তালডাংরায় তৃণমূলের
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের খুন

নিজস্ব সংবাদদাতা

বাঁকুড়া, ১৩ই সেপ্টেম্বর— তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে বুধবার সকালে তালডাংরা থানার আমডাংরা অঞ্চলের ঢেমনামারা গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি জান মহম্মদ মল্লিক খুন হয়ে গেলেন। এদিন ভোরে অধুনা তৃণমূল কংগ্রেসে আসা বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষার ভট্টাচার্যের বাহিনী তৃণমূলের জেলা নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপদ মুখার্জির অনুগামী এই জান মহম্মদকে ওই গ্রামের মধ্যেই প্রকাশ্যে কুঠার, তরোয়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। তাঁকে এই অবস্থায় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি মারা যান। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে সকাল থেকেই তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে বলে খবর।

বুধবারের এই খুনের ঘটনার সূত্রপাত দুদিন আগে। ওইদিন দুপুরে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রকাশ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দলীয় পতাকা হাতে নিয়েই এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর লোকজনের উপর মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ বলতে বলতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমডাংরায় স্কুলের জমি দখল করে তৈরি করা করা শাসকদলের অফিসের সামনেই দীর্ঘক্ষণ চলে এই সংঘর্ষ। একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙা হয়। বাদ যায়নি দলীয় দপ্তর, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ছবিও। পুলিশ দুপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। তবে কোনও গোষ্ঠীর কারুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়নি। সেদিনের এই সংঘর্ষে জান মহম্মদও ছিলেন।

জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বাড়ি থেকে মাঠে আসার পথেই ঝোপের আড়ালে অস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে থাকা তুষার ভট্টাচার্যের গোষ্ঠীর লোকজন জান মহম্মদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষজনের সামনেই কুঠার তরোয়ালের কোপ মারা হয় তাঁর শরীরে। জানিয়ে যায়, এটা শুরু আরও হবে। পরে গ্রামের মানুষজন তাঁকে উদ্ধার করে বাঁকুড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ২০১১সালের ১৫ই মে তখনও মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রসের মন্ত্রীসভা শপথ নেয়নি। ওইদিন এই আমডাংরা অঞ্চলের মামড়া গ্রামে সি পি আই (এম) নেতা অজিত লোহারকে তৃণমূলবাহিনী নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করে। এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এই এলাকায় সন্ত্রাস নামিয়ে আনা হয়। একাধিক সি পি আই (এম) কর্মী-নেতাকে ঘরছাড়া করা হয়। এখনও অনেকে ঘরছাড়া আছেন। ২০১৬সালের নির্বাচনের পর এই এলাকার যুব কর্মী অরুণ সর্দারকে খুন করা হয়। দিনের পর দিন রক্তাক্ত সন্ত্রাসের মাঝেই মানুষ যতটা পেরেছেন প্রতিবাদ করে গিয়েছেন। বন্ধ করে দেওয়া আমডাংরা সি পি আই (এম)-র অফিস খুলেছেন গ্রামবাসীরা। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সন্ত্রাস মোকাবিলা করেই লালঝান্ডার ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এত সন্ত্রাস করেও বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমুল জয়ী হতে পারেনি। জোট প্রার্থী হিসাবে তুষার ভট্টাচার্য জেতেন। মানুষ লালঝান্ডার সমর্থন দেখেই তুষার ভট্টাচার্যকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন। সেই তুষার ভট্টাচার্য মানুষের সঙ্গে স্পষ্টতই বেইমানি করে তৃণমূলের হাত ধরার পরার পরাজিত মন্ত্রী শ্যামাপদ মুখার্জির গোষ্ঠীর সঙ্গে তুষার ভট্টাচার্যের অনুগামীদের সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়। মুলত ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই এই সংঘর্ষ। এলাকার জঙ্গলের গাছ নির্বিচারে কেটে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে এই ছবছর ধরে। রেগার কাজে জেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে এই এলাকায়। তালডাংরায় একাধিক বিডিও তদন্ত করতে এসেও ফিরে গিয়েছেন। কয়েকমাস ধরে একাধিক গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। যার পরিণতি ঘটল বুধবার জান মহম্মদের খুনের মধ্য দিয়ে।

Featured Posts

Advertisement