ফের মৃত্যু শিশুর, কলকাতায়
আক্রান্ত অসংখ্য তবুও ডেঙ্গুর
অস্তিত্বই মানতে চায় না পৌরসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর – ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে কলকাতায়। এবার কড়েয়ার মাত্র ৬মাসের শিশু আজাজ খানের মৃত্যু হলো ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে। বুধবার কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু বলে মানতে রাজি হননি। তিনি চিকিৎসকদের নিয়মমাফিক মৃত্যুর কারণ লেখার উপদেশ দেন।

পৌরসভা সূত্রে খবর, এই সময় শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০০জন। যদিও বেসরকারি মতে এই সংখ্যা হাজারেরও বেশি। চলতি বছরে গত জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত অ্যালাইজা পদ্ধতিতে ৭হাজরের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা হয়েছে কর্পোরেশনে। এরপরও মেয়র দাবি করেছেন, শহরে ডেঙ্গুর কোনও আতঙ্ক নেই।

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে কলকাতাবাসীর মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তার জন্য চিকিৎসকদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মেয়র পরিষদ স্বাস্থ্য। তাঁর দাবি, এখন ডেঙ্গু হওয়ার সময়। কিছু হাসপাতালের চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে রোগীর যদি মৃত্যু হয় তাহলে মৃত্যুর কারণ হিসাবে ডেঙ্গু লিখে দিচ্ছেন। আসলে কিছু চিকিৎসকের ডেঙ্গু লেখার কারণ হলো রোগী মৃত্যুর ঘটনায় দায় থেকে পালানোর পথ তৈরি করা। এদিন তিনি পৌরসভা সূত্রে পাওয়া ডেঙ্গুর তথ্য স্বীকার করে জানান, এই রোগে শহরে এখনও মৃত্যু নেই। কসবার সিদ্ধেশ্বর ঘোষ ও দীপ ঘোষের মৃত্যুর সমস্ত রিপোর্ট আমরা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখানে অডিট করে দেখে যদি বলে এই শহরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাহলে তা কলকাতা কর্পোরেশন মেনে নেবে। ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করার কলকাতা কর্পোরেশনের ক্ষমতা নেই। সেটা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরই করে।

এদিন কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা চিকিৎসক টি কে মুখার্জি চিকিৎসকদের ডেঙ্গুতে মৃত্যু লেখা নিয়ে অভিযোগ জানান। তাঁর কথায়, অনেক চিকিৎসক জানেন না মৃত্যর কারণ লেখার সঠিক নিয়ম। কিন্তু এম বি বি এস পড়ার সময় এই নিয়ম শেখানো হয়। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ-এ ভর্তি কড়েয়ার শিশু আজাজ খানের মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু নয়। এখানে বলা আছে তাঁর উচ্চরক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছিল। নিউমোনিয়া হওয়ার ফলে ফুসফুসে তার প্রভাব পড়ে। ডেঙ্গুও হয়েছিল। তিনি বিস্তারিত বিশ্লেষণে করেন, ওই শিশুর মৃত্যু নিউমোনিয়াতে হয়েছে বলে দাবি করেন। কলকাতা কর্পোরেশন মানতে রাজি না হলেও শারদোৎসবের আগে শহরে ডেঙ্গুর অবস্থা ক্রমশ ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে।