হাসপাতালের অব্যবস্থা,প্রায়শই হামলার
প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনের
হুঁশিয়ারি দিলেন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর— পরিকাঠামোহীন সরকারি হাসপাতালগুলির অব্যবস্থা এবং ক্রমাগত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিগ্রহের ঘটনার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন চিকিৎসকরা। সমাজবিরোধীদের হাতে এই ধরনের নিগ্রহ বন্ধ না হলে এরপর রাস্তা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ অবস্থান এবং প্রয়োজনে নবান্ন অভিযানও করবেন তাঁরা। এছাড়াও সুরাহা না হলে সরকারি হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা বন্ধ করে সমান্তরাল আউটডোর ব্যবস্থা চালু করবেন বলেও জানিয়ে দিল ৭টি চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ডক্টরস ভয়েজ অব বেঙ্গল। গত পাঁচ মাসে প্রায় ৫০টি ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিগ্রহ হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি ডেবরায় শাসকদলের মদতে এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই সমস্ত ঘটনার বিরুদ্ধে কলকাতায় বুধবার ধিক্কার মিছিলে শামিলে হলেন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের চিকিৎসকরা।

রোগীরা প্রায়শই চিকিৎসা পাচ্ছেন না কারণ সরকারি হাসপাতালে সেই পরিকাঠামোই নেই। অথচ চিকিৎসক ও নার্সিং কর্মীদের ওপর ক্রমাগত হামলা হয়ে চলেছে। হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ইউনাইটেড ডক্টরস ভয়েজ অব বেঙ্গল। বুধবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে মেট্রো চ্যানেল পর্যন্ত এক ধিক্কার মিছিলে শামিল হলো বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের এই যুক্ত মঞ্চ। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস, সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম, মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম, ডক্টরস ফর পেশেন্ট, ডক্টরস ফর ডেমোক্র্যাসি এবং জুনিয়র ডক্টরস ফোরাম। এছাড়াও বেঙ্গল নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই মঞ্চে শামিল ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ধিক্কার মিছিলে হাঁটলেন চিকিৎসকরা। রাজ্যে বিপন্ন গণতন্ত্রের শিকার যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও তা গত ৫-৬ বছর ধরে প্রমাণিত বলে বক্তব্য তাঁদের। এছাড়াও তাঁরা বলেন, অনেক সময়ে বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসকদের ওপর হামলা হচ্ছে প্রকৃত কারণ না জেনে।

এদিন মিছিলে নেতৃত্ব দেন অ্যসোসিয়েশন অব হেলথ ইউনাইটেড ডক্টরস ভয়েজ অব বেঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস, সম্পাদক ডাঃ অংশুমান মিত্র, অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সভাপতি ডাঃ গৌতম মুখার্জি, ডাঃ তরুণ মণ্ডলসহ বিভিন্ন চিকিৎসকরা। মিছিলের শুরুতে এবং শেষে আয়েজিত সভায় বক্তব্য রাখেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় নেই। কেবলমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই ডেপুটেশন দেওয়া মনস্থ করেছেন চিকিৎসকরা। সম্প্রতি ডেবরাতে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রোগীকে রেফার করার ঘটনা ঘটেছে। নামে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হলেও সেখানে পরিষেবার ছিটেফোঁটাও প্রায় নেই। সেই ঘটনায় চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসক ডাঃ রজত পাল ও ডাঃ অনাবিল দত্তকে মারধর করা হয়েছে। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে। শাসকদলের মদতে এই জঘন্য ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন সাধারণ মানুষ। শুধু এই ঘটনাই নয়, সম্প্রতি সাগর দত্ত হাসপাতাল থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এইভাবে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে, এখনো তার জের চলছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি।

এদিন সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সভাপতি ডাঃ গৌতম মুখার্জি বলেন, রাজ্য সরকার হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে উদাসীন থাকবে, আর তার ফল ভোগ করতে হবে চিকিৎসকদের। ক্লিনিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট আইন চালুর পর থেকে ৫০টিরও বেশি নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। আই এম এ একটা কথাও বলছে না এসব নিয়ে। প্রশাসন সম্পূর্ণ বধির হয়ে গিয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পর্যন্ত পথে নামতে হচ্ছে। দরকারে আমরা রাস্তা অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করব। ডাঃ সজল বিশ্বাস ও ডাঃ অংশুমান মিত্র বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি দূর করতে রাজ্য মোটেই উদ্যোগী নয়। রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। তাই হামলা বাড়ছে হাসপাতালগুলিতে। যেসব হামলা ও আক্রমণের ঘটনা ইতেমধ্যে ঘটেছে, তার দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি বিধান করতে হবে সরকারকে। মূল কথা হলো রাজ্যবাসীর চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ করতে হবে অবিলম্বে। তা না করলে চিকিৎসা পরিকাঠামোই তৈরি হবে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর পকসো আইন প্রয়োগ চলবে না। হাসপাতালে হামলা ও নিগ্রহ বন্ধ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। না হলে এরপর নবান্ন অভিযান করবেন চিকিৎসকরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement