দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও হার
বি জে পি-র ছাত্র সংগঠনের

সংবাদসংস্থা

নয়াদিল্লি, ১৩ই সেপ্টেম্বর — জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডি ইউ এস ইউ) নির্বাচনেও বড়সড় ধাক্কা খেলো আর এস এস-র ছাত্র সংগঠন এ ভি বি পি। টানা চার বছর পরে এবারই প্রথম ছাত্র সংসদের সভাপতি ও সহসভাপতি পদ তাদের হাতছাড়া হলো। দুটি প্রধান পদেই জয় হয়েছেন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এন এস ইউ আই-র প্রার্থীরা। দলের ছাত্র সংগঠনের এই জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী।

তবে, যুগ্ম সম্পাদক পদে গণনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এন এস ইউ আই-র নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রসংসদের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বি জে পি-র সভাপতি অমিত শাহ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়েছেন। এর বিরুদ্ধ আদালতেও তারা যাবে বলে বুধবার জানিয়েছেন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে থাকা নেতা গিরিশ চোড়ানকার জানিয়েছেন, ভোট গণনার শেষে ডি ইউ এস ইউ-র সভাপতি, সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়ী হন এন এস ইউ আই-র প্রার্থীরা। কিন্তু পরে তা বাতিল করে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে এ বি ভি পি প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হয়। ভোট গণনায় কারচুপি করতে গণনাকেন্দ্রের মধ্যে এ ভি বি পি-র নেতারা ঢুকে ছিলেন বলে এদিন অভিযোগ করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন কমিটির কাছে পুনর্গণনার দাবি জানালেও তারা তা নাকচ করে দেয়। নির্বাচনের এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা গিরিশ চোড়ানকার। তবে, কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠনের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস বি বব্বর। তাঁর দাবি কোনও নির্বাচনে কোনও ফাঁকফোঁকর ছিলো না। একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভোটযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। গণনা কেন্দ্রে এ ভি বি পি বা অন্য কোনও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলো না বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস বি বব্বর।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বরবারই আর এস এস-র ছাত্র সংগঠনে এ বি ভি পি-র শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। ২০১৩সাল থেকে টানা ৪বছর ডি ইউ এস ইউ-র সভাপতি ও সহসভাপতি পদ এ বি ভি পি-র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয়তাবাদ ও মুক্ত চিন্তা নিয়ে জোরালো বিতর্ক তৈরি হয় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচনে ছাত্রছাত্রীরা মুক্ত চিন্তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপিয়ে দেওয়া জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখান করেছেন বলে মত অভিজ্ঞ মহলের।

এদিনের ফলাফলে ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে এন এস ইউ আই-র রকি তুশীদের কাছে ১, ৫৯০ভোটে পরাজিত হয়েছেন এ বি ভি পি-র প্রার্থী রজত চৌধুরি। সহসভাপতি পদেও জয়ী হয়েছেন এন এস ইউ আই-র কুনাল শেরওয়াত। এই আসনে এ বি ভি পি-র প্রার্থী পার্থ রানা ১৭৫ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তবে, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন এ বি ভি পি-র প্রার্থী মহামেধা নাগর এবং উমা শংকর। তাঁরা যথাক্রমে ২, ৬২৪ ও ৩৪২ভোটে জয়ী হয়েছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement