সিলিকোসিস-আক্রান্ত এলাকায়
মেডিক্যাল ক্যাম্প খোলার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর— সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিশিথা মাত্রে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিসন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়ে বলেছে মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলিতে পোর্টেবেল এক্স-রে মেশিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখতে হবে। মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, ক্যানিং, দেগঙ্গা, ভাঙড়,বারাসতে ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সিলিকোসিস অসুখ দেখা দিয়েছে। এখানকার দিনমজুর মানুষ ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এরাজ্যের জেলাগুলিতে পাথর খাদানে কাজ করতে গিয়ে সিলিকোসিস অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই অসুখে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত মানুষ এবং শান্তি গণতন্ত্র সংহতি মঞ্চ যখন কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে তখন মৃতের সংখ্যা ছিল ২৯ জন। মামলা চলাকালীন সময়ে আরও ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্যের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে এলেও রাজ্য সরকারের তরফে এখনও তেমন কোনও সাহায্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে জাতীয় মানাবাধিকার কমিশন এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মৃতের পরিবারগুলিকে চার লক্ষ করে টাকা সাহায্য করার সুপারিশ করেছে। রাজ্য সরকার এই সুপারিশ কার্যকর করেনি।

আবেদনকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, এখনও ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩৫০জন মানুষ এই অসুখে আক্রান্ত। এই আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন। বুধবার আদালত বলেছে আক্রান্ত ব্লকগুলির স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং মেডিক্যাল ক্যাম্প গুলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখতে হবে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে পাথর ভাঙার কোম্পানিগুলি সম্পূর্ন বেআইনি ভাবে শ্রমিকদের কাজ করাচ্ছে। অধিকাংশ পাথর খাদানে বৈধ লাইসেন্স নেই। শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও খাদান মালিকরা উদাসীন থাকেন। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে যে সমস্ত গরিব মানুষ পাথর খাদানে কাজ করতে যান তারা এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সামিম আহমেদ।