পাঁচ আঙুল খুইয়ে ১২ বছর পর
বাড়ি ফিরলেন হামেদুল শেখ

নিজস্ব সংবাদদাতা

মুরারই, ১৩ই সেপ্টেম্বর — কারখানায় কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় হাতের পাঁচটি আঙুল খুইয়ে ১২ বছর পর বাড়ি ফিরে এলো এক নিখোঁজ শ্রমিক। মঙ্গলবার বহু কষ্টে বাড়ির ঠিকানা জেনে ফিরে আসায় খুশির হাওয়া তার পরিবারে। ওই শ্রমিকের নাম হামেদুল শেখ (২৪)। বাড়ি মুরারই থানার কনকপুর গ্রামের ডাঙাপাড়ায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা অত্যন্ত গরিব। ২০০৫ সালে এক গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় হামেদুল শেখ। তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। বহু খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে হাল ছেড়ে দেন তার বাবা-মা। বাবা বেঁচে নেই মা হালেমা বেওয়া ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দিত। তি‍‌নি বলেন, হাতের আঙুল গেছে যাক তবু তো ছেলেকে ফিরে পেলাম। এটাই শান্তি। ওই যুবক জানায়, সে বাংলা ভাষা ভুলে গেছে। ভাঙা হিন্দি ভাষায় সে বলে, আজ থেকে বারো বছর আগে গ্রামেরই একদল পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন। পরে বর্ধমান স্টেশনে তিনি হারিয়ে যান। বাড়ি ফিরে আসবেন বলে ভুল করে দিল্লিগামী একটি ট্রেনে উঠে উত্তর প্রদেশের মীরাট শহরে চলে যান। সেখানে ছত্বর সিং নামে এক ব্যক্তি তাকে গ্রামে নিয়ে গিয়ে বাড়ির কাজে লাগায়। তাঁর ছিল একটি গুড় তৈরির কারখানা। সেই কারখানায় তিনি ক্রীতদাস হিসাবে কাজ করতেন। তিনি যাতে পালিয়ে না যান তার জন্য পাহারা দেওয়া হতো। এইভাবে বিনা পারিশ্রমিকে ১২ বছর ধরে সিং-র কারখানায় কাজ করতেন। তবে বিপদ ঘটলো ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে। কারখানার কলে আখ ভরতে গিয়ে হামেদুল শেখের হাতের পাঁচটি আঙুল সম্পূর্ণভাবে কেটে যায়। অনেক চিকিৎসার পর তা সেরে উঠে। কিন্তু সেই সময় তিনি কোন কাজ করতে পারতেন না। বাড়ির জন্য মন খারাপ করতো। কিন্তু কিভাবে পালাবো? ভেবে পেতেন না। ২০১৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর এক গভীর রাতে ট্রেনে চেপে বর্ধমান চলে আসেন শেখ। পরে অনেক কষ্টে বাড়ির ঠিকানা জেনে এক সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যে ট্রেনে চেপে মুরারই স্টেশনে নামি। মঙ্গলবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে দেখেন বাবা মারা গেছেন অনেক বছর হলো। হামেদুলের একটাই আক্ষেপ কাজ করতে পালাতে গিয়ে হাতটা খুইয়ে এলেন। কিন্তু রোজগার করতে পারলেন না। আর গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাবে না হামেদুল।