ষষ্ঠ মাদ্রাসা সার্ভিস>br> কমিশনকে নিয়োগ শুরুর
নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর- অবশেষে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা কাটলো হাইকোর্টের রায়ে।

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ চ্যাটার্জি, জাবিউল্লাহ বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার (কেস নং WP-30274(W)of 2016-) এর মামলার শুনানির পর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের জমা দেওয়া আবেদন পত্র দেখে বিচারপতি অরিজিৎ চ্যাটার্জি তাঁর রায়ে জানিয়েছেন, ‘নিয়োগ পদ্ধতির উপর সুপ্রিমকোর্টের কোনও স্থগিতাদেশ নেই’।

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ফলে মুখ পুড়লো রাজ্য সরকার ও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের। রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসায় প্রায় পাঁচ হাজার শূন্য পদ থাকলেও নিয়োগ নিয়ে কোন মাথাব্যথাই ছিল না সার্ভিস কমিশনের। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ষষ্ঠ এস এল এস টি-এর লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৪সালে। ফল প্রকাশ হয় দীর্ঘ একবছর পরে ২০১৬সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। তারও এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি কমিশন। সফল প্রার্থীদের এখনও ইন্টারভিউতেও ডাকেনি কমিশন। মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন জানিয়ে নিয়োগ করা যাচ্ছে না বলে বারবার নিয়োগ প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেছে কমিশন।

সোমবার শুনানির পর রায় ঘোষণা করে বিচারপতি অরিজিৎ চ্যাটার্জি নির্দেশ দেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে কিন্তু কোনও নিয়োগই আদালতের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। এ যাবৎ নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সমস্ত তথ্য পূজাবকাশের পর দুসপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।

গত ২৪শে এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের 'লিভগ্রান্টে'র ফলে মাদ্রাসায় কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের কোনও বাধা ছিল না। যদিও কমিশন তার পরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। সুপ্রিম কোর্টে চলা এই মামলাকে উল্লেখ করেই রাজ্যের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের দাবি, ষষ্ঠতম পরীক্ষার নিয়োগ সে কারণেই বন্ধ আছে। অথচ রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম সচিব শাকিল আহমেদ ২০১৬সালের ২৬শে আগস্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশিকা (1701-MD/0/5M-28/16) পাঠিয়ে জানান সুপ্রিম কোর্টের ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ জোহেব হোসেইন সে বছরেরই ৮ই আগস্ট চিঠি লিখে সরকারকে জানায় যে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ষষ্ঠতম পরীক্ষার ফলপ্রকাশে কোনও বাধা নেই। সেই অনুযায়ী ওই নির্দেশিকায় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে বলা হয় দ্রুত মেধাতালিকা প্রকাশ করে নিয়োগ করতে হবে। তারপরেও কোনও উদ্যোগই শুরু করেনি কমিশন।

প্রসঙ্গত ২০১৪সালের ষষ্ঠ এস এল এস টি-পরীক্ষায় শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিষয়ে ৭৫০০জন পরীক্ষার্থী ফি জমা দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করলেও তাঁদের পরীক্ষাই নেয়নি কমিশন। দ্বিতীয়ত গত বছরের ৫ই সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হলেও আরবি বিষয়ের ৫০০০পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশিত হয়নি, পরবর্তীকালে এ ব্যাপারে আর টি আই করা হলেও মেলেনি সদুত্তর। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে তাঁরাও আশান্বিত যে তাঁদের সমস্যারও সমাধান হলো।

কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে ‘বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম’-র সভাপতি ইসরারুল হক মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা খুশি। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে গেছে। আশা করি নবান্ন অতি দ্রুত কমিশনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেবে। কমিশনকে দ্রুত নিয়েগের দাবিতে ২১শে সেপ্টেম্বর আমরা ডেপুটেশন জমা দেব’।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement