হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প আলোচনায়
কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন বোমারু বিমান

Image

+

ওয়াশিংটন ও সিওল, ১১ই অক্টোবর— গণতান্ত্রিক কোরিয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সামরিক কর্তাদের আলোচনার মধ্যেই কোরীয় আকাশে উড়লো মার্কিন বোমারু বিমান। দুটি মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান মঙ্গলবার রাতে উড়েছে কোরীয় উপদ্বীপের উপর দিয়ে, যা গণতান্ত্রিক কোরিয়ার বিরুদ্ধে একরকম শক্তি প্রদর্শন। বুধবার বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ। গুয়ামের সামরিক ঘাঁটি থেকে দু’টি মার্কিন বি ওয়ান-বি বোমারু বিমান ওড়ার সময় তাতে যোগ দেয় দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি এফ-ফিফটিন যুদ্ধ বিমান। কোরীয় আকাশসীমায় ঢোকার পর মার্কিন বিমান দুটি দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে ‘আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানতে সক্ষম’ এমন মহড়ায় অংশ নেয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের জলসীমার উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে মহড়ায় যোগ দেয়। বিমান দুটি এরপর জাপানি যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও পৃথক এক মহড়ায় অংশ নেয় বলে আলাদা বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সপ্তাহতিনেক আগেই, সেপ্টেম্বরে তেইশের রাতে গণতান্ত্রিক কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমার উপর দিয়ে উড়ে গিয়েছিল মার্কিন বি ওয়ান-বি বোমারু বিমান।

ইতিমধ্যেই, গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরে এসে ভিড়েছে পারমাণিক ক্ষমতাসম্পন্ন মার্কিন সাবমেরিন। ভারত-এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্যই এটি এসে পৌছছে চলতি মাসের ৭ তারিখ।

গণতান্ত্রিক কোরিয়া নিয়ে মঙ্গলবারই শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প। তাতে ছিলেন প্রতিরক্ষাসচিব জেমস ম্যাটিস এবং মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড। আলোচনায় ম্যাটিস এবং ড্যানফোর্ড গণতান্ত্রিক কোরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশদে জানান ট্রাম্প এবং জাতীয় নিরাপত্তা টিমকে।

ফেব্রুয়ারি থেকে গণতান্ত্রিক কোরিয়া ১৫বার বাইশটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। পালটা ওয়াশিংটনও সুর চড়িয়েছে। ট্রাম্প এরমধ্যেই বলেছেন, গণতান্ত্রিক কোরিয়া নিয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ কোনও কাজ করেনি। ‘পঁচিশ বছর ধরে রাষ্ট্রপতিরা শুধু কথা বলে চলেছেন গণতান্ত্রিক কোরিয়ার সঙ্গে। চুক্তি হয়েছে, প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে। কিন্তু এতে কাজের কাজ কোনও হয়নি, কালি শুকনোর আগেই হয়েছে চুক্তি লঙ্ঘন, বোকা বানানো হয়েছে মার্কিন সমঝোতাকারীদের। দুঃখের সঙ্গেই বলি, একটি জিনিসই কাজ করবে।’ এভাবেই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি।

চীন বলছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে থামানো যাবে না। পিয়ঙইয়ঙ ও ওয়াশিংটনকে তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ছেড়ে বসতে হবে আলোচনায়। গ্লোবাল টাইমস পত্রিকায় মঙ্গলবারের সম্পাদকীয়তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে ‘যুদ্ধের বিপদ’ সম্পর্কে সতর্কও করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নেবে না। সময় নেওয়ার সঙ্গেই পারমাণবিক কর্মসূচি ছেড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগী হওয়া উচিত পিয়ঙইয়ঙের। যুদ্ধ কোরীয় উপদ্বীপ এবং তার আশপাশের অঞ্চলে দুঃস্বপ্ন ডেকে আনবে। শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।

Featured Posts

Advertisement