প্রাপ্য বকেয়া চেয়ে পৌরমন্ত্রীর
কাছে শিলিগুড়ির মেয়র

নিজস্ব প্রতিনিধি

Image

+

কলকাতা, ১১ই অক্টোবর— চার মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্যে এসে গেছে ১২কোটি টাকা। এই টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের আরও ১৬কোটি টাকা যোগ হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ২৮কোটি টাকা প্রাপ্য শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের। কিন্তু চলতি মাসেও ‘হাউজিং ফর অল’ প্রকল্পের প্রাপ্য টাকা হাতে পায়নি শিলিগুড়ি কর্পোরেশন। রাজ্য সরকারের চরম বৈষম্যের নীতিতে বিপন্ন হচ্ছে শিলিগুড়ি শহরের গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির প্রকল্প।

‘হাউজিং ফর অল’ শুধু একটা প্রকল্পই নয়। গত দেড়-দু বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্প খাতের প্রায় ১২০০কোটি টাকা পাওনা শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের। রাজ্যের কাছে পরিকল্পনা খাতে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের বকেয়া প্রায় ২৫০কোটি টাকা। বঞ্চনা এখানেই থেমে নেই। ডেঙ্গুর মতো মহামারী ঠেকাতে গত আর্থিক বছরের শেষ মাস মার্চে ৩৫লক্ষ টাকা হাতে এসেছিল শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের। তারপর থেকে চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত এক টাকাও পায়নি শিলিগুড়ি।

কেন এই বঞ্চনা তা জানতে এদিন মেয়র পরিষদ সদস্য, বরো চেয়ারম্যান সহ ৬জনের একটা প্রতিনিধি দল নিয়ে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। মহাকরণে পৌরমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজ্যের সব পৌরসভা বাজেটের বরাদ্দের টাকা পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পাচ্ছে। শুধু বাদ দেওয়া হচ্ছে শিলিগুড়িকে। আমাদের অপরাধ কী বামপন্থী বলে। আমরা তো মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জবরদখল করে ক্ষমতায় বসিনি।’

শিলিগুড়ির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে রাজ্য সরকারের কাছে বকেয়া টাকা চেয়ে দরবার করা হয়েছে। পৌরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রাপ্য দাবি করা হয়েছে। বিধানসভায় প্রাপ্য চেয়ে সোচ্চার হতে হয়েছে। কিন্তু টাকা মেলেনি। পৌর দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা হলো, টাকা দেওয়ার নির্দেশ নেই। শিলিগুড়ির মেয়রের ক্ষোভ, ‘সাংবিধানিকভাবে এই টাকা আমাদের প্রাপ্য। আমরা কোনও দয়ার দান চাইছি না। এই যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। দরবার করছেন, রাজ্যের প্রাপ্য চেয়ে দাবি করছেন। এখানে আমাদেরও সেই একই দাবি করতে হচ্ছে।’

এদিনই সেই প্রাপ্য আদায় করতেই পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন মেয়র সহ শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকেই পৌরমন্ত্রী বলেন, ‘শিলিগুড়ির বকেয়া প্রাপ্য টাকার জন্য অর্থ দপ্তরে কাছে ফাইল পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকে ছাড়পত্র আসলেই মিলবে টাকা।’ ঘটনা হলো, রাজ্যের বর্তমান পৌরমন্ত্রীর জানা নেই শিলিগুড়ির বর্তমান মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০বছর পৌর দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। এদিন পৌরমন্ত্রী অর্থ দপ্তরের দিকে বিষয়টি ঠেলে দেওয়ামাত্রই মেয়র তাঁকে তথ্য দিয়ে জানিয়ে দেন, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কালে অর্থ দপ্তর রাজ্যের কতগুলি পৌরসভাকে টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছে। আর সেখানেও বাদ শুধু শিলিগুড়ি। কার্যত এরপর বৈঠকে পৌরমন্ত্রী আর কিছু বলতে পারেননি। তবে তিনি আগামীদিনে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন।

অশোক ভট্টচার্য বলেন, ‘এরপর আর হয়তো টাকা চেয়ে মন্ত্রীদের দ্বারস্থ হবো না। কারণ, আমরা শহরের সাজসজ্জার জন্য কোনও টাকা চাইতে আসিনি। আমাদের রাস্তা মেরামতি, পানীয় জল সরবরাহ সহ সাধারণ নাগরিক পরিষেবাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রাপ্য টাকা চাইছি।’’

রাজ্য সরকার যদি এরপরও প্রাপ্য টাকা না দেয় তাহলে আইনের পথে যাওয়ার কথা ভাবছে শিলিগুড়ি কর্পোরেশন। একইসঙ্গে কলকাতায় এসে মন্ত্রীর দপ্তরের সামনে অনশনে বসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মেয়র।

এদিন অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন চেয়ারম্যান দিলীপ সিং, মেয়র পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম, পরিমল মিত্র, জয় চক্রবর্তী, মুকুল সেনগুপ্ত ও বরো চেয়ারম্যান স্নিগ্ধা হাজরা প্রমুখ।

Featured Posts

Advertisement