবাঞ্জন রায় নামে এক ব্যক্তির অ‌্যাকাউন্টে সরাসরি ১৫কোটি টাকা দেয়। দেবাঞ্জন রায়ের অতীতের জালিয়াতির কথা জানা থাকলেও সে ব্যাপারে ব্যাঙ্ক কোন সতর্ক হয়নি। অভিযোগ শাসকদলের জেলার এক নেতাই তাকে নিয়ে আসে। সেই সময়কার ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক ও পরিচালন কমিটির এক কর্তাব্যক্তি বিষয়টি জানতেন। বন্ড ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি। অদৃশ্য হয়ে যায় দেবাঞ্জন রায়। তৎকালীন শাসকদলের পরিচালনাধীন ব্যাঙ্কের অ্যাডহক পরিচালন কমিটি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। গণশক্তিতেই প্রথম খবরটি প্রকাশিত হয়। তারপরও প্রায় একবছর কোন এফ আই আর দায়ের করা হয়নি ঐ প্রতারকের বিরুদ্ধে। পরে ওই পরিচালন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। জেলাশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর এফ আই আর দায়ের করা হয়। সি আই ডি তদন্ত হাতে নেয়। গত বছরই দেবাঞ্জন রায়কে সি আই ডি কলকাতার একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাগুইহাটির তেঘরিয়ার বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী গুরসিমরান সিং-এর এই জালিয়াতির ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা উঠে আসে। জানা গেছে দেবাঞ্জন রায় ওই ১৫কোটি টাকার একটা অংশ এই ব্যক্তির একটি প্রতিষ্ঠানে দিয়েছিল। বাকি টাকা কোথায় গেল? বাঁকুড়ার মানুষের অভিযোগ, শাসকদলের এক নেতা ও ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট দুজন আধিকারিকের কাছে এই টাকার একটা অংশ গেছে। সূত্রের খবর সি আই ডি তদন্তে দেবাঞ্জন রায় তাদের নাম জানালেও সি আই ডি কোন রহস্যজনক কারণে সে ব্যাপারে কোন মুখ খুলছে না।