‘জন একতা জন অধিকার আন্দোলন’
গড়ে তুলতে ১৮ই কনভেনশন দিল্লিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১৩ই সেপ্টেম্বর— ‘জন একতা জন অধিকার আন্দোলন’ গড়ে তোলার জন্য ১৮ই সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ওইদিন মবলঙ্কর হলে এই কনভেনশনে বিভিন্ন গণ, শ্রেণি এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, ছাত্র, যুব, মহিলা, কর্মচারী, আদিবাসী, দলিত সংখ্যালঘু, সামাজিকভাবে শোষিত অন্যান্য অংশ, লেখক, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বুদ্ধিজীবী, ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল ব্যক্তি থাকবেন কনভেনশনে। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন বামপন্থী গণসংগঠনের এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন হান্নান মোল্লা, অমরজিৎ কাউর, কে হেমলতা, অতুলকুমার আঞ্জান, রাজীব দিমরি, সত্যভান, মনোজ ভট্টাচার্য, ড. সুনীলম, অনিল চৌধুরি, নিখিল দে, মারিয়ম ধাওয়ালে, অ্যানি রাজা, কবিতা কৃষ্ণাণ, তিরুমালাই, বিক্রম সিং, গৌতম মোদী, কে মধুরেশ কুমার, রোমা মালিক, পি কৃষ্ণপ্রসাদ প্রমুখ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বি জে পি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেটমুখী, কর্তৃত্ববাদী নীতির কারণে সমস্ত অংশের মানুষ যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে। নিজেদের ভূল নীতির কারণেই এই সরকারের চরিত্র সকলের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে নোটবাতিলের বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। ২০১৬সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে জি ডি পি ৭.৯শতাংশ ছিল। যা চলতি বছরের ওই একই সময়ে ৫.৭শতাংশে নেমে এসেছে। পেট্রোল-ডিজেলের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। যার ফলে শ্রমজীবী মানুষের ঘাড়ে আরও অসহনীয় বোঝা চাপছে। জি সি টি চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষুদ্র উৎপাদনের যে সংকট তৈরি হবে তা নতুন করে অর্থনীতিতে স্থবিরতা তৈরি হবে।

কর্পোরেটের মুনাফার জন্য কৃষি থেকে রেল, এমনকি প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও ১০০শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক এবং কৃষকরা খাদের কিনারে গিয়ে পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তারই পরিণতি হিসেবে মন্দসৌরের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে কৃষক বিক্ষোভ গুলি চালিয়ে ৬জন কৃষককে হত্যা করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানেরও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র কৃষক বিক্ষোভ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বেসরকারীকরণ এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ভয়ংকর প্রভাব পড়ছে সমাজের সবক্ষেত্রে।

আর এস এস- বি জে পি-র নেতৃত্বে দক্ষিণপন্থী কর্তৃত্ববাদী শক্তি ঘৃণার প্রচার তুঙ্গে তুলেছে। ঘৃণা ছড়ানোর প্রচার এবং পিটিয়ে খুন করার ঘটনার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নয়া উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নীতিগুলির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে বিপথে চালিত করার জন্য। গৌরী লঙ্কেশের হত্যার ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জীবনের অধিকারের মতো বিষয়কে গুরুতর হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আদালত গোপনীয়তার অধিকার, গবাদি পশু বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা, রাম রহিমের শাস্তি – সাম্প্রতিক এই বিষয়গুলিতে বিচারবিভাগ যেভাবে জোরালো অবস্থান নিয়েছে তা সদর্থক। একইসঙ্গে তা মোদী সরকারের কর্তৃত্ববাদী এবং বিভাজনের নীতিকেই স্পষ্ট করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল শক্তির ব্যাপকতর ঐক্য গড়ে তুলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ইস্যূভিত্তিক সংগ্রামে যুক্ত করাই এই সময়ের প্রয়োজনীয়তা। এই অবস্থায় বাম এবং গণতান্ত্রিক গণ, শ্রেণী এবং সামাজিক সংগঠনগুলিকে হাতে হাত মিলিয়ে সংযুক্ত মঞ্চ ‘জন একতা জন অধিকার আন্দোলন’ (জে এ এন ই জে এ এ)-এর মাধ্যমে ইস্যূভিত্তিক আন্দোলনকে তীব্র করতে হবে। ১৮ই সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির মবলঙ্কার হলে সর্বভারতীয় কনভেনশন হবে। কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক স্থানীয় সংগঠন একজোট হবে। চলতি রাজৈনতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কনভেনশনে। দাবিপত্র এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির যুক্ত মঞ্চের আহ্বানে নভেম্বরের ৯থেকে ১১ই সংসদের সামনে ধরনার ডাক দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০শে নভেম্বর সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচিকে সমর্থন জানাবে ‘জন একতা জন অধিকার আন্দোলন’।