রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য
চেয়ে আবেদন রাষ্ট্রসঙ্ঘের

সংবাদসংস্থা

ওয়াশিংটন, ১৩ই সেপ্টেম্বর— রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানাল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। বুধবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন সংস্থার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক। বার্মার রাখাইনে সামরিক অভিযানে বিপন্ন রোহিঙ্গারা। সেনার হামলার ভয়ে রাখাইন ছাড়ছেন মানুষ। শরণার্থীদের সিংহভাগই বাংলাদেশে আসতে মরিয়া। প্রায় ৪লক্ষ অভিবাসী মানুষ চরম সংকটে।

এদিন আঞ্চলিক দেশগুলির রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকরা দুজারিককের কাছে জানতে চান। ভারতসহ আঞ্চলিক দেশগুলির রোহিঙ্গা মানুষের পাশে থাকা না থাকা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। বিশেষত, নয়াদিল্লি যখন নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণের ভিত্তিতেই বিপন্ন মানুষের সমর্থনে এগিয়ে আসেনি। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রসঙ্ঘ কি হতাশ? তাঁদের পরিকল্পনার কথাও জানতে চান সাংবাদিকরা।

উত্তরে দুজারিক জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থা প্রায় ৩ লক্ষ রোহিঙ্গা মানুষের জরুরি ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু শরণার্থী মানুষের সংখ্যা এখন আরও বেশি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য চেয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বার্মার রাখাইন রাজ্যের রাথেদাউঙ শহরে ছড়িয়ে পড়া হিংসা, বাড়ি বাড়ি আগুন লাগানো, হাজারো মানুষের পালিয়ে যাওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে ত্রাণ সংস্থার থেকে নজর রাখা হচ্ছে। এর জেরে রাখাইনের উত্তর অংশে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার কাজ বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য ত্রাণ সাহায্যের চেষ্টা জারি আছে। তবে তার জন্য সরকার অথবা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস সংস্থা সাহায্য করছে। রাখাইনে সাম্প্রদায়িক হিংসায় প্রভাবিত সব গোষ্ঠীর মানুষের কাছে সাহায্য এবং কাজের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। দুজারিক বলেন, ‘রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা বর্তমানে ওই দেশে যত বেশি সম্ভব সাহায্য যত দ্রুত সম্ভব পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এখনও আমরা যত মানুষের কাছে যাওয়া প্রয়োজন ছিল তা পারিনি’। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় সামগ্রী স্লিপিং ম্যাট, অস্থায়ী আবাসন তৈরির দ্রব্য বিমানে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর ত্রাণ সামগ্রী ট্রাকে তোলা হয়েছে। খুব দ্রুত তা কক্স বাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে। ‘আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ সীমান্ত পেরিয়ে বহু শরণার্থী চলে যাওয়া। তাঁরা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। এর ফলে তাদের কাছে আমাদের যেতে হবে’, জানান দুজারিক। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউ এ ই)’র দান করা বিমানে শরণার্থীদের জন্য ২ হাজার তাঁবু বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এপর্যন্ত আসা ত্রাণ সামগ্রীর সাহায্যে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের সাময়িক ব্যবস্থা করা হবে। আরও কয়েক দফায় বিমানে ত্রাণ পাঠানো চলবে। এভাবে প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার মানুষের ত্রাণের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে।

বাংলাদেশে আগত অভুক্ত এবং অপুষ্টিতে ভোগা শরণার্থী বিশেষত মহিলা ও শিশুদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউ এফ পি)। কক্স বাজারে ৭০ হাজার এবং সংলগ্ন অঞ্চলে আগত প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থীর খাদ্যের সরবরাহ করে চলেছে ডব্লিউ এফ পি।

এদিকে নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত খবর অনুসারে, জম্মুতে বসবাসকারী প্রায় ৭,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের মধ্যে একজনও সন্ত্রাসবাদী নেই বলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনে জানানো হয়েছে। মহম্মদ ইউনুসের আবেদনে জম্মুর ২৩ টি অস্থায়ী কেন্দ্রের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা রয়েছেন তা শীর্ষ আদালতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কেন্দ্র তৎপরতা শুরু করে। এর জের আদালত পর্যন্ত গড়ায়। রোহিঙ্গারা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপদ এবং তাঁদের অবিলম্বে বার্মায় ফেরত পাঠানো উচিত জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি একটি আবেদনও জমা পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চ এবিষয়ে কেন্দ্রের কাছে অবস্থান জানতে চায়। আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি। ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে উল্লেখিত ৭,০০০ রোহিঙ্গা মানুষের কোন সম্পর্ক নেই’, আদালতে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর পক্ষে সওয়াল করে বলেন আইনজীবী কলিন গনসালভেস।