রাইসমিল শ্রমিকদের মজুরি
বাড়লো পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে

নিজস্ব সংবাদদাতা

বর্ধমান, ১৩ই সেপ্টেম্বর— পূর্ব ও পশ্চিম দুই বর্ধমান জেলার রাইসমিল শ্রমিকদের বোনাস বৃদ্ধি হয়েছে। বুধবার দুর্গাপুরে ডি এল সি দপ্তরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যে চুক্তি হয়েছে তাতে রাইসমিলের দৈনিক শ্রমিকরা গতবারের বোনাসের থেকে অতিরিক্ত ৭৭৫টাকা ও মাসিক মজুরির শ্রমিকরা গত বছরের থেকে ৮৭৫ টাকা বেশি বোনাস পাবেন।

এদিন মালিকপক্ষ ছাড়াও সি আই টি ইউ, কংগ্রেস ও তৃণমূলের শ্রমিকনেতারা বৈঠকে যোগ দেয়। কিন্তু শুধুমাত্র সি আই টি ইউ দাবিপত্র পেশ করে গত ২৮শে আগস্ট। তৃণমূল বা কংগ্রেস কেউ দাবিপত্রও দেয়নি, তাদের পক্ষ থেকে কোনও রাইসমিল শ্রমিকও এদিন সভায় উপস্থিত ছিল না। সি আই টি ইউ-র দাবিপত্রর উপর আলোচনা শুরু হলে বামপন্থী সংগঠনের শ্রমিক নেতারা দাবি করেন মজুরির ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে। তৃণমূল কার্যত মালিকের পক্ষ নেয়। যদিও নানা টানাপোড়েনের পর বোনাস বৃদ্ধি ঘটে দৈনিক ও মাসিক মজুরির শ্রমিক উভয়ের। এর ফলে প্রায় ১৫হাজারেরও বেশি শ্রমিক উপকৃত হবেন। মোট ৪২৬ রাইসমিলের মধ্যে বর্তমানে পূর্ব বর্ধমানে প্রায় ৪০০ বেশি রাইসমিল। এদিন সি আই টি ইউ অনুমোদিত বর্ধমান রাইসমিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সি আই টি ইউ-র জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী, সংগঠনের জেলা সম্পাদক অশোক ঘোষ, তুষার মজুমদার প্রমুখ।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর গত ৬বছরে রাইসমিল শ্রমিকদের এক টাকাও বেতন বাড়েনি। ৫বার ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলেও শাসকদলের মদতে মালিকরা মজুরি বৃদ্ধি করেনি। সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম বেতনও পান না রাইসমিল শ্রমিকরা। মোট শ্রমিকের ২৫শতাংশ ছিল মহিলা শ্রমিক, কিন্তু তৃণমূলের মদতে মালিকরা চাতাল তুলে দিয়ে মহিলা শ্রমিকদের ছাঁটাই করেছে। বর্তমানে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা মাত্র ২শতাংশ। তৃণমূল মালিকের দালাল হয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন ভাঙতে গুন্ডামি করে। গণতন্ত্র বিপন্ন। প্রকাশ্যে মিছিল, মিটিং করারও গণতন্ত্র নেই। ফলে রাইসমিল শ্রমিকরা তৃণমূলকে শত্রু হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন। ফলে এদিন বৈঠকে তৃণমূল একজন রাইসমিল শ্রমিককেও হাজির করতে পারেনি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement