জুভেন্টাসের ঋণ শোধ করলো বার্সা
জোড়া গোল মেসি, প্যারিসে
বিধ্বংসী নেইমারও

সংবাদসংস্থা

বার্সেলোনা, ১৩ই সেপ্টেম্বর — মাঝে পাঁচ মাস। প্রতিপক্ষ সেই জুভেন্টাস। স্কোর সেই ৩-০। তবে ম্যাচের ফল এবার ঠিক উলটো। জুভেন্টাসের কাছে হেরে পাঁচমাস আপে বিদায় নিয়েছিল বার্সা। সেই জুভেন্টাসকে হারিয়েই ইউরোপ সেরা হওয়ার অভিযান শুরু করেছে কাতালানরা।

এই পাঁচ মাসে অনেক বদল এসেছে দুই দলে। নেইমার প্যারিসে সই করেছেন। বার্সেলোনার বিধ্বংসী মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার ত্রয়ী ভেঙে গেছে। নেইমারের তৈরি শূন্যস্থান পূরণ করেছেন ওউসমানে ডেম্বেলে। ডেম্বেলে নেইমার নন। যোস সেমেদো দানি আলভেজ নন। কিন্তু দুই বদলি ফুটবলার নিজেদের মতো চেষ্টা করেছেন। সফলও হয়েছেন। এর্নেস্তো ভেলভের্ডের দলের মূল চালিকা শক্তি উঠে এসেছে আবার মাঝমাঠের হাতে। ইনিয়েস্তা-বুসকেটস ও রাকিটিচ বার্সেলোনার পুরানো মাঝমাঠকেই ফিরিয়েছিলেন মুহূর্তে মুহূর্তে। তুরিনে যে দল খেলেছিল বার্সেলোনার বিরুদ্ধে, তার ছয়জন ছিলেন না এই ম্যাচে। মাঝমাঠ যতই শক্তিশালী হোক বার্সেলোনার অভিকর্ষজ টান ছিলেন লিওনেল মেসিই। চার বছরের প্রথম পুরোপুরি প্রাক মরশুম প্রস্তুতি সেরেছেন মেসি। আরএবারই ছয় ম্যাচে আট গোল করে দাপট দেখানো শুরু করলেন।

নেইমারের বদলি হিসেবে ডেম্বেলেকে সই করালেও, ঠিক লেফট উইংয়ে খেলাননি ভেলভের্ডে। বরং সুয়ারেজকে সেন্টারে খেলিয়ে ডানদিক থেকে খেলান তরুণ এই ফরোয়ার্ডকে। মেসি শুরু করেন ডিপ থেকে। নতুন কোচের এই ছকেই বাজিমাত করল কাতালনরা। মেসি হয়ে উঠলেন আরও ভয়ানক। চারবারের একবারও যে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি, সেই গিয়ানলুইগি বুঁফোকে টপকে দুটি চোখ ধাঁধানো গোল করলেন। শুধু গোল করলেন এমনও নয়, রাকিটিচকে দিয়ে গোল করালেনও মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুভেন্টাসের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালার গোল করার সুযোগ থাকলেও, টের স্টেগানকে অতিক্রম করতে পারেননি। ৬৯ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিল। পাঁচ মাসে তুরিনে যে তিন গোলের বোঝা কাঁধে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গিয়েছিল কাতালানরা। জোড়া গোলে জয় এনে সেই ঋণ শোধ করলেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে কোচ এর্নেস্তো ভেলভের্ডে। জানিয়েছেন, ‘লিও বল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছে যে এবার কিছু একটা হবে। আর যা হবে তা ভালোর জন্যই হবে।’

মেসির কাঁধে ভর করে বার্সেলোনা যখন গতবারের ফাইনালিস্টকে পরাজিত করল। সে সময়েই সেলটিককে ৫-০গোলে উড়িয়ে দিল প্যারিস স্যঁ জ্যঁ। রেকর্ড অর্থে বার্সেলোনা ছাড়ার পর থেকেই যেন আরও বিকশিত হয়েছেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড। ‘এম এস এন’ জুটি ভাঙলে নতুন ক্লাবে ফের ত্রিফলা তৈরি করে আক্রমণে উঠছেন নেইমার। আর তাতেই গোলের ফোয়ারা ফুটছে প্রতি ম্যাচে। এমবাপ্পে, নেইমার ও কাভানির সঙ্গে দল বেধে ‘এম এন সি’ তৈরি করছেন নেইমার। ১৯ মিনিটে গোল করে খাতা খোলেন নেইমার। এরপর এমবাপ্পে এবং কাভানির গোলে জয় নিশ্চিত হয়। বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতলেও, এই জয় যে সহজ ছিল না তা জানাতে ভোলেননি পি এস জি কোচ উনাই এমেরি। বলেছেন, ‘খেলার গতির সঙ্গে সাযুজ্য বজায় রেখে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। এমনকি এখানকার সমর্থকদের সঙ্গেও।’

ম্যাচ চলাকালীন মাঠে ঢুকে প্যারিস স্যঁ জ্যঁ’র ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে লাথি মারার চেষ্টা করেন এক সেলটিক সমর্থক। তরুণ এই ফুটবলারের গায়ে না লাগলেও, সেলটিকের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রক্রিয়া শুরু করলো উয়েফা। ১৯শে অক্টোবর শুনানিতে বসবে উয়েফার এথিক্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটি। শেষ উদাহরণ অনুযায়ী এইরকম ঘটনায় পাঁচ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।