স্বীকৃতি নেই, অবহেলার
চাদরে ঢাকা চকবলের আসর

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর — ইডেনের পাশেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। সেখানে ব্যানার, পোস্টার দিয়ে চলছে রাজ্য চকবল চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। কিন্তু স্টেডিয়ামের ভেতরে এই উৎসাহ থাকলেও বাইরে অনেকেই অত্যুৎসাহী দৃষ্টিতে তাকিয়ে চকবল কী এমন খেলা। পথচলতি মানুষের মনে প্রশ্ন, চকবলটা কী! কারাই বা খেলে। চকবলটা খেলাটি অনেকটা হ্যান্ডবলের মতো, পয়েন্ট সিস্টেমে খেলা হয়, তিন সেকেন্ডের বেশি হাতে বল রাখা যাবে না। ম্যাচে রেফারি থাকে, একজন মূল কোর্টে, আর দু’জন রেফারি থাকেন গোলের পিছনে। একটি দলে থাকে সাতজন খেলোয়াড়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ষষ্ঠ চকবল রাজ্য মিট চললেও, নেই কোনো প্রচার। ক্রমে রসাতলে তলিয়ে যাচ্ছে বাংলার অন্যতম খেলা চকবল। অলিম্পিকের শিলমোহর পায়নি, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতি এখনও অধরা। অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা আর্জি জানিয়েছেন বহুবার। তবে সাড়া মেলেনি। স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণ হিসেবে বিওএ-র তরফে অলিম্পিকের অজুহাত দেখানো হয়েছে। রাজ্য চকবল সংস্থার সচিব সুব্রত চক্রবর্তী জানান, এই খেলাকে অবলম্বন করেই বহু অ্যাথলিট সংসার চালান। যদি স্বীকৃতি না পাই, তা হলে এই খেলার অ্যাথলিটদের চাকরির সংস্থান হবে কী করে।

২০১২ সালে প্রথমবার বাংলার বুকে শুরু হয় চকবল খেলা। এখনও পর্যন্ত মোট দু’বার ফাইনাল এবং দু’বার সেমিফাইনালে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলার চকবল দল। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ট্রেন ভাড়া সহ খাবার খরচ দেওয়া হতো। কিন্তু এই সরকারের আমলে দেওয়া তো দূরের কথা। উলটে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার টাকা। প্রদীপের আলোর নিভু নিভু শিখার মতো অচিরেই হয়ে চলেছে রাজ্য চকবলের ফাইনাল প্রতিযোগিতা। ২দিন বাবদ প্রতিযোগিতার খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবু, বর্তমান সরকারের পক্ষে কোনো অর্থ সাহায্য মেলেনি। সব অর্থের জোগাড় ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায়।

এদিন রাজ্য আসরের শেষদিনে মহিলাদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন দল দার্জিলিং জেলা। রানার্স দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ২৯-২০ পয়েন্টে জয়ী দার্জিলিঙ। পুরুষদের খেলায় জয়ী উত্তর ২৪ পরগনা। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনাল ম্যাচে ৩৬-৩৩ পয়েন্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে পরাজিত করেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement