চাকমা, হাজংদের
নাগরিকত্ব শীঘ্রই
জানালো কেন্দ্র

সংবাদসংস্থা

নয়াদিল্লি, ১৩ই সেপ্টেম্বর — সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের শীঘ্রই নাগরিকত্ব দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার এখানে সরকারিসূত্রে এখবর জানানো হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ দশক আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে চাকমা ও হাজং শরণার্থীরা ভারতে এসেছিলেন। সংখ্যায় এখন তাঁরা প্রায় এক লক্ষ। বেশিরভাগই বসবাস করেন উত্তর-পুর্ব ভারতে, মূলত অরুণাচল প্রদেশে। চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব মঞ্জুরের জন্য ২০১৫সালেই নির্দেশ জারি করেছিল সর্বোচ্চ আদালত।

সরকারিসূত্রে জানানো হয়েছে, এদিন নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একজন মুখপাত্র এদিন সাংবাদিকদের জানান, ‘চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ নিয়ে এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করবো আমরা।’

প্রসঙ্গত, অরুণাচলের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাজ্যের জনবিন্যাস পুরোপুরি বদলে যাবে। জানা গেছে, এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি মধ্যপন্থা নিতে চাইছে, যেখানে চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও তাঁদের বিশেষ কিছু অধিকার দেওয়া হবে না। যেমন, অরুণাচলের আদিবাসীরা জমির মালিকানার যে অধিকার ভোগ করে থাকেন, তা পাবেন না চাকমা ও হাজং শরণার্থীরা। তবে কাজ এবং যাতায়াতের জন্য যে ইনার লাইন পারমিট অরুণাচলের অস্থানীয়রা পেয়ে থাকেন, তা দেওয়া হবে চাকমা ও হাজং শরণার্থীদের।

চাকমা ও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষ আদতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা। ছয়ের দশকে কাপ্তাই বাঁধ প্রকল্পের কারণে তাঁদের বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় তাঁরা দেশান্তরী হতে বাধ্য হন। ধর্মীয় পরিচয়ের দিক থেকে চাকমারা বৌদ্ধ। হাজংরা হিন্দু। সরকারি সূত্রের হিসাব, ১৯৬৪-৬৯সাল নাগাদ সংখ্যায় এঁরা ছিলেন মোটামুটি ৫হাজার। বর্তমানে এঁদের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ। এঁদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়ার আদেশের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে অরুণাচল প্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার নতুন করে বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে।