সাম্বাময় ভারতীয় দল
প্রেরণা খুঁজছে মেসিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১১ই অক্টোবর- যুব বিশ্বকাপে এই ভারতীয় দলকে যদি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে হতো! কি হতো বলা মুশকিল। ব্রাজিল শক্তিশালী দল বা ভারত দুর্বল, এর জন্য নয়। বিষয়টা আবেগের। ভারতের এই যুব দলটাই যেন ‘মিনি ব্রাজিল’। তালিকাটা দেখলেই পরিষ্কার হওয়া যবে? ধীরাজ সিং, সঞ্জীব স্ট্যালিন, জিকসন সিং, অমরজিৎ সিং, অভিজিৎ সরকার, রহিম আলি, কোমল থাটাল, অনিকেত যাদব। ভারতের পুরো দলটাই প্রায় ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত। আর্জেন্টিনা ভক্ত হাতে গোনা দুজন। আনোয়ার আলি এবং বরিস সিং। তাই প্রিয় দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে বোধহয় স্বপ্নের ঘোর থেকেই বেরোতে পারতেন না ভারতীয় ফুটবলাররা।

ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোরে গোটা বিশ্ব দেখেছে, কি করে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হয়। খাদের কিনারা থেকে কিভাবে গোটা দলকে তুলে আনতে হয়। একার কাঁধে। একার জাদুতে। জাদুকরের নাম লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের যোগ্যতানির্ধারণী পর্বের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করেছে আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। হাজারো আশঙ্কা জমাট বেঁধেছিল বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উর্ধ্বে উঠে ফুটবল সমর্থকরা চাইছিলেন জিতে যাক আর্জেন্টিনা। জিতে যাক ফুটবল। মেসি ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপ যে ভাবাই যায় না। ‘ব্রাজিলীয়’ ভারতীয় দলের মাত্র দুজন ভোরবেলা উঠে ম্যাচ দেখেছেন। সঞ্জীব স্ট্যালিন এবং সুরেশ সিং। তবে জিকসনরা যেন ঘানার বিরুদ্ধে নামার আগে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন ‘শত্রু শিবির’-এর মহাতারকাতেই। ইকুয়েডরের কুইটোতে ম্যাচ খেলা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০হাজার ফুট উচুতে। যেখানে অক্সিজেন নেওয়াই দুষ্কর। এরকম একটা জায়গায় নিজের পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বে যেন অক্সিজেনের জোগান দিলেন মেসি।

‘আমি কিন্তু ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের কোনও খেলা মিস করি না। তবে আজ ভোরবেলা অ্যালার্ম দিয়ে উঠে পড়েছিলাম। ওঠা সার্থক। মন থেকে চাইছিলাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে খেলুক। আজ মেসির লড়াই থেকে শুধু ফুটবলারদের নয়, সবার অনেক কিছু শেখার আছে’ বলছিলেন সঞ্জীব স্ট্যালিন। ম্যাচ দেখা সুরেশও বলছেন, ‘দুরন্ত একটা ম্যাচ দেখলাম’। বাংলার অভিজিৎ সরকার বিশ্ব ফুটবল বলতে ব্রাজিলই বোঝেন। ‘আমার ইচ্ছা ছিলো খেলাটা দেখার। কিন্তু ভোরবেলা উঠতে পারিনি। ব্রাজিল সমর্থক হলেও, কেউ মেসির শত্রু হতে পারে না’ বলছিলেন অভিজিৎ। জিকসনও ম্যাচ দেখতে পারেননি, পরে ভিডিও দেখেছেন। প্রিয় দল বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করায় দারুণ খুশি আনোয়ার, বরিসরা। যুব বিশ্বকাপে দুরন্ত খেলা আনোয়ার বলছিলেন, ‘আমি জানতাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে যাবেই। তবে টেনশন তো ছিলোই। এই ম্যাচটা কিন্তু লড়াইয়ের প্রেরণা দিল।’

Featured Posts

Advertisement