প্রাথমিক-উচ্চ প্রাথমিকে প্রশিক্ষণ
সরকারি টালবাহানায়
বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর — হাতে রয়েছে দেড় বছর। কিন্তু দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষণ প্রশিক্ষণ কীভাবে নেওয়া সম্ভব হবে তা নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রাথমিক-উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারের দীর্ঘসূত্রতার ফলেই এমন পরিণতিতে পড়তে হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তবে প্রশিক্ষণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০শে সেপ্টেম্বর করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ নম্বর না থাকলে ২০১৯সালের ৩১শে মার্চের পর চাকরি থাকবে না, একথা রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। রাজ্যের কাছে সম্প্রতি এই চিঠি আসলেও শিক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ নম্বর থাকা যে বাধ্যতামূলক, তা আগেই জানা ছিল রাজ্যের। তা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে উদ্যোগ ছিল না রাজ্যের। মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে চিঠি আসার পরই টনক নড়েছে সরকারের। আর তাতে নাভিঃশ্বাস ওঠার অবস্থায় পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

সম্প্রতি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুই বছরের ডি এল এড কোর্স করতে হবে। তাছাড়া যাঁদের উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ নম্বর নেই তাঁদের ২০১৯সালের মধ্যে সেই যোগ্যতা মান বাড়াতে হবে। এ নিয়ে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সমর চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘সরকার যদি আগে থেকে ব্যবস্থা নিতো তাহলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এত দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তেন না। এখন সময় রয়েছে মাত্র দেড় বছর। এই দেড় বছরের মধ্যে দুই বছরের কোর্স শেষ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি করে বলেছি, ২০০১সালের ৩রা সেপ্টেম্বরের আগে নিয়োগ হওয়া এক বছরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আরও এক বছরের প্রশিক্ষণের দরকার নেই। এব্যাপারে রাজ্য সরকার চিঠি দিক কেন্দ্রকে। তাছাড়া ২০০১সালের ৩রা সেপ্টেম্বরের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের ২বছরের ওডিএল মোড-এ ডি এল এড কোর্স করানো নিষ্প্রয়োজন। এ নিয়ে কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য চিঠি লিখুক রাজ্য।

সমর চক্রবর্তীর আরও বক্তব্য, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় রাজ্য সরকার বারেবার সময়কাল ও বছর পরিবর্তিত করেছে। সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তিতে দেখলাম ২০১৯সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত প্রশিক্ষণের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের কাছাকাছি এসে যদি কারোর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে চিঠি লিখে প্রশিক্ষণের সময়সীমা ৫৫বছর অবধি করার অনুমতি নিক।

শিক্ষণ প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিশ টিভির মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিকের ৫০শতাংশ নম্বর বাড়ানোর পদ্ধতির বদলে স্টাডি সেন্টারের ব্যবস্থা করা হোক। উল্লেখ্য, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ৬হাজার টাকার বিনিময়ে বৈদ্যুতিন পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করেছে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। শহর বা শহরতলীতে এর সুবিধা থাকলেও, গ্রামাঞ্চলে এমন উন্নত পরিকাঠামো নেই। সে ক্ষেত্রে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা সমস্যায় পড়বেন। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বক্তব্য, বন্যায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বর্তমান পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ইন্টারনেট পরিষেবা আরও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় স্টাডি সেন্টারগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিকের ৫০শতাংশ নম্বর বাড়ানোর পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হোক। রাজ্যে ইতিমধ্যে সেইসব স্টাডি সেন্টারে শিক্ষণ প্রশিক্ষণ হয়। সেখানেই এর ব্যবস্থা করা হলে সকলেই উপকৃত হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement