গিনি ম্যাচ উতরে
যাওয়াই চ্যালেঞ্জ জার্মানির

Image

+

কোচি, ১১ই অক্টোবর— কোচি বিমানবন্দরে তখন সন্ধ্যা নামছে। গাড়ির হর্ন ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই। ক্যামেরার ঝলকানি নেই। বরণ করার জন্যও কেউ নেই। নিঃশব্দে বিমানবন্দর ছাড়লো কতগুলো কচি মুখ। মুখে কোনও হাসি নেই। চাকা লাগানো ট্রলি ঠেলে এগিয়ে গেলেন। পর্দা ঢাকা বাসের আড়ালে শরীর এলিয়ে দিলেন অনেকেই।

চব্বিশ ঘণ্টা আগের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি জার্মানি। গ্রুপ সি-র ফেভারিট ক্রিশ্চিয়ান উকের দল। মারগাওয়ের ফাতোরদা স্টেডিয়ামে সেই তকমাই কেড়ে নিয়েছে ইরান। ৪-০তে বিধ্বস্ত করেছে জার্মানিকে। সেই হারের গ্লানি ছড়িয়ে একদল কিশোরের চোখেমুখে। অথচ ম্যাচের একদিন আগেও কত খোলামেলা ছিল এরাই। গোয়ার একটি অনাথ আশ্রমে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন। হাতে আঁকা ছবি উপহার নিয়ে হাসি মুখে ফেরেন। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই সব পালটে যায়। সেই হাসি মিলিয়ে যায়। গোয়ায় শান্তি নীড় থেকে ফিরে পরাজয়ের অশান্তিতে কিশোর ফুটবলাররা।

কোচিতে গিনির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচ জিততে না পারলে ছিটকে যাওয়া পাকা। আর এই সবই হয়েছে ইরানের কাছে হারের ফলে। ইরানের সঙ্গে কোনওভাবেই পেরে ওঠেনি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উত্তরসূরিরা। সেই বিস্ময় লেগে উলফসবার্গের প্রাক্তন ফুটবলার তথা জার্মানি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ক্রিশ্চিয়ান উকের গলাতেও। জানিয়েছেন, ‘ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার ফুটবলাররা ওদের স্বাভাবিক খেলা খেলতেই পারলো না। আর ইরান যেমন আগ্রাসী, তেমনই শক্তিশালী ও গতিশীল। ইরানকে সম্মান করতেই হবে।’

প্রথম ম্যাচের প্রত্যাশিত জয়ই আত্মতুষ্টি এনে দিয়েছিল? নাকি গোয়ার গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি ফুটবলাররা? হারের কোনও অজুহাত দিতে রাজি নন উক। ‘হারের মধ্যে এই সব উপাদান যে রয়েছে তা স্বীকার করতেই হবে। তবে ইরান যেমন ভালো খেলেছে তেমনই আমরা আমাদের মতো খেলতে পারিনি’ জানিয়েছেন জার্মান কোচ। জার্মান দলে যান ফিয়েতে আর্পের মতো তারকা ফুটবলার থাকলেও, একক নির্ভরতা ছিল না। পুরো দলই চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানের ফুটবলারদের সঙ্গে শারীরিকভাবে জুঝে উঠতে পারেনি। উকের কথায়, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম যে ইরান শক্তিশালী দল। তাই শারীরিকভাবে সক্ষম ফুটবলারদের খেলাতে চেয়েছিলাম আমরাও। শুধু গোলরক্ষক নয়, পুরো দলের কেউই ওদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।’

সামনেই গিনি ম্যাচ। জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেছে ইরান। গিনির থেকে তিন পয়েন্ট পেলে সরাসরি নক আউটে পৌঁছে যাবে জার্মানি। এক পয়েন্ট পেলে অঙ্কের উপর নির্ভর করতে হবে। তাই ফুটবলারদের উপর এই হারের কোনও নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন উক। জানিয়েছেন, ‘ফুটবলারদের আগেও বহুবার বলেছি যে, খেলোয়াড়ী জীবনে হয়তো এরকম অনেক ধাক্কা সহ্য করতে হবে। এটাও তার মধ্যে একটা। গিনির বিরুদ্ধে আমাদের আরও প্রবলভাবে ফিরে আসতে হবে। পরের রাউন্ডে যেতে হলে আমাদের এই কাজটা এক সঙ্গে করতেই হবে।’

Featured Posts

Advertisement